‘তোর বোনকে নিয়ে যা, না হলে মেরে ফেলব’

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় লিলি আকতার (২৮) নামে এক গৃহবধূকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধে হত্যার পর একে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ লিলি আকতারের স্বামী মো. মহিউদ্দিনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ বন্দর এলাকার বোচা তালুকদারের বাড়িতে সাবেক নারী ইউপি সদস্য রেজিয়া সুলতানার ঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত লিলি ওই এলাকার মো. মহিউদ্দিনের স্ত্রী এবং একই ইউনিয়নের উত্তর গুয়াপঞ্চক শাহ্ বাড়ির মৃত কামাল উদ্দিন শাহর মেয়ে। নয় বছর আগে তাদের বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই রাকিব উদ্দিন শাহ অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি রেজিয়া সুলতানা, স্বামী মহিউদ্দিন এবং ননদ মর্জিনা ও সাবরিনা লিলিকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। নির্যাতনের মাত্রা সহ্য করতে না পেরে লিলি কয়েক দিন আগেই বাবার বাড়িতে চলে এসেছিলেন। রাকিব উদ্দিন বলেন, গতকাল রাতে মহিউদ্দিন আমাকে ফোন করে হুমকি দেয়— ‘তোর বোনকে নিয়ে যা, তা না হলে মেরে ফেলব।’

‘তোর বোনকে নিয়ে যা, না হলে মেরে ফেলব’
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় লিলি আকতার (২৮) নামে এক গৃহবধূকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধে হত্যার পর একে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ লিলি আকতারের স্বামী মো. মহিউদ্দিনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ বন্দর এলাকার বোচা তালুকদারের বাড়িতে সাবেক নারী ইউপি সদস্য রেজিয়া সুলতানার ঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত লিলি ওই এলাকার মো. মহিউদ্দিনের স্ত্রী এবং একই ইউনিয়নের উত্তর গুয়াপঞ্চক শাহ্ বাড়ির মৃত কামাল উদ্দিন শাহর মেয়ে। নয় বছর আগে তাদের বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই রাকিব উদ্দিন শাহ অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি রেজিয়া সুলতানা, স্বামী মহিউদ্দিন এবং ননদ মর্জিনা ও সাবরিনা লিলিকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। নির্যাতনের মাত্রা সহ্য করতে না পেরে লিলি কয়েক দিন আগেই বাবার বাড়িতে চলে এসেছিলেন। রাকিব উদ্দিন বলেন, গতকাল রাতে মহিউদ্দিন আমাকে ফোন করে হুমকি দেয়— ‘তোর বোনকে নিয়ে যা, তা না হলে মেরে ফেলব।’ আমরা ভেবেছিলাম রাগের মাথায় বলছে। কিন্তু সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তারা আমাদের খবর দেয় লিলি আত্মহত্যা করেছে। আমি গিয়ে দেখি লিলি খাটের ওপর শুয়ে আছে। কিন্তু সে যদি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে থাকে, তবে নামাল কে? এ প্রশ্নের কোনো উত্তর তারা দেয়নি। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহতের আরেক বড় ভাই নিজাম উদ্দিন শাহ অভিযোগ করেন, ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকেলে বোনের লাশ বাড়িতে আনা হলেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন লিলির সন্তানদের শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখার সুযোগ পর্যন্ত দেয়নি। অভিযুক্ত শাশুড়ি ও সাবেক ইউপি সদস্য রেজিয়া সুলতানা জানান, রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। এরপর মহিউদ্দিন তার সন্তানদের নিয়ে দ্বিতীয় তলায় ঘুমাতে যান। সকালে লিলিকে ডাকতে গিয়ে দেখেন তিনি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছেন। তখন তারা লিলির বাবার বাড়িতে খবর পাঠান। কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের ভাই বাদী হয়ে স্বামী মহিউদ্দিন, শাশুড়ি রেজিয়া সুলতানা ও দুই ননদসহ চারজনকে আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেছেন। মামলার প্রধান আসামি মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow