ঢাকার সুবিধাবঞ্চিত ৬ লাখ ৫৫ হাজার মানুষ পেলো প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা

  ঢাকায় বসবাসরত সুবিধাবঞ্চিত নগর জনগোষ্ঠীর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার (এসআরএইচআর) নিশ্চিতকরণে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘ইমপ্রুভিং এসআরএইচআর ইন ঢাকা’ প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় ঢাকার ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৮৪৩ জন সরাসরি এসআরএইচআর সংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন। এছাড়া প্রায় ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪৮ জন নারী, কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীর কাছে পৌঁছানো হয়েছে এই বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য ও অর্জন তুলে ধরা হয়। ‘অ্যাডভান্সিং আরবান এসআরএইচআর: পার্টনারশিপ, ইনোভেশন অ্যান্ড প্র্যাকটিস’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রকল্পের বিভিন্ন সাফল্যের দিকগুলো আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক ডা. জিয়াউল আহসান জানান, প্রকল্পটি ২০২১ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছে। এর আওতায় ১৬৫টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে (রেফারেল হাসপাতাল, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তৈরি পোশাক কারখানার স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সাধারণ চিকিৎসকের চেম্বার) সক্ষম করে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি ৭৬৬ জন স্বাস্থ্যসেবাদাতাকে বিশেষ

ঢাকার সুবিধাবঞ্চিত ৬ লাখ ৫৫ হাজার মানুষ পেলো প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা

 

ঢাকায় বসবাসরত সুবিধাবঞ্চিত নগর জনগোষ্ঠীর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার (এসআরএইচআর) নিশ্চিতকরণে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘ইমপ্রুভিং এসআরএইচআর ইন ঢাকা’ প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্পটির আওতায় ঢাকার ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৮৪৩ জন সরাসরি এসআরএইচআর সংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন। এছাড়া প্রায় ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪৮ জন নারী, কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীর কাছে পৌঁছানো হয়েছে এই বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য ও অর্জন তুলে ধরা হয়। ‘অ্যাডভান্সিং আরবান এসআরএইচআর: পার্টনারশিপ, ইনোভেশন অ্যান্ড প্র্যাকটিস’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রকল্পের বিভিন্ন সাফল্যের দিকগুলো আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক ডা. জিয়াউল আহসান জানান, প্রকল্পটি ২০২১ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছে। এর আওতায় ১৬৫টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে (রেফারেল হাসপাতাল, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তৈরি পোশাক কারখানার স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সাধারণ চিকিৎসকের চেম্বার) সক্ষম করে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি ৭৬৬ জন স্বাস্থ্যসেবাদাতাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সেবা গ্রহণকারীদের তথ্যানুযায়ী—এর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫১ জন, মাসিক নিয়মিতকরণ (এমআর) সেবা ১৬ হাজার ৯৯৩ জন, গর্ভপাত-পরবর্তী ও এমআর-পরবর্তী সেবা (পোস্ট অ্যাবরশন কেয়ার) পেয়েছেন ৩২ হাজার ৫৪৯ জন এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা-সংক্রান্ত সেবা পেয়েছেন ১১ হাজার ৪৫০ জন।

প্রকল্পের অন্যতম বড় সাফল্য ছিল তরুণদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা। এক হাজার তরুণ স্বেচ্ছাসেবী সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও স্কুলভিত্তিক প্রচারণায় অংশ নেন। গঠন করা হয় ১০০টি কমিউনিটি অ্যাকশন গ্রুপ।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইভালুয়েশন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রকল্প-সহায়তাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেবাগ্রহীতারা সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সম্মানজনক আচরণ, গোপনীয়তা রক্ষা এবং কার্যকর যোগাযোগের ক্ষেত্রে অধিকতর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, নগর স্বাস্থ্যখাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ প্রকল্প সেই লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. সাঈদ রুবায়াত বলেন, বাংলাদেশের নগর স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। এ প্রকল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা এবং বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশনের হেড অব কো-অপারেশন স্টিফেন উইভার।

সমাপনী আয়োজনে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা সেবার মান ও প্রবেশগম্যতা ধরে রাখতে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা সরকারি কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন। তারা উল্লেখ করেন, নগর এলাকায় যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সামাজিক কলঙ্ক ও বৈষম্য দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি এবং বৃহৎ পরিসরের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার আর্থিক সহায়তায় আইপাস বাংলাদেশ কর্তৃক বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে সহযোগী হিসেবে ছিল হেলথব্রিজ ফাউন্ডেশন, বাপসা, ওজিএসবি, আরএইচস্টেপ ও সিরাক-বাংলাদেশ।

এসইউজে/এমকেআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow