তুমি চলে যাও তোমার সময় হয়ে গেছে
পিয়াস সরকার নিলয় প্রাইভেটকার চালায়। এটাই তার চাকরি। বয়স ত্রিশের ঘরে। প্রতিদিন তাকে একই সময়ে একই রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। আবার বিকেলে একই সময়ে ফিরতে হয়। সে লক্ষ্য করে, প্রতিদিন একই স্থানে তার চাকায় হালকা একটা ধাক্কা লাগে আর মৃদু শব্দ হয় ‘টুং’। নিলয় ভাবতে থাকে শব্দ নিয়ে। কারো সাথে শেয়ার করে না বিষয়টি। সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিল। ওই স্থানে গিয়ে খুব ধীরে গাড়ি চালায়। ঠিক ওই স্থানেই টুং করে শব্দটি হয়। ফিরে আসার সময়ে আরও ধীরে চালায়। কিন্তু একই শব্দ। ওই জায়গায় একটি চায়ের দোকান। রহস্য উন্মোচন করতে নিলয় ছুটির দিনে সেই স্থানে যায়। খুবই স্বাভাবিক পরিবেশ। চায়ের দোকানে বসে। দোকানে চারজন কাস্টমার। দোকানটি একদম একা দাঁড়িয়ে আছে। আশেপাশে আর কোনো দোকান-ভবন কিছুই নেই। দোকানের পেছনে একটি তাল গাছ। চারজন কাস্টমারের মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে গল্প করছিলেন। আর দুজন বয়স্ক মানুষ রহস্যময়ভাবে তাকিয়ে ছিলেন। দোকানদারও মোটা পাওয়ারের চশমা দিয়ে নিলয়ের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে। পরিবেশ স্বাভাবিক করতে নিলয় বলল, ‘চাচা এক কাপ চা দেন।’ দোকানদার ধীরে ধীরে তার থেকে চোখ সরালো এবং চা বানাতে লাগলো। নিলয় দেখলো সামনে একটা পত্রিকা। স্বাভাবিক লাগল
পিয়াস সরকার
নিলয় প্রাইভেটকার চালায়। এটাই তার চাকরি। বয়স ত্রিশের ঘরে। প্রতিদিন তাকে একই সময়ে একই রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। আবার বিকেলে একই সময়ে ফিরতে হয়। সে লক্ষ্য করে, প্রতিদিন একই স্থানে তার চাকায় হালকা একটা ধাক্কা লাগে আর মৃদু শব্দ হয় ‘টুং’।
নিলয় ভাবতে থাকে শব্দ নিয়ে। কারো সাথে শেয়ার করে না বিষয়টি। সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিল। ওই স্থানে গিয়ে খুব ধীরে গাড়ি চালায়। ঠিক ওই স্থানেই টুং করে শব্দটি হয়। ফিরে আসার সময়ে আরও ধীরে চালায়। কিন্তু একই শব্দ। ওই জায়গায় একটি চায়ের দোকান।
রহস্য উন্মোচন করতে নিলয় ছুটির দিনে সেই স্থানে যায়। খুবই স্বাভাবিক পরিবেশ। চায়ের দোকানে বসে। দোকানে চারজন কাস্টমার। দোকানটি একদম একা দাঁড়িয়ে আছে। আশেপাশে আর কোনো দোকান-ভবন কিছুই নেই। দোকানের পেছনে একটি তাল গাছ। চারজন কাস্টমারের মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে গল্প করছিলেন। আর দুজন বয়স্ক মানুষ রহস্যময়ভাবে তাকিয়ে ছিলেন।
দোকানদারও মোটা পাওয়ারের চশমা দিয়ে নিলয়ের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে। পরিবেশ স্বাভাবিক করতে নিলয় বলল, ‘চাচা এক কাপ চা দেন।’ দোকানদার ধীরে ধীরে তার থেকে চোখ সরালো এবং চা বানাতে লাগলো। নিলয় দেখলো সামনে একটা পত্রিকা। স্বাভাবিক লাগলো। কিন্তু তারিখের দিকে চোখ দিতেই চমকে উঠল, ৬ মে ২০৩২। এটা তো ২০২৬ সাল, জুলাই মাস।

অর্ধলিখিত উপন্যাস
স্বাভাবিকভাবেই দুজন কাস্টমার চলে গেল। তারা চলে যাওয়ার পর আরও রহস্যময়ভাবে তাকাতে থাকলেন দোকানদারসহ বাকি দুজন। ক্যালেন্ডারের দিকে চোখ যেতেই আবার ধাক্কা খেলো। ক্যালেন্ডারেও ২০৩২ সাল, মে মাস।
দোকাননদার এক কাপ চা এগিয়ে দিলেন। লাল চা। লাল চা নিলয় সাধারণত পান করে না। কিন্তু আজ না করল না। নিলয় একটু কথা বলতে চেষ্টা করল। তার আগেই দোকানাদার প্রশ্ন করল, ‘তুমি এখানে কেন?’
কথাটা শুনে ঘাবড়ে গেল নিলয়। কী বলবে বুঝতে পারছে না। উত্তর দিলো, ‘চা খেতে এসেছি।’
আবারও তিনজন আরও রহস্যময় চোখ নিয়ে নিলয়কে দেখছে। নিলয় লক্ষ্য করে, চা খেতে তার খুবই মজা লাগছে। মিষ্টি একটা বেলি ফুলের ঘ্রাণ।
নিলয় কিছু বলতে যাবে কিন্তু পরিবেশ পাচ্ছে না। এসময় পত্রিকাটার দিকে চোখ গেল। তাতে বড় লাল হরফে প্রধান শিরোনাম ‘মানুষ ভাবে, সময় সিদ্ধান্ত নেয়।’ শিরোনামটা দেখে বাকি সংবাদটা পড়তে শুরু করে। কিন্তু অনেকখানি পড়েও সে বুঝতে পারে না কী নিয়ে সংবাদ। অগোছালো লেখা। পত্রিকার নাম ‘দৈনিক অমিমাংসিত সময়’। এই নামে কোনো পত্রিকা আছে বলে তার জানা নেই।
বসে আছে নিলয়। কেউ কথা বলছে না। তিনজনের দৃষ্টি তাকে বিদ্ধ করছে। কী বলবে তা-ও বুঝতে পারছে না। চা যতই শেষ হচ্ছে; ততই ফুলের ঘ্রাণটা প্রকট হচ্ছে।
নিলয়ের খুবই অস্বস্তি লাগছে তিনজন তাকিয়ে থাকায়। নিলয় চা শেষ করে দোকানদারকে বলল, ‘চাচা, আরেক কাপ চা দেন।’
দোকানদার বলল, ‘চা শেষ, আর চা হবে না।’
নিলয় উঠে দাঁড়াল। পকেটে হাত দিয়ে প্রশ্ন করল, ‘চাচা, চা কত?’
উত্তর দিলো, ‘এই চায়ের দাম দেওয়ার মতো টাকা তোমার কাছে নাই। তুমি পরের সপ্তাহে আবার এসো। আমি অপেক্ষায় থাকবো। তুমি চলে যাও।’
নিলয় বলল, ‘চাচা, পত্রিকাটা নিয়ে যাই। দাম দিয়ে দেই।’
উত্তরটা একটু আওয়াজ বাড়িয়ে দ্রুত বলল, ‘বললাম না, দাম দেওয়ার মতো টাকা তোমার কাছে নেই। না, পত্রিকা নেওয়া যাবে না।’
পাশে থাকা দুজন কাস্টমার প্রথমবার কথা বলল। প্রথম জন তীক্ষ্ম চোখে তাকিয়ে বলল, ‘তুমি কি এই চায়ের দোকানে নিজের ইচ্ছায় এসেছো?’
নিলয় হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়তেই দ্বিতীয় ব্যক্তি মুচকি হাসল। বলল, ‘না তুমি নিজের ইচ্ছায় আসো নাই। তুমি চলে যাও তোমার সময় হয়ে গেছে।’
এসইউ
What's Your Reaction?