তীব্র তাপে ফ্রান্সে বছরে সাড়ে ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু

তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ফ্রান্সে প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। দেশটির স্বাস্থ্য ও জলবায়ু পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত দুটি নতুন গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। খবর ইউরো নিউজের। গবেষণা সংস্থা অক্সফাম জানিয়েছে, তাপপ্রবাহ শুধু বয়স্ক মানুষের পানিশূন্যতার কারণ নয়, এটি হৃদরোগ, কিডনি জটিলতাসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাপপ্রবাহের সময় হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে যায়। আর তীব্র গরম এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে কিডনি বিকলের ঝুঁকি প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এ ছাড়া সবচেয়ে গরম দিনগুলোতে নারীদের মৃত্যুহার অন্য সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয় বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ফ্রান্সের দরিদ্র ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো তাপপ্রবাহের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে এসব এলাকায় অতিরিক্ত মৃত্যুর হার ধনী এলাকার তুলনায় প্রায় ৩১ শতাংশ বেশি ছিল। অন্যদিকে শহরের সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ এলাকার বাসিন্দারা তীব্র গরমের ঝুঁকিতে

তীব্র তাপে ফ্রান্সে বছরে সাড়ে ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু
তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ফ্রান্সে প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। দেশটির স্বাস্থ্য ও জলবায়ু পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত দুটি নতুন গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। খবর ইউরো নিউজের। গবেষণা সংস্থা অক্সফাম জানিয়েছে, তাপপ্রবাহ শুধু বয়স্ক মানুষের পানিশূন্যতার কারণ নয়, এটি হৃদরোগ, কিডনি জটিলতাসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাপপ্রবাহের সময় হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে যায়। আর তীব্র গরম এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে কিডনি বিকলের ঝুঁকি প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এ ছাড়া সবচেয়ে গরম দিনগুলোতে নারীদের মৃত্যুহার অন্য সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয় বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ফ্রান্সের দরিদ্র ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো তাপপ্রবাহের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে এসব এলাকায় অতিরিক্ত মৃত্যুর হার ধনী এলাকার তুলনায় প্রায় ৩১ শতাংশ বেশি ছিল। অন্যদিকে শহরের সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ এলাকার বাসিন্দারা তীব্র গরমের ঝুঁকিতে তুলনামূলকভাবে অনেক কম। গবেষকদের মতে, সবুজ পরিবেশ, উন্নত আবাসন ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতার কারণে তারা বেশি সুরক্ষিত থাকেন। আরেকটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ফ্রান্সের প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষ গ্রীষ্মকালে নিজেদের ঘরের অতিরিক্ত গরম নিয়ে ভোগান্তিতে থাকেন। প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়িতে পর্যাপ্ত সানশেড বা গরম প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেই। ফলে গরমের সময় এসব ঘর অনেকটা ‘চুল্লি’র মতো হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দরিদ্র মানুষ সাধারণত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাস করেন, যেখানে সবুজের পরিমাণ কম এবং ভবন নির্মাণের উপকরণও তাপ বেশি ধরে রাখে। পাশাপাশি তাদের অনেকেই বাইরে কাজ করেন, ফলে তীব্র গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারকে দ্রুত আবাসন সংস্কার, জনসাধারণের জন্য শীতল পরিবেশ তৈরির ব্যবস্থা এবং তীব্র গরম মোকাবিলায় বিশেষ জরুরি কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে গৃহহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow