তিন নাবিক হত্যার বিচার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ধমক’ খেলো ভারত

ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের  প্রাণহানির ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে ভারত। ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে দুদেশের সম্পর্ক। দুই দফায় দিল্লিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জ্যাসন মিকসকে তলব করার পর এবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনালাপ হয়েছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের।  কিন্তু, ভারতের এই প্রতিবাদে কোনও পাত্তা না দিয়ে বরং কড়াভাবে ধমকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জয়শঙ্করকে ফোনালাপে রুবিও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা সহ্য করা হবে না এবং মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ সব বাণিজ্যিক জাহাজকে মেনে চলতে হবে। রোববার (১৪ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য। শনিবার (১৩ জুন) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এই ফোনালাপ হয় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের।  এর আগে, চলতি সপ্তাহে দুইবার যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জ্যাসন মিকসকে তলব করে ভারত। প্রথমবার তলব করা হয় ওমান উপকূলে পালাউয়ের পতাকাব

তিন নাবিক হত্যার বিচার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ধমক’ খেলো ভারত

ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের  প্রাণহানির ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে ভারত। ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে দুদেশের সম্পর্ক। দুই দফায় দিল্লিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জ্যাসন মিকসকে তলব করার পর এবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনালাপ হয়েছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের। 

কিন্তু, ভারতের এই প্রতিবাদে কোনও পাত্তা না দিয়ে বরং কড়াভাবে ধমকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জয়শঙ্করকে ফোনালাপে রুবিও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা সহ্য করা হবে না এবং মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ সব বাণিজ্যিক জাহাজকে মেনে চলতে হবে।

রোববার (১৪ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য। শনিবার (১৩ জুন) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এই ফোনালাপ হয় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের। 

এর আগে, চলতি সপ্তাহে দুইবার যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জ্যাসন মিকসকে তলব করে ভারত। প্রথমবার তলব করা হয় ওমান উপকূলে পালাউয়ের পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি সেট্টেবেলো’তে মার্কিন হামলার পর। ওই হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও জাহাজটিতে হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, জাহাজটি মার্কিন নৌবাহিনীর নির্দেশনা মানেনি ও চলমান মার্কিন অবরোধ অমান্য করে ইরান থেকে তেল পরিবহনের চেষ্টা করছিল।

সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, ওমান উপসাগরে তাদের একটি যুদ্ধবিমান জাহাজটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ক্রুরা বারবার নির্দেশ অমান্য করায় জাহাজটিকে অচল করে দেওয়া হয়।

এর কিছুদিন পর একই এলাকায় ২০ ভারতীয় নাবিক বহনকারী আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হলে দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন কূটনীতিককে তলব করে ভারত।

পরপর দুইবার তলবের পাশাপাশি জয়শঙ্কর ফোনে রুবিওর সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রাণহানির ঘটনায় ভারতের তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভের কথা জানান। এরপর দুই নেতার আলোচনার ভিত্তিতে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র।

বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলেছেন। হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এই দুই মন্ত্রী।

এতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে মার্কিন বাহিনী যে নির্দেশনা দিচ্ছে, সব বাণিজ্যিক জাহাজকে তা অবিলম্বে মেনে চলতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অবরোধ লঙ্ঘন ও ইরানি তেলের অবৈধ পরিবহন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

এর আগে, ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছিলেন যে, তিনি রুবিওর সঙ্গে কথা বলে মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে ভারতের ‘কঠোর প্রতিবাদ’ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। 

তিনি লেখেন, শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছি। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতের কঠোর প্রতিবাদ পুনর্ব্যক্ত করেছি। বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রাণঘাতী পদক্ষেপ কোনোভাবেই মানা যায় না।

জয়শঙ্কর আরও বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে এমন প্রাণঘাতী ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

শুক্রবার (১২ জুন) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানায়, ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিক বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর ধারাবাহিক হামলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলার ফলে এরই মধ্যে তিন ভারতীয় নাগরিকের ‘দুঃখজনক ও এড়ানো সম্ভব ছিল’ এমন মৃত্যু ঘটেছে।

ভারত আরও জানায়, বেসামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নয়াদিল্লির মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ সংবেদনশীল অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সুরক্ষাকে দুর্বল করে দেয়।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মার্কিন কূটনীতিক জেসন মিকসকে অনুরোধ করে, তিনি যেন ওয়াশিংটনের কাছে ভারতের উদ্বেগ পৌঁছে দেন ও অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীকে বেসামরিক প্রাণহানি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

এদিকে, মার্কিন বিবৃতি প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতীয় কংগ্রেস নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুর। তিনি বলেছেন, এই সরকারি মার্কিন বিবৃতি পড়ে আমি গভীরভাবে বিস্মিত। এতে নিরীহ ভারতীয়দের প্রাণহানির জন্য সামান্য অনুশোচনা বা সমবেদনাও প্রকাশ করা হয়নি। একজন বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার কীভাবে এতটা অসংবেদনশীল হতে পারে?

শশী থারুর প্রশ্ন তোলেন, কোনো জাহাজ নির্দেশ না মানলে তাকে থামানোর জন্য প্রাণঘাতী হামলা ছাড়া অন্য কোনো উপায় কি ছিল না? বেসামরিক নাবিকদের না মেরে জাহাজের ইঞ্জিন বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকেজো করা কি সম্ভব ছিল না?

ভারতীয় কংগ্রেসের এই নেতা আরও বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচলকারী প্রায় প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজেই ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। তাহলে কি এখন তারা সবাই মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু? এই ধরনের অবস্থান মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow