তীব্র গরমের মধ্যেই ইউরোপজুড়ে মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র দাবদাহ ও ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার মধ্যেই সমুদ্র সৈকতগুলোতে ‘ভিব্রিও’ (Vibrio) নামের মাংসখেকো ও প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, এই বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ এখন শুধু ইউরোপের মূল ভূখণ্ডেই নয়, বরং যুক্তরাজ্যের সৈকতগুলোর জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি ও পরিবেশ ভিব্রিও এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া যা সাধারণত উষ্ণ বা নোনা পানিতে (যেখানে মিষ্টি ও সমুদ্রের পানি মেশে) জন্মায় ও গ্রীষ্মের তীব্র গরমে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিএস) স্যাটেলাইট ডেটা ও সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করে একটি ম্যাপ তৈরি করেছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকির জায়গাগুলো চিহ্নিত করছে। আরও পড়ুন ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, অতীতের সব রেকর্ড ভাঙার শঙ্কা সংস্থাটি বলছে, এ বছর সংক্রমণের ঝুঁকি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। বাল্টিক সাগরের লবণাক্ততা কম ও তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইডেন, জার্মানি ও পোল্যান্ডের উপকূলবর্তী এলাকাগুলো এই ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির জন্য বেশ উপযোগী। এছাড়া ভূমধ্যসাগর ও আটলান্ট

তীব্র গরমের মধ্যেই ইউরোপজুড়ে মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র দাবদাহ ও ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার মধ্যেই সমুদ্র সৈকতগুলোতে ‘ভিব্রিও’ (Vibrio) নামের মাংসখেকো ও প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, এই বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ এখন শুধু ইউরোপের মূল ভূখণ্ডেই নয়, বরং যুক্তরাজ্যের সৈকতগুলোর জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি ও পরিবেশ

ভিব্রিও এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া যা সাধারণত উষ্ণ বা নোনা পানিতে (যেখানে মিষ্টি ও সমুদ্রের পানি মেশে) জন্মায় ও গ্রীষ্মের তীব্র গরমে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিএস) স্যাটেলাইট ডেটা ও সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করে একটি ম্যাপ তৈরি করেছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকির জায়গাগুলো চিহ্নিত করছে।

সংস্থাটি বলছে, এ বছর সংক্রমণের ঝুঁকি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। বাল্টিক সাগরের লবণাক্ততা কম ও তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইডেন, জার্মানি ও পোল্যান্ডের উপকূলবর্তী এলাকাগুলো এই ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির জন্য বেশ উপযোগী। এছাড়া ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরে লবণাক্ততা বেশি থাকায় সাধারণত ঝুঁকি কম, তবে ভারী বৃষ্টির পর নদীর মোহনাগুলোতে ঝুঁকি বাড়তে পারে।

যুক্তরাজ্যের বোর্নমাউথ সৈকতে রোদ পোহাচ্ছেন ও সমুদ্রে গোসল করছেন হাজারো মানুষ/ ২০২০ সালের ২৫ জুন তোলা ছবি/ এএফপি

ঝুঁকিতে থাকা দেশসমূহ

জুলাই মাসের শুরুতে ইসিডিএস আটটি দেশকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে: বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, লিথুয়ানিয়া, পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও সুইডেন। এছাড়া জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, রোমানিয়া ও বুলগেরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত মাসে স্পেনের কিছু সৈকতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির কারণে সেগুলোকে সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

উপসর্গ ও শারীরিক ঝুঁকি

ব্যাকটেরিয়াযুক্ত পানি কোনো ক্ষত বা কাটাছেঁড়ার সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ হতে পারে, যা প্রাণঘাতীও হতে পারে। দূষিত সামুদ্রিক খাবার খেলে ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, বমি ও জ্বর হতে পারে। ক্ষতস্থানে সংক্রমণ হলে লালচে হওয়া, ফোলা ও ব্যথার উপসর্গ দেখা দেয় ও এটি কানের সংক্রমণও ঘটাতে পারে। সঠিক চিকিৎসা না হলে এই সংক্রমণ রক্তে ছড়িয়ে সেপসিস সৃষ্টি করতে পারে, যা জীবননাশের কারণ হতে পারে। এছাড়া সাঁতারের সময় ভুলবশত পানি গিলে ফেলা শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফ্রান্সিস হাসার্ডের পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম হলেও লিভারের রোগ, ডায়াবেটিস বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তিদের জন্য এটি বিপজ্জনক হতে পারে। নতুন ট্যাটু, সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচারের ক্ষত বা কাটাছেঁড়া শরীর নিয়ে সমুদ্রে নামা উচিত নয়। এছাড়া কাঁচা বা অর্ধেক রান্না করা শেলফিশ (যেমন অয়েস্টার) খাওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রের পানি থেকে উঠে আসার পর যদি ক্ষতস্থানে দ্রুত ফোলা, লালচে ভাব বা প্রচণ্ড ব্যথা হয়, তবে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

সূত্র: দ্য সান

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow