তিন বাংলাদেশি হত্যা : ইতালীয় গণমাধ্যমে উঠে এলো অভিযুক্তের পরিচয়
ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় পলাতক বাংলাদেশি শাহাদাত হোসেনকে ঘিরে তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ইতালীয় গণমাধ্যমের দাবি, তিনি শুধু এই মামলার প্রধান সন্দেহভাজনই নন, রোমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। আর এ তথ্যের ভিত্তিতে তার রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়েও তদন্ত চালাচ্ছে ইতালির পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডে কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের সম্পৃক্ততার তথ্য এখনও নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাহাদাত হোসেন নিজেকে বিএনপির রোম শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয় সভা-সমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে তোলা বিভিন্ন ছবিও রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি সদস্য তালিকায়ও তার নাম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইতালীয় পুলিশ তার রাজনৈতিক যোগাযোগ, পরিচিত ঘনিষ্ঠজন এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়েও তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, পলাতক অবস্থায় তিনি পরিচিত কারও সহায়তা পেয়ে থাকতে পারেন। তবে পুলিশ এখনও বলেন
ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় পলাতক বাংলাদেশি শাহাদাত হোসেনকে ঘিরে তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে।
ইতালীয় গণমাধ্যমের দাবি, তিনি শুধু এই মামলার প্রধান সন্দেহভাজনই নন, রোমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
আর এ তথ্যের ভিত্তিতে তার রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়েও তদন্ত চালাচ্ছে ইতালির পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডে কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের সম্পৃক্ততার তথ্য এখনও নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাহাদাত হোসেন নিজেকে বিএনপির রোম শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয় সভা-সমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে তোলা বিভিন্ন ছবিও রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি সদস্য তালিকায়ও তার নাম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইতালীয় পুলিশ তার রাজনৈতিক যোগাযোগ, পরিচিত ঘনিষ্ঠজন এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়েও তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, পলাতক অবস্থায় তিনি পরিচিত কারও সহায়তা পেয়ে থাকতে পারেন। তবে পুলিশ এখনও বলেনি যে তার রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনও রাজনৈতিক সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
এদিকে অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেনের একটি পুরোনো ফেসবুক পোস্টও তদন্তের অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে ওই পোস্টের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে— এমন কোনও তথ্য এখনও নিশ্চিত করেনি তদন্তকারী সংস্থা।
উল্লেখ্য, রোমের এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনও চলমান। শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে এখনও প্রমাণিত হয়নি এবং ইতালীয় কর্তৃপক্ষও কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের সম্পৃক্ততার দাবি করে
হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে শাহাদাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘কেউ একা মারা যায় না। সবসময় তার সঙ্গে আরেকজনও মারা যায়। মৃত্যু এলে নিজের প্রিয়জনদেরও সঙ্গে নিয়ে যাওয়া উচিত, যাতে কাউকে প্রিয়জন হারানোর কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকতে না হয়।’
তদন্তকারীরা পোস্টটিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৯টার কিছু পরে শাহাদাত একটি ধারালো দা (ম্যাশেটি) নিয়ে ওই পরিবারের বাসায় প্রবেশ করেন। প্রথমে তিনি আরজু বেগম ও তাদের আট বছর বয়সী মেয়ে আরোয়াকে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে আরজু বেগমের স্বামী কামাল উদ্দিনকেও হত্যা করেন।
হত্যার পর তিনজনের মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে পুলিশের ধারণা। এদিকে হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় এসে বাবা-মা ও বোনকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আমির। তবে হামলাকারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি গুরুতর আহত হন।
বর্তমানে রোমের জেমেলি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন আমির। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি বারবার বলছিলেন, ‘সে আমার মাকে হত্যা করেছে, আমার পুরো পরিবারকে শেষ করে দিয়েছে।’ পুলিশকে তিনি হামলাকারীর নামও জানান এবং বলেন, ‘এটা শাহাদাতই করেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আগোস্তিনো জানান, সেদিন রাতে তিনি টেলিভিশনে নরওয়ে ও ফ্রান্সের ফুটবল ম্যাচ দেখছিলেন। হঠাৎ চিৎকার শুনে বাইরে বের হয়ে দেখেন, আমির রাস্তায় পড়ে আছেন এবং তার ওপর একজন ব্যক্তি হামলা চালাচ্ছে। পরে ওই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই শাহাদাত হোসেন পলাতক। তাকে ধরতে কাসালোত্তি এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে ইতালির পুলিশ। পাশাপাশি দেশজুড়ে তার সন্ধানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
What's Your Reaction?