ঢাকায় আজ শুরু হচ্ছে দুদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫’। এতে যোগ দেবেন দেশি-বিদেশি গবেষক, অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক, মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিকরা।
কনফারেন্সের প্রথম দিন শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন লন্ডনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক এইচ. খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিবেশ ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, মালয়েশিয়ার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মাস্জলি বিন মালিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান, নেপালের সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী ড. দীপক গেওয়ালি, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম এবং ভারতের দ্য ওয়্যারের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সিদ্ধার্থ বরদারাজন।
সম্মেলনের প্রথম দিনে নদীভিত্তিক ভূগোল, অর্থনৈতিক কৌশল, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক সেশন অনুষ্ঠিত হবে। ‘দ্য জুলাই রেভল্যুশন অ্যান্ড রিভারিন ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ব্রুনেই দারুসসালামের ড. ইফতেখার ইকবাল। তার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রফেসর ড. আলেক্স তাক-গুয়াং লি, তুরস্কের ইবনে খালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. ইরফান আহমাদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদ ড. স্বাধীণ সেন এবং আর্ট হিস্টোরিয়ান ও সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. পারভিন হাসান।
অর্থনৈতিক সংকট ও সমাধানের উপায় বিষয়ে মূল বক্তব্য দেবেন ড. মুশতাক খান। আরও বক্তব্য দেবেন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের লুতফে সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম রায়হান ও প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ, বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মাতিন। সেশনটি সঞ্চালনা করবেন চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী এম. জাকির হোসেন খান।
বিকেলে ‘বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেবেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ডেভিড জ্যাকম্যান, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক তাসনিম জারা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. আসিফ শাহান।
একই দিনে আরেকটি সেশনে অর্থনীতির পুনর্গঠন ও নীতি চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনায় থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মো. দীন ইসলাম, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ড. জ্যোতি রহমান এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
প্রথম দিনের শেষভাগে ‘জুলাই বিপ্লব: নতুন দিগন্ত নাকি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি’ বিষয়ে মূল বক্তব্য রাখবেন লেখক ও দার্শনিক ফরহাদ মজহার। আলোচনায় অংশ নেবেন আইইউবির প্রফেসর ড. বখতিয়ার আহমেদ, ব্রুনেইয়ের ড. ইফতেখার ইকবাল, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম, পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানী ড. মনোজ চৌধুরী।
শনিবার দ্বিতীয় দিনে গুরুত্ব পাবে ইতিহাস, শরণার্থী সংকট, মানবাধিকার ও আঞ্চলিক রাজনীতি। ‘হিস্ট্রি, মেমরি অ্যান্ড পলিটিক্স ইন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন সাইকিয়া। রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান, সাবেক রাষ্ট্রদূত তারিক এ করিম, কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. ফাহিম হুসেইন।
একই দিনে মানবাধিকার ও জবাবদিহি বিষয়ক সেশনে বক্তব্য রাখবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক আইরিন খান এবং মানবাধিকার আইনজীবী তাকবীর হুদা।
ওইদিন বিকেলে ‘আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা ও আন্দোলনের পরিণতি’ বিষয়ক আলোচনায় অংশ নেবেন বিআইজিডির মির্জা এম. হাসান, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রফেসর আলেক্স তাক-গুয়াং লি, নেপালের সাবেক মন্ত্রী ড. দীপক গেওয়ালি, শ্রীলঙ্কার প্রফেসর প্রভা মনুরত্নে এবং সিঙ্গাপুরের গবেষক ড. রাজনি গামাগে।
সমাপনী অধিবেশনে বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভূমিকাকে কেন্দ্র করে বক্তব্য দেবেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ড. শাহাব এনাম খান, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আমেনা মোহসিন, ভারতের প্রফেসর স্রীরাধা দত্ত, চীনের ড. নিয়ু হাইবিন এবং তুরস্কের প্রফেসর ড. মেহমেত ওজকান।
সম্মেলনের পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে থাকবে গণমাধ্যম ও গণতন্ত্রের বয়ান, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান, বে অব বেঙ্গলে সংযোগ ও নিরাপত্তা এবং জ্বালানি রূপান্তর ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা। এসব সেশনে মাহফুজ আনাম, সিদ্ধার্থ বরদারাজন, প্রফেসর ড. মাস্জলি মালিক, নিয়াজ আসাদুল্লাহ, জিয়া হাসানসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা মতামত দেবেন।
দুদিনব্যাপী এ সম্মেলন আয়োজন করছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। আয়োজক কমিটির পরামর্শক বোর্ডে থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর নিয়াজ আহমেদ খান, সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুশতাক খান, ব্র্যাক বাংলাদেশের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. এলোরা শেহাবউদ্দিন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সামিয়া হক, এসওএএসের উন্নয়ন গবেষক ড. নওমি হোসেন, বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. কাজী ইকবাল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. মির্জা এম. হাসান।
জেপিআই/এমকেআর/জিকেএস