তেলের বিকল্প খুঁজে নিলেন রতন: ৫ টাকায় ১২০ কিমি চলে বাইক!
জ্বালানি তেলের সংকট ও ব্যয়বহুল যাতায়াতের সময়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের মেকানিক রতন মহন্ত তৈরি করেছেন ব্যাটারি চালিত মোটরসাইকেল, যা প্রতি চার্জে প্রায় ১২০ কিলোমিটার চলতে সক্ষম। ব্যাটারি চালিত বাইকটি এরই মধ্যে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
স্বল্প খরচে, পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার করে তিনি তৈরি করেছেন এক অভিনব ব্যাটারি চালিত মোটরসাইকেল, যা ইতোমধ্যেই এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
পৌর শহরের মহলবাড়ী এলাকার বাসিন্দা রতন মহন্ত, পিতা সুরেন মহন্ত। পেশায় অটোভ্যান মেকানিক এই তরুণের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল সাইকেল মেরামতের কাজ দিয়ে। বর্তমানে পৌর শহরের কলেজ রোডে রয়েছে তার নিজস্ব যন্ত্রাংশের দোকান। সীমিত সামর্থ্য, অভিজ্ঞতা আর উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমধর্মী এই যান।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে তার সঙ্গে কথা হলে রতন জানান, ২০১৯ সালে একটি পুরাতন ১০০ সিসি সুজুকি মোটরসাইকেল কেনার পর থেকেই তিনি নানা যান্ত্রিক সমস্যায় পড়েন। বারবার মেরামত করেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া এবং তেলের বাড়তি খরচ তাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে।
এক পর্যায়ে তিনি প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে সাহ
জ্বালানি তেলের সংকট ও ব্যয়বহুল যাতায়াতের সময়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের মেকানিক রতন মহন্ত তৈরি করেছেন ব্যাটারি চালিত মোটরসাইকেল, যা প্রতি চার্জে প্রায় ১২০ কিলোমিটার চলতে সক্ষম। ব্যাটারি চালিত বাইকটি এরই মধ্যে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
স্বল্প খরচে, পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার করে তিনি তৈরি করেছেন এক অভিনব ব্যাটারি চালিত মোটরসাইকেল, যা ইতোমধ্যেই এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
পৌর শহরের মহলবাড়ী এলাকার বাসিন্দা রতন মহন্ত, পিতা সুরেন মহন্ত। পেশায় অটোভ্যান মেকানিক এই তরুণের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল সাইকেল মেরামতের কাজ দিয়ে। বর্তমানে পৌর শহরের কলেজ রোডে রয়েছে তার নিজস্ব যন্ত্রাংশের দোকান। সীমিত সামর্থ্য, অভিজ্ঞতা আর উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমধর্মী এই যান।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে তার সঙ্গে কথা হলে রতন জানান, ২০১৯ সালে একটি পুরাতন ১০০ সিসি সুজুকি মোটরসাইকেল কেনার পর থেকেই তিনি নানা যান্ত্রিক সমস্যায় পড়েন। বারবার মেরামত করেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া এবং তেলের বাড়তি খরচ তাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে।
এক পর্যায়ে তিনি প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত নেন—বাইকটির ইঞ্জিন সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে সেটিকে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি বাইকের ইঞ্জিন খুলে সেখানে বসান ১২ ভোল্টের চারটি ব্যাটারি এবং একটি অটোরিকশার শক্তিশালী মোটর। এই ব্যাটারি ও মোটরের সমন্বয়ে তৈরি বাইকটি এখন অনায়াসে চলাচল করছে। একবার চার্জে প্রায় ১২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সক্ষম এই বাইকটির বিদ্যুৎ খরচ হয় মাত্র ৫ থেকে ৬ টাকা। যেখানে একই দূরত্ব পাড়ি দিতে একটি সাধারণ মোটরসাইকেলে জ্বালানি খরচ হয় প্রায় ৪০০ টাকা।
রতন মহন্ত বলেন, “শুরুর দিকে অনেকেই আমার কাজ নিয়ে হাসাহাসি করেছে, কেউ বিশ্বাসই করতে চায়নি যে এই বাইক চলতে পারে। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। এখন যখন তেলের জন্য মানুষ কষ্ট করছে, তখন তারাই এসে আমার কাজের প্রশংসা করছে।”
তার এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমছে তার বাড়িতে। অনেক মোটরসাইকেল চালক ইতোমধ্যেই আগ্রহ প্রকাশ করছেন নিজেদের বাইককেও ব্যাটারিচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের জন্য। বর্তমান জ্বালানি সংকটে এটি একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রতনের প্রতিবেশী আবু হানিফ বলেন, “তেল কিনতে আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অথচ রতন খুব সহজেই চলাফেরা করছেন, খরচও খুব কম। আমিও এখন আমার বাইকটিকে ব্যাটারিতে রূপান্তর করার কথা ভাবছি।”
সচেতন মহলের মতে, পরিবেশ দূষণ কমানো, খরচ সাশ্রয় এবং স্থানীয় প্রযুক্তির বিকাশে এমন উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা মনে করছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে এই ধরনের উদ্যোগ আরও উন্নত ও টেকসই রূপ পাবে।
রতন মহন্তের এই উদ্ভাবন একদিকে যেমন ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প, তেমনি অন্যদিকে এটি একটি বড় প্রশ্নও ছুঁড়ে দেয়—আমরা কি এখনো প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল থাকবো, নাকি সময়ের দাবি মেনে বিকল্প শক্তির দিকে এগিয়ে যাবো? স্থানীয় পর্যায়ের এমন সৃজনশীল উদ্যোগগুলো যথাযথ মূল্যায়ন পেলে তা জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।