তাহলে কি এবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে আর্জেন্টিনা!
৩৬ বছরের খরা কাটিয়েছে ২০২২ সালে। কাতারের লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জিতে শুধু বিশ্বকাপ জয়ই নয়, লিওনেল মেসিরও স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল। একজন পূর্ণাঙ্গ ফুটবলার হতে যে ঘাটতিটা ছিলো মেসির, সেটিকে পূরণ করে দিয়েছে কাতার বিশ্বকাপ। বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন হওয়ার জন্য বিশ্বকাপটা হাতে তোলাই ছিল প্রথম ও প্রধান শর্ত। সেটি পূরণ হয়েছে ২০২২ সালে। লিওনেল মেসি চার বছর পর এবারও আছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে। শুধু থাকাই নয়, গতবারের মত এবারও তিনি আর্জেন্টিনা দলের কেন্দ্রবিন্দু, প্রাণ ভোমরা। কোচ লিওনেল স্কালোনির সমস্ত প্ল্যান-পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছেন ইন্টার মিয়ামির এই তারকা। তাকে ঘিরেই আবর্তিত হবে এবারের আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ দল। কোচ লিওনেল স্কালোনি যে স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন, সেখানে ১৭ জনই রয়েছেন গত বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য। বাকি ৯ জন নতুন, তথা তরুণ তারকা। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপাটা ধরে রাখার জন্য একটি দলের যে সব রসদ প্রয়োজন এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলে তার সবই রয়েছে। আর্জেন্টিনা দলটিকে দেখে ফুটবলবোদ্ধাদের অভিমত, ১৯৬২ সালের পর হয়তো এই প্রথমবারের মত কোনো একটি দল টানা দ
৩৬ বছরের খরা কাটিয়েছে ২০২২ সালে। কাতারের লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জিতে শুধু বিশ্বকাপ জয়ই নয়, লিওনেল মেসিরও স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল। একজন পূর্ণাঙ্গ ফুটবলার হতে যে ঘাটতিটা ছিলো মেসির, সেটিকে পূরণ করে দিয়েছে কাতার বিশ্বকাপ। বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন হওয়ার জন্য বিশ্বকাপটা হাতে তোলাই ছিল প্রথম ও প্রধান শর্ত। সেটি পূরণ হয়েছে ২০২২ সালে।
লিওনেল মেসি চার বছর পর এবারও আছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে। শুধু থাকাই নয়, গতবারের মত এবারও তিনি আর্জেন্টিনা দলের কেন্দ্রবিন্দু, প্রাণ ভোমরা। কোচ লিওনেল স্কালোনির সমস্ত প্ল্যান-পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছেন ইন্টার মিয়ামির এই তারকা। তাকে ঘিরেই আবর্তিত হবে এবারের আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ দল।
কোচ লিওনেল স্কালোনি যে স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন, সেখানে ১৭ জনই রয়েছেন গত বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য। বাকি ৯ জন নতুন, তথা তরুণ তারকা। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপাটা ধরে রাখার জন্য একটি দলের যে সব রসদ প্রয়োজন এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলে তার সবই রয়েছে।
আর্জেন্টিনা দলটিকে দেখে ফুটবলবোদ্ধাদের অভিমত, ১৯৬২ সালের পর হয়তো এই প্রথমবারের মত কোনো একটি দল টানা দুটি বিশ্বকাপ জিততে যাচ্ছে। ১৯৯০ সালে আর্জেন্টিনার সামনে সুযোগ এসেছিল; কিন্তু জার্মানির কাছে ফাইনালে হেরে টানা দুটি বিশ্বকাপ জেতা হয়নি ম্যারাডোনার দলকে।
১৯৯৮ সালে ব্রাজিলের সামনে সুযোগ এসেছিল, তারা পারেনি ফ্রান্সের কাছে হারের কারণে। যদিও ২০০২ সাল পর্যন্ত টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে ২টি জয় করেছিল ব্রাজিল। ২০২২ সালে ফ্রান্সের সামনেও সুযোগ এসেছিল- তারাও পারেনি। আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে গেছে তারা।
১৯৬২ সালে দ্বিতীয় দল হিসেবে সর্বশেষ টানা দুটি (প্রথমটি ১৯৫৮ সালে) বিশ্বকাপ জয় করেছিল ব্রাজিল। এর আগে ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয় করেছিল ইতালি।
এবার আর্জেন্টিনা কী পারবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয় করে ব্রাজিল ও ইতালির পাশে নাম লেখাতে? সময়ই সব বলে দেবে। আপাতত ১৯ জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে ভক্ত-সমর্থকদের।
তবে কয়েকটি লক্ষণ বলছে, হয়তো বা টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। এমনিতেই বিশ্বজয়ী কোচ, বিশ্বকাপজয়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অধিকাংশ ফুটবলারই রয়েছেন আর্জেন্টিনা দলে। শুধু তাই নয়, এই দলটির মধ্যে একাত্মতা অসম্ভব রকমের দৃঢ়। ড্রেসিং রুমের পরিবেশ অসাধারণ, যেটা সর্বোচ্চ সাফল্য ছিনিয়ে নিয়ে আসার জন্য খুব বেশি প্রয়োজনীয়, সেটা আর্জেন্টিনা দলের মধ্যে রয়েছে।
টানা দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয়ে পিএসজির ভেতরে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে ভূমিকা রাখেন কোচ লুইস এনরিখে
তবে, ফুটবল এবং ক্রিকেটের আলোচিত টুর্নামেন্টগুলোয় যেভাবে শিরোপা ধরে রাখার সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে, তাতেও বলা যায় হয়তো বা আবারও বিশ্বকাপটা উঠতে যাচ্ছে মেসির হাতেই।
৩০ মে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল। বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত এই ফাইনালে টাইব্রেকারে আর্সেনালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হলো পিএসজি। আর্সেনাল- যে দলটি পুরো চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অপরাজিত ছিল- তারাই কি না ফাইনালে এসে হেরে গেলো!
পিএসজি খুব বেশি তারকাভর্তি টাইটানিক নয় যে তাদেরকে নিয়ে অনেক বেশি উচ্ছ্বসিত হওয়া যাবে; কিন্তু কোচ লুইস এনরিকের অধীনে দলটি যেভাবে একাত্ম হয়ে খেলে- তার প্রমাণ হলো টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়। মেসি, নেইমার, এমবাপেদের নিয়ে যে দলটি ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি, তাদেরকে বাদ দিয়ে টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মূল রহস্যই হলো- দলটির ড্রেসিং রুমের স্থিতিশীলতা। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি দল হয়ে খেলা।
এবার আসি ক্রিকেটে। আইপিএলে যে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু আগের আসরগুলোতে তারকা নির্ভর দল গড়েও সাফল্য পাচ্ছিল না, এবার তারা টানা দুটি আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হলো। এর পেছনেও একই রহস্য। দলীয় স্থিতিশীলতা, ড্রেসিংরুমের চমৎকার পরিবেশ এবং মাঠে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি দল হয়ে খেলা। যে কারণে, বিরাট কোহলির হাতে উঠলো টানা দুটি আইপিএল শিরোপা।
টানা দুটি আইপিএল শিরোপা জয়ে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন বিরাট কোহলি
স্প্যানিশ লা লিগায় কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন হলো বার্সেলোনা। জার্মান বুন্দেসলিগায় টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ। এখানেও কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির ক্যারিশমা রয়েছে বলা যায়। পিএসজি তো লিগ ওয়ানে চ্যাম্পিয়ন হয়েই যাচ্ছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে পেপ গার্দিওলার মত কোচ ড্রেসিং রুমের পরিবেশ ঠিক রাখতে না পারায় টানা দু’বার শিরোপা বঞ্চিত থাকলো। শেষ পর্যন্ত গার্দিওলা নিজেই ছেড়ে গেলেন ম্যানসিটিকে।
ড্রেসিং রুমের স্থিতিশীলতা, দলীয় ঐক্য এবং সাফল্য খুঁজলে আরও অনেক পাওয়া যাবে। যে বিষয়গুলো এখনও পুরোপুরি বিদ্যমান আর্জেন্টিনা দলটিতে। যে কারণে, বলে দেওয়া যায় বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী অন্য ৪৭টি দলের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে আর্জেন্টিনা এবং বিশ্বকাপ শিরোপাটা আরও একবার হয়তো মেসির হাতে ওঠার অপেক্ষায়।
আইএইচএস/
What's Your Reaction?