তৌহিদ আহাম্মেদ লিখনের ভালোবাসার কবিতা...
ঈর্ষা ভালোবাসা তোমাকে ঈর্ষা করে সেই ঈর্ষায় পুড়ে যাচ্ছে আমার সবুজ প্রেম... তুমি আমাকে বিরহ পাঠাও, অভিমানগুচ্ছ ছড়িয়ে পড়ুক। নতমুখে ভেসে উঠুক বিরহের ছাপ পুরনো দেয়ালে শোভা পাক রঙের মসৃণতা হলুদ বিকেল এসে গল্প লিখুক তোমার নামে। যেখানে হারানোর ভয়, হতাশার ছাপ লেগে থাকে প্রতিটি ভোরে, সেইসব ভোর... মুছে যাচ্ছে এই সন্ধ্যায়। রোগ রাত গভীর হলে স্ক্যাবিসের মতো আক্রমণাত্মক হয় তোমার স্মৃতি। শেকড় ভাত খেতে বসে মনে পড়ছে মাকে, মনে পড়ছে দূর গ্রামের পথ। যে পথের বুকে একদিন খেলেছে আমার শৈশব- গ্রাম ছেড়ে দূরে এক ভিন্ন শহরে এসে জানলাম, মানুষ তার শেকড় উপড়ে ফেলতে বেশি পছন্দ করে। অন্যসব মানুষের মতো আমিও শেকড় উপড়ে ফেলতে চেষ্টা করে যাচ্ছি, পারছি না, বার বার ব্যর্থ হচ্ছি। আমার শেকড় এতোই গভীরে পৌঁছেছে যে, আমার থালায় সাদা ভাতের মতো স্মৃতি হয়ে ফোটে আছে... মৃত্যুর ইতিহাস তুমি এসে ফিরে যাবে এমন পুরনো বাড়ি ভাঙা দরজা খোলা জানালা ঘুণেধরা খুঁটি ঘরের মেঝেতে থাকা উইয়ের ঢিবী। তুমি এসে ফিরে যাবে... এমন একাকী দিনে শান্ত ঘুঘুর ডাক সেগুনের মায়াবী ছায়া হেমেন্তের মৃদু শীতল হাওয়ায় এমন খালি খালি লাগে ঘরের ভেতর থেকে কেউ হয়তো তোম
ঈর্ষা
ভালোবাসা তোমাকে ঈর্ষা করে
সেই ঈর্ষায় পুড়ে যাচ্ছে আমার সবুজ প্রেম...
তুমি আমাকে বিরহ পাঠাও,
অভিমানগুচ্ছ ছড়িয়ে পড়ুক।
নতমুখে ভেসে উঠুক বিরহের ছাপ
পুরনো দেয়ালে শোভা পাক রঙের মসৃণতা
হলুদ বিকেল এসে গল্প লিখুক তোমার নামে।
যেখানে হারানোর ভয়, হতাশার ছাপ
লেগে থাকে প্রতিটি ভোরে,
সেইসব ভোর... মুছে যাচ্ছে এই সন্ধ্যায়।
রোগ
রাত গভীর হলে স্ক্যাবিসের মতো
আক্রমণাত্মক হয় তোমার স্মৃতি।
শেকড়
ভাত খেতে বসে মনে পড়ছে মাকে,
মনে পড়ছে দূর গ্রামের পথ।
যে পথের বুকে একদিন খেলেছে আমার শৈশব-
গ্রাম ছেড়ে দূরে এক ভিন্ন শহরে এসে জানলাম,
মানুষ তার শেকড় উপড়ে ফেলতে বেশি পছন্দ করে।
অন্যসব মানুষের মতো আমিও
শেকড় উপড়ে ফেলতে চেষ্টা করে যাচ্ছি,
পারছি না, বার বার ব্যর্থ হচ্ছি।
আমার শেকড় এতোই গভীরে পৌঁছেছে যে,
আমার থালায় সাদা ভাতের মতো স্মৃতি হয়ে ফোটে আছে...
মৃত্যুর ইতিহাস
তুমি এসে ফিরে যাবে
এমন পুরনো বাড়ি
ভাঙা দরজা
খোলা জানালা
ঘুণেধরা খুঁটি
ঘরের মেঝেতে থাকা উইয়ের ঢিবী।
তুমি এসে ফিরে যাবে...
এমন একাকী দিনে
শান্ত ঘুঘুর ডাক
সেগুনের মায়াবী ছায়া
হেমেন্তের মৃদু শীতল হাওয়ায়
এমন খালি খালি লাগে
ঘরের ভেতর থেকে কেউ হয়তো
তোমাকে হারায়,
উইয়ের মৃত্যু লেখা থাকে
নিজের পাখনায়।
বিচ্ছেদ
কথা দিয়ে ছিনিয়ে নিয়েছ প্রেম
কথার ভিড়ে হারিয়ে গেছো দূরে...
তোমার গোপন প্রেম
বুঝে নিতে হবে এই রাতে।
অদ্ভুত ব্যথার প্রভাব
বুকে এসে বাঁধে গোপন ঘর।
জেনে রাখা ভালো,
বিশ্বাসের আলো একবার নিভে গেলে
ভালোবাসায় অন্ধকার নেমে আসে।
ব্যক্তিগত অবহেলা
বারান্দায় গিয়ে দেখি
টবের গাছ থেকে ঝরে পড়লো একটি ফুল,
সেই ফুলকে তোমার হাসি ভেবে
তুলে আনলাম এই সন্ধ্যায়!
কাচের ফুলদানিতে রেখে দিলাম যত্নকরে।
আজ কোথাও না গিয়ে—
রুমের মধ্যেই শুয়ে থাকলাম একা।
দেখলাম, ফুল শুকিয়ে যাচ্ছে...
আর ভাবতে থাকলাম—
আজ হয়তো তোমার মন খারাপ
কল্পনা করলাম— হাসিহীন তোমার ম্লান মুখ!
গতকাল তুমি মেসেজ করো নি
জানো, সেই কষ্টে বারান্দায় আসা চড়ুইপাখি
ছটফট করতে করতে মারা গেলো....
মন খারাপ হলে
মন খারাপ হলে— কার কথা ভাবো!
হালকা শীতের রাতে—
জ্যোৎস্নায় ভেজা তোমার দুটি চোখ
কার জন্য দৃষ্টি খোলে ভোরে?
ভাঙা চশমা, তোমার হাতঘড়ি
পুরোনো দিনের গান;
স্মৃতির মিনারে আঁকা ফেলে আসা দিন
এইসব এখন কেবলই মায়া...
শুধু একবার আমাকে তুমি বলো,
মন খারাপ হলে—
তুমি কার কথা ভাবো, কার কাছে যাও?
অজুহাত
যাকে দেখলে ভালো লাগে
তাকে দেখছো জানলা দিয়ে।
সূর্য হারায় আড়ালে
পাতা ঝরছে আঙিনায়,
ভাতের মার ফেলতে গিয়ে পুড়ে ফেলছো হাত,
আগুন জ্বলছে বুকে—
আমার দিকে ছুটে আসছে তোমার অজুহাত...
স্বপ্নে তোমাকে
রাস্তার পাশে হলুদ ফসলের মাঠ
মাঠে মাঠে ছড়িয়ে পড়ছে তোমার হাসি।
হাসির সাথে ছড়িয়ে পড়ছে মায়া...
দীর্ঘ হচ্ছে ডিসম্বরের রাত;
ভোরের মতো ছুটছি তোমার দিকে।
আমি পথভ্রষ্ট পথিক,
পাকা ধানখেতের আইল ধরে–
স্বপ্নে— তোমাকে হেঁটে যেতে দেখেছি একা...
সিসি ক্যামেরা
তোমাকে মনে পড়লে অস্থির লাগে
এই অস্থির হৃদয় আর কাকে দিব বলো?
অশ্রুভেজা অশান্ত আমার দুটি চোখ
তোমাকে দেখার জন্য ছটফট করে;
ইচ্ছে করে চোখ দুটো খুলে, সিসি ক্যামেরার মত—
ঝুলিয়ে রাখি তোমার রুমের ভেতর
তুমি যখন যা কিছু করো
যেন সারাক্ষণ তোমাকে দেখতে পাই।
কবি পরিচিতি : তৌহিদ আহাম্মেদ লিখন। জন্ম ৪ এপ্রিল। বেড়ে ওঠেন বহ্মপুত্র নদ ও গারো পাহারের পাদদেশে অবস্থিত সবুজঘেরা গ্রামে। বর্তমানে বসবাস করছেন ঢাকায়। গান, কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনি লিখে নিজের একাকীত্ব যাপন করেন। এছাড়াও একটি স্বনামধন্য প্রকাশনা ও পত্রিকার সম্পাদনা এবং গ্রাফিক ডিজাইনের কাজে নিয়োজিত আছেন।
What's Your Reaction?