তালিকাচ্যুতির ঝুঁকি এড়াতে বোর্ড সভা, লভ্যাংশ ঘোষণা বেক্সিমকো ফার্মার
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাচ্যুত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে বিশেষ নিয়ন্ত্রক অনুমোদন নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভা করেছে দেশের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। সভায় কোম্পানিটি বকেয়া আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে। বুধবার (২৪ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির গ্লোবাল ডিপোজিটারি রিসিপ্টস (জিডিআর) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে না পারায় চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে লেনদেন স্থগিত রয়েছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটের (এআইএম) বিধান অনুযায়ী, কোনো সিকিউরিটিজের লেনদেন টানা ছয় মাস বন্ধ থাকলে তালিকাভুক্তি বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। আগামী ২ জুলাই সেই ছয় মাসের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল। এ পরিস্থিতিতে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের লন্ডন-তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগকারী ছয়টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউর
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাচ্যুত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে বিশেষ নিয়ন্ত্রক অনুমোদন নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভা করেছে দেশের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। সভায় কোম্পানিটি বকেয়া আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে।
বুধবার (২৪ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির গ্লোবাল ডিপোজিটারি রিসিপ্টস (জিডিআর) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে না পারায় চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে লেনদেন স্থগিত রয়েছে।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটের (এআইএম) বিধান অনুযায়ী, কোনো সিকিউরিটিজের লেনদেন টানা ছয় মাস বন্ধ থাকলে তালিকাভুক্তি বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। আগামী ২ জুলাই সেই ছয় মাসের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল।
এ পরিস্থিতিতে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের লন্ডন-তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগকারী ছয়টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় পরিচালনা পর্ষদের সভা আয়োজন ও বকেয়া আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের সুযোগ করে দেওয়ার অনুরোধ জানায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ জুন বিএসইসি কোম্পানিটিকে বিশেষ অনুমোদন দেয়। সেই অনুমোদনের ভিত্তিতে ২৩ জুন পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং বকেয়া আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ফলে লন্ডনে তালিকাচ্যুতির আশঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কোম্পানির প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬) সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৯৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ৮৬ পয়সা। আর জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নয় মাসে সমন্বিত ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৫৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১ টাকা ৭৩ পয়সা।
একই সময়ে সমন্বিত পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) বেড়ে ১৬ টাকা ৭৪ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯ টাকা ৪৬ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৩৪ টাকা ৬০ পয়সা, যা এক বছর আগে ছিল ১১৫ টাকা ২১ পয়সা।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৫) কোম্পানির সমন্বিত ইপিএস ছিল ৫ টাকা ২৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ টাকা ১০ পয়সা। আর জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে ছয় মাসের সমন্বিত ইপিএস দাঁড়ায় ১০ টাকা ৫৮ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৭ টাকা ৮৭ পয়সা।
প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫) সমন্বিত ইপিএস ছিল ৫ টাকা ৩০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ৭৭ পয়সা। ওই সময়ে পরিচালন নগদ প্রবাহ শেয়ারপ্রতি ৬ টাকা ১৪ পয়সা এবং নিট সম্পদ মূল্য ১২৪ টাকা ৩৪ পয়সা ছিল।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নিট বিক্রয় আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় মুনাফা বেড়েছে। বিক্রয় বৃদ্ধির ফলে স্থূল মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি উন্নত নগদ প্রবাহের কারণে অর্থায়ন ব্যয় কমেছে। রপ্তানি থেকে অর্জিত রয়্যালটি ও নগদ প্রণোদনা অন্যান্য আয় বাড়িয়েছে। এছাড়া সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিনোভিয়া ও নুভিস্তা ফার্মার উন্নত আর্থিক পারফরম্যান্সও সমন্বিত মুনাফা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রেখেছে।
পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে। লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২ আগস্ট ২০২৬। উচ্চ আদালতের প্রয়োজনীয় অনুমতি ও বিলম্ব মওকুফ সাপেক্ষে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করা হবে।
কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১৫ টাকা ৫৬ পয়সা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৩ টাকা ৭ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য বেড়ে ১১৯ টাকা ৪ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১০৭ টাকা ৪৮ পয়সা। তবে পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ ১৮ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে কমে ১৬ টাকা ১৯ পয়সায় নেমে এসেছে।
লভ্যাংশ ঘোষণা কারণে বুধবার (২৪ জুন) কোম্পানির শেয়ারের লেনদেনে কোনো মূল্যসীমা (প্রাইস লিমিট) থাকবে না বলে জানিয়েছে ডিএসই।
এমএএস/এসএনআর
What's Your Reaction?