ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে হোয়াইট চকলেট কীভাবে কাজ করে

চকলেট খেতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন। ডার্ক চকলেট হোক কিংবা হোয়াইট চকলেট-দুটারই আলাদা আলাদা ভক্ত আছে। বিশেষ করে হোয়াইট চকলেটের ক্রিমি স্বাদ অনেকের কাছে খুব প্রিয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়, হোয়াইট চকলেট ত্বকের যত্নে উপকারী এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু এই কথার বৈজ্ঞানিকভাবে সত্য আছে? এই দাবির পেছনের সত্যতা বোঝার আগে জানা দরকার-হোয়াইট চকলেট আসলে কী দিয়ে তৈরি। তারপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, এটি ত্বকের জন্য সত্যিই উপকারী কি না। হোয়াইট চকলেটকে প্রকৃত অর্থে ‘চকলেট’ বলা যায় না। এটি মূলত কোকো বাটার, দুধ, চিনি ও ফ্লেভারিং উপাদান দিয়ে তৈরি হয়। এ কারণে হোয়াইট চকলেট খেলে সরাসরি ত্বক উজ্জ্বল হয় বা গ্লো বাড়ে এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তবে এতে থাকা কিছু উপাদান ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। হোয়াইট চকলেটের যে উপাদান ত্বকের যত্নে কাজ করেহোয়াইট চকলেটের মূল উপাদান কোকো বাটারে স্যাচুরেটেড ও মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের একটি বিশেষ মিশ্রণ থাকে, যা মানুষের ত্বকের প্রাকৃতিক লিপিডের সঙ্গে বেশ মিল রাখে। এই লিপিডগুলো ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহা

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে হোয়াইট চকলেট কীভাবে কাজ করে

চকলেট খেতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন। ডার্ক চকলেট হোক কিংবা হোয়াইট চকলেট-দুটারই আলাদা আলাদা ভক্ত আছে। বিশেষ করে হোয়াইট চকলেটের ক্রিমি স্বাদ অনেকের কাছে খুব প্রিয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়, হোয়াইট চকলেট ত্বকের যত্নে উপকারী এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু এই কথার বৈজ্ঞানিকভাবে সত্য আছে? এই দাবির পেছনের সত্যতা বোঝার আগে জানা দরকার-হোয়াইট চকলেট আসলে কী দিয়ে তৈরি। তারপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, এটি ত্বকের জন্য সত্যিই উপকারী কি না।

হোয়াইট চকলেটকে প্রকৃত অর্থে ‘চকলেট’ বলা যায় না। এটি মূলত কোকো বাটার, দুধ, চিনি ও ফ্লেভারিং উপাদান দিয়ে তৈরি হয়। এ কারণে হোয়াইট চকলেট খেলে সরাসরি ত্বক উজ্জ্বল হয় বা গ্লো বাড়ে এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তবে এতে থাকা কিছু উপাদান ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

dfrt

হোয়াইট চকলেটের যে উপাদান ত্বকের যত্নে কাজ করে
হোয়াইট চকলেটের মূল উপাদান কোকো বাটারে স্যাচুরেটেড ও মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের একটি বিশেষ মিশ্রণ থাকে, যা মানুষের ত্বকের প্রাকৃতিক লিপিডের সঙ্গে বেশ মিল রাখে। এই লিপিডগুলো ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং শুষ্কতা কমায়।

প্রসাধনী ত্বকবিদ্যার বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কোকো বাটার ত্বকের প্রাকৃতিক বাধা (স্কিন ব্যারিয়ার) শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। ফলে ত্বক দীর্ঘ সময় হাইড্রেটেড থাকে এবং পরিবেশগত ক্ষতির বিরুদ্ধে কিছুটা সুরক্ষা পায়।

যদিও হোয়াইট চকলেটে ডার্ক চকলেটের মতো উচ্চমাত্রার ফ্ল্যাভোনয়েড নেই, তবুও কোকো বাটারে থাকা পলিফেনলের ক্ষুদ্র পরিমাণ ত্বকের জন্য কিছুটা উপকারী হতে পারে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো ত্বকের র‍্যাডিকেল কমাতে সাহায্য করে, যা ত্বকের আগাম বার্ধক্য ত্বরান্বিত করে।

কিছু পুষ্টিবিদ মনে করেন, হোয়াইট চকলেটের সঙ্গে গ্রিন টি গ্রহণ করলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রভাব কিছুটা বাড়তে পারে। গ্রিন টি প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, রক্তসঞ্চালন উন্নত করে এবং ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। তবে এটিকে কোনো ম্যাজিক সমাধান বলা যাবে না।

কোকো বাটার ত্বকের যে উপকার করে
হোয়াইট চকলেটে ব্যবহৃত কোকো বাটার একটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। এটি ত্বককে নরম, কোমল ও হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। কোকো বাটারে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের শুষ্কতা কমায় এবং একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা শুষ্ক বাতাস ও ধুলাবালির ক্ষতি থেকে ত্বককে কিছুটা রক্ষা করে।

নিয়মিত ব্যবহারে কোকো বাটার ত্বকের খসখসে ভাব কমাতে, ত্বক মসৃণ করতে এবং শুষ্কতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

সতর্কতা
হোয়াইট চকলেট খেলে ত্বক উজ্জ্বল হয়, এমন কোনো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং অতিরিক্ত হোয়াইট চকলেট খেলে এতে থাকা চিনি ও ফ্যাট ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বেশি চিনি গ্রহণ করলে ব্রণ, অতিরিক্ত তেলাভাব এবং ইনফ্ল্যামেশনের ঝুঁকি বাড়ে। যাদের ত্বক সংবেদনশীল বা ব্রণ বেশি হয়, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হোয়াইট চকলেট উল্টা সমস্যা তৈরি করতে পারে।

তাই হোয়াইট চকলেট খেতে চাইলে খেতে পারেন-স্বাদের জন্য। কিন্তু ত্বকের উজ্জ্বলতার জন্য ভরসা রাখতে হবে সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং নিয়মিত স্কিনকেয়ার রুটিনের ওপরই।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুন:
ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে পেঁপে ব্যবহার করবেন যেভাবে 
রাত জেগে কাজ করলে ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে 

এসএকেওয়াই/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow