তনু হত্যা তদন্তে নতুন মোড়
দীর্ঘ ১০ বছরেও আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন না হলেও তদন্তে এবার নতুন মোড় এসেছে। তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় আরও একজনের রক্তের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এর ফলে মামলায় সন্দেহভাজনের সংখ্যা দাঁড়াল চারজনে। রোববার (১৭ মে) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই ঢাকার পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম। তিনি জানান, তনুর পোশাকে আগে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর নমুনা পাওয়া গিয়েছিল। এবার একই আলামতের ডিএনএ বিশ্লেষণে আরও একজনের রক্তের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। তবে এই তথ্য নতুন করে উদ্ভাবিত নয়, বরং ২০১৭ সালের পরীক্ষার নথিতে বিষয়টি থাকলেও তদন্তের ধারাবাহিকতায় তা এতদিন সামনে আসেনি। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনজনের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরেকজনের রক্তের নমুনা পাওয়া গেছে। এতে এখন পর্যন্ত তনুর পোশাকে চারজনের ডিএনএ উপস্থিতির তথ্য মিলেছে। নতুন এই তথ্য তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।’ পিবিআই সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে সিআইডির কাছে তনুর আলামতের ডিএনএ বিশ্লেষণ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। পরে প্রায় এক মাস আ
দীর্ঘ ১০ বছরেও আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন না হলেও তদন্তে এবার নতুন মোড় এসেছে। তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় আরও একজনের রক্তের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এর ফলে মামলায় সন্দেহভাজনের সংখ্যা দাঁড়াল চারজনে।
রোববার (১৭ মে) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই ঢাকার পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, তনুর পোশাকে আগে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর নমুনা পাওয়া গিয়েছিল। এবার একই আলামতের ডিএনএ বিশ্লেষণে আরও একজনের রক্তের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। তবে এই তথ্য নতুন করে উদ্ভাবিত নয়, বরং ২০১৭ সালের পরীক্ষার নথিতে বিষয়টি থাকলেও তদন্তের ধারাবাহিকতায় তা এতদিন সামনে আসেনি।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনজনের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরেকজনের রক্তের নমুনা পাওয়া গেছে। এতে এখন পর্যন্ত তনুর পোশাকে চারজনের ডিএনএ উপস্থিতির তথ্য মিলেছে। নতুন এই তথ্য তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।’
পিবিআই সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে সিআইডির কাছে তনুর আলামতের ডিএনএ বিশ্লেষণ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। পরে প্রায় এক মাস আগে পাঠানো প্রতিবেদনে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরেকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির রক্তের নমুনা থাকার তথ্য জানানো হয়।
সিআইডির ডিএনএ ল্যাবের পরীক্ষক নুসরাত ইয়াসমিনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলার তদন্তে পাঠানো ২৪টি আলামতের মধ্যে কয়েকটিতে তিনজন ভিন্ন পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। এছাড়া একটি কাপড়ে শনাক্ত হয় আরেক অজ্ঞাত ব্যক্তির রক্তের নমুনা, যার ডিএনএ আগের নমুনাগুলোর সঙ্গে মেলেনি।
এদিকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল মামলার তিন সন্দেহভাজন— সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে দেখতে আদালতে আবেদন করে পিবিআই। আদালতের নির্দেশে ২১ এপ্রিল হাফিজুর রহমানকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে আটক করা হয়। পরে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরীক্ষার ফল এখনো তদন্ত কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেনি।
তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন করে আরেকজনের রক্তের নমুনা পাওয়ায় এখন সন্দেহভাজনদের সঙ্গে আরও তিনজনের ডিএনএ মিলিয়ে দেখতে হবে। তদন্ত ও অভিযান একসঙ্গে চলছে।’
তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, পলাতক দুই সেনাসদস্যের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে দেশত্যাগ করেছেন। যদিও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছে ঝোপের ভেতর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।
What's Your Reaction?