‘ঢামেকের এত সুন্দর পরিবেশ আগে কখনো দেখিনি’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এ উপলক্ষে হাসপাতাল ও কলেজের আশপাশের ফুটপাত থেকে ভ্রাম্যমাণ হকার, অস্থায়ী খাবারের দোকান, স্টেশনারি ও অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন পর ফুটপাত ফিরে পেয়েছে স্বাভাবিক রূপ, কমেছে যানজট এবং স্বস্তি প্রকাশ করেছেন রোগীর স্বজন ও পথচারীরা। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের ফুটপাত সম্পূর্ণ পরিষ্কার ও গোছানো। কোথাও নেই হকারদের ভিড়, ময়লার স্তূপ কিংবা কোলাহল। একই সঙ্গে রিকশা, ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারিও চোখে পড়েনি। দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে এসেছে ফুটপাতের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো ফুলগাছের টব। কিছু গাছে ফুটেছে ফুল, যা পুরো এলাকাকে দিয়েছে মনোমুগ্ধকর রূপ। ঢামেক হাসপাতালের আশপাশের ফুটপাত থেকে ভ্রাম্যমাণ হকার ও অস্থায়ী খাবারের দোকান সরানো হয়েছে/ছবি: জাগো নিউজ বরিশাল থেকে বোনের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে আসা আব্বাস আলী বলেন, ‘শুনেছি আজ একজন ভিআইপি আসবেন। তা
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এ উপলক্ষে হাসপাতাল ও কলেজের আশপাশের ফুটপাত থেকে ভ্রাম্যমাণ হকার, অস্থায়ী খাবারের দোকান, স্টেশনারি ও অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন পর ফুটপাত ফিরে পেয়েছে স্বাভাবিক রূপ, কমেছে যানজট এবং স্বস্তি প্রকাশ করেছেন রোগীর স্বজন ও পথচারীরা।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের ফুটপাত সম্পূর্ণ পরিষ্কার ও গোছানো। কোথাও নেই হকারদের ভিড়, ময়লার স্তূপ কিংবা কোলাহল। একই সঙ্গে রিকশা, ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারিও চোখে পড়েনি। দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে এসেছে ফুটপাতের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো ফুলগাছের টব। কিছু গাছে ফুটেছে ফুল, যা পুরো এলাকাকে দিয়েছে মনোমুগ্ধকর রূপ।
ঢামেক হাসপাতালের আশপাশের ফুটপাত থেকে ভ্রাম্যমাণ হকার ও অস্থায়ী খাবারের দোকান সরানো হয়েছে/ছবি: জাগো নিউজ
বরিশাল থেকে বোনের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে আসা আব্বাস আলী বলেন, ‘শুনেছি আজ একজন ভিআইপি আসবেন। তাই রোগীর সঙ্গে একজনের বেশি থাকতে দিচ্ছে না। আমার রোগী নারী হওয়ায় বোনকে থাকতে দেওয়া হয়েছে, আমাকে বাইরে বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে বাইরে এসে দেখলাম ফুটপাত একেবারে ফাঁকা, বেঞ্চে বসার সুযোগ আছে। এত সুন্দর পরিবেশ আগে কখনো দেখিনি।’
আরেক রোগীর স্বজন মোহাইমিন বলেন, ‘আমি জানতামই না ফুটপাতে ফুলগাছের এত সুন্দর টব আছে। এতদিন রিকশা-ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্স আর হকারদের দোকানে সব ঢেকে ছিল। দোকানগুলো সরানোর পর পুরো সৌন্দর্যটা চোখে পড়ছে।’
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, ঢাকা মেডিকেলের বিভিন্ন প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ট্রাফিক পুলিশ ও রোভার স্কাউট সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের তৎপরতায় যানবাহন চলাচলেও ছিল বেশ শৃঙ্খলা এবং কোথাও উল্লেখযোগ্য যানজট দেখা যায়নি।
তবে উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিছু ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী। অস্থায়ী দোকানে স্যুপ ও ডিম বিক্রি করা হাসান বলেন, ‘আমাদের বেশিরভাগ ক্রেতাই রোগীর স্বজন। হাসপাতালের খাবার অনেক সময় সবার জন্য যথেষ্ট হয় না। তাই অন্তত রোগীদের জন্য খাবার বিক্রি করা দোকানগুলো রাখলে ভালো হতো। এখন অনেকেই খাবার কিনতে এসে পাচ্ছেন না।’
এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ শনিবার প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে আসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় দুটি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এছাড়া বৃক্ষরোপণ করবেন এবং একটি আলোচনা সভায় অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত থাকবেন।
ঢামেক এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিছু ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী/ছবি: জাগো নিউজ
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা এ সফরকে প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাদের আশা, এ সফরের মাধ্যমে কলেজ ও হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও এ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অবিস্মরণীয়।’
তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঢাকা মেডিকেলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রিয় ক্যাম্পাসে আসছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন ও আনন্দের বিষয়।’
ইএআর/ইএ
What's Your Reaction?

