নতুন প্রজন্মের জনপ্রিয় গায়ক তাশরীফ খান সংগীতচর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। প্রায়ই তার সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনাতমূলক পরামর্শ দেন। এবার তিনি রাজধানীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু কথা বলেছেন।
তাশরীফ খান আজ (৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ট্রাফিক সচেতনতা নিয়ে একটি তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এতে তাশরীফ লিখেছেন, ‘ঢাকায় বাসগুলোর বেপরোয়া চলাচল আর রাস্তা আটকে দিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় যে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয় তা সরকার বা ট্রাফিকের কথায় এভাবে কন্ট্রোল হবে বলে মনে হচ্ছে না। রঙ পাল্টে রুট পাল্টে কিংবা লাইসেন্স নিয়ে নিলেও এরা ধর্মঘট করে বসে। আবার কতো জায়গায় সিসি টিভি লাগাবেন আর কতো জায়গায়ই বা ট্রাফিক মোতায়ন করতে পারবেন? পরামর্শ হলো একটা ওয়েবসাইট ওপেন করেন এবং অপরাধের মাত্রা বুঝে কিছু টাকা জরিমানা নির্ধারণ করতে পারেন। ওয়েবসাইটে ছবি কিংবা ভিডিওসহ অভিযোগ প্রদান করার ব্যবস্থা রাখেন।’
তাশরীফ আরও লেখেন, ‘আপনারা জানেন ট্রাফিকের সামনে তো এরা বেপরোয়া ভাব দেখায় আর যারা বাধ্য হয়ে ট্রাফিক মানে তারা একটু সামনে গিয়ে বা ট্রাফিক না থাকলে সেইম কাজটাই করে। কিন্তু এই ছবি ভিডিওসহ অভিযোগ করার ব্যবস্থা থাকলে প্রতিটা জনগণ আমরা যেখানেই এরকম বেপরোয়া কাণ্ড দেখবো সেখানেই ছবি তুলে কমপ্লেইন করতে পারব।’
গাড়ি চালকদের নিয়ন্ত্রণে আনা প্রসঙ্গে বলেন, ‘মূল গেইমটা হচ্ছে জরিমানা আপনি বাসের ড্রাইভার এর থেকে নিবেন না, নিবেন ওই বাস মালিক কিংবা ওই বাসের কোম্পানি থেকে। ট্রাস্ট মি এই ড্রাইভার আর হেলপাররা পুলিশ কিংবা সরকার না মানলেও মালিকের কথা মানতে বাধ্য, না হয় ওরা চাকরি হারাবে। এভাবে প্রতিদিন যখন নির্দিষ্ট বাসের কোম্পানি দেখবে যে তার ড্রাইভারের ভুলের জন্য কোম্পানির ব্যবসার চেয়ে জরিমানা বেশি গুনতে হচ্ছে তখন সে তার চালকদের চরম টাইট দিতে বাধ্য। চলমান সরকার এই প্রসেস শুরু করলে ওরা যেমন সরাসরি আন্দোলন করতে পারবে না কারণ ওদের ভুলের জন্যই ওদের খেসারত দিতে হবে, ঠিক তেমনি যেখানে ট্রাফিকের অবর্তমানে আমরা জনগণও ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ভুলগুলোর অভিযোগ দিয়ে সরকারকে সাহায্য করতে পারব।’
- আরও পড়ুন:
- ধর্ষকদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণার দাবি তাসরিফের
- সুলতানী আমলের রীতিতে ঈদ মিছিলে অংশ নেবেন তাশরীফ, দিলেন দাওয়াত
তাশরীফ দেশের ভবিষ্যতে ট্রাফিক ব্যবস্থার প্রত্যাশা নিয়ে লেখেন, ‘দেশ কবে বিদেশ হবে জানি না, কবে কোন পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাফিক সমস্যার সমাধান হবে জানি না তবে এই পন্থা অবলম্বন করলে কিছুটা হলেও অনিয়ম আর জনগণের দুর্ভোগ কমবে বলে আমি বিশ্বাস করি। শেষে বলবো শুধু বাসের জন্য নয়, সমস্ত ব্যক্তিগত, সরকারি এবং বেসরকারি সব রকমের পরিবহনের জন্য এই আইডিয়া কার্যকর করতে পারলে এর সুফল আমরা শিগগির দেখতে পাব ইনশাআল্লাহ।’
এমএমএফ/এএসএম