ঢাবির ফজলুল হক হলে হামলার প্রতিবাদে ডাকসুর মানববন্ধন
ফজলুল হক মুসলিম হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় হল প্রভোস্টের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও পদত্যাগ এবং হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু)। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন ডাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতারা। মানববন্ধনে ‘১, ২, ৩, ৪- নিপীড়ক প্রভোস্ট গদি ছাড়’, ‘নিপীড়কের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘বাহ ভিসি চমৎকার, নিপীড়কের পাহারাদার’ এবং ‘নিপীড়কদের বাঁচাতে ছাত্রদল মরিয়া কেন?’- এসব স্লোগান দেন তারা। এ সময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডও প্রদর্শন করা হয়। মানববন্ধনে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ক্যারিয়ার সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদসহ কেন্দ্রীয় ও হল সংসদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, হলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রভোস্টের কার্যালয়ে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলেও প্রশাসন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কালক্ষেপণ করেছে। রাত প
ফজলুল হক মুসলিম হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় হল প্রভোস্টের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও পদত্যাগ এবং হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু)।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন ডাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতারা।
মানববন্ধনে ‘১, ২, ৩, ৪- নিপীড়ক প্রভোস্ট গদি ছাড়’, ‘নিপীড়কের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘বাহ ভিসি চমৎকার, নিপীড়কের পাহারাদার’ এবং ‘নিপীড়কদের বাঁচাতে ছাত্রদল মরিয়া কেন?’- এসব স্লোগান দেন তারা। এ সময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডও প্রদর্শন করা হয়।
মানববন্ধনে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ক্যারিয়ার সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদসহ কেন্দ্রীয় ও হল সংসদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, হলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রভোস্টের কার্যালয়ে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলেও প্রশাসন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কালক্ষেপণ করেছে। রাত পার হয়ে গেলেও ফুটেজ দেখানোর সাহস দেখায়নি তারা। এতে ইব্রাহিমকে নির্যাতন, তার অসুস্থ মাকে ফোন করে মানসিক চাপ দেওয়া এবং জোরপূর্বক মুচলেকা নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযুক্ত প্রভোস্ট মামুনকে ছাত্রলীগের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, হাসিনার আমলে প্রশাসনের সহযোগিতায় যেভাবে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি চালু ছিল, একইভাবে সিঙ্গেল গেস্টরুম বানিয়ে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হচ্ছে। বুয়েটে আবরার ফাহাদকে যেভাবে নির্যাতন করে শহীদ করা হয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও সেই দিন আসতে বেশি দেরি নেই।
অবিলম্বে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি উপাচার্যের উদ্দেশে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এই নির্যাতক প্রভোস্ট মামুনকে পদচ্যুত করে বিচার নিশ্চিত না করা হবে এবং তাকে সহায়তাকারী স্টাফদের বিচারের মুখোমুখি না করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ডাকসু ও হলের শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরবে না। আমরা ভিসি স্যারকে আহ্বান জানাই, আপনি গণরুম-গেস্টরুম বিরোধী আপনার অতীত অবস্থান বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে অতি দ্রুত এর সমাধান করবেন।
মানববন্ধনে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আবরার ফাহাদকে হত্যার পর ফ্যাসিবাদী সময়ে হল প্রশাসন যেভাবে সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করেছিল, আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর ওপর নিপীড়নের পরও আমরা একই চিত্র দেখতে পাচ্ছি। হলের প্রভোস্ট, প্রক্টরিয়াল টিম এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যখন সিসিটিভি ফুটেজ চেয়ে যৌক্তিক আন্দোলন করছিলাম, তখন বিগত হাসিনা আমলের মতো প্রক্টররা আমাদের হুমকি দিয়েছেন। এরপর ওই প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ইন্ধনে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা করা হয়। এতে হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি আবু নাঈম ও জিএস ইমামের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। জিএস এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
উল্লেখ্য, হলের সংকট নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় গত ১৬ আগস্ট ফজলুল হক হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে শারীরিক হেনস্তার অভিযোগ আনেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২০২১ সেশনের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহীম। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেই হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ চেয়ে হল কক্ষ তালাবদ্ধ করে বিক্ষোভ করে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
এছাড়া একপর্যায়ে হল প্রভোস্টকে উদ্ধারে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম ও জিএস ইমামুল হাসানসহ অন্তত ছয়জন আহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এমএএইচ/
What's Your Reaction?