থানচিতে পর্যটকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করায় গাইড বহিষ্কার

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় পর্যটকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করায় নিবন্ধিত এক পর্যটক গাইডকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১০ আগস্ট) জারি করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। গত ২ আগস্ট থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত নয় দিনের ব্যবধানে এ নিয়ে মোট তিনজন পর্যটক গাইডকে বহিষ্কার করা হলো। থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-ফয়সাল স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, থানচি উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত পর্যটক গাইড সাশৈ থোয়াই মার্মা, পিতা- চাই অং প্রু মার্মা, সাং- ঐলাওয়া পাড়া, ৬ নং ওয়ার্ড, থানচি, বান্দরবান কর্তৃক প্রশাসনের নিয়ম অমান্য করে পর্যটন তথ্য সেবা কেন্দ্রের সামনে ০৮/০৯/২০২৬ তারিখ পর্যটকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার কারণে সাশৈ থোয়াই মার্মা, পিতা- চাই অং প্রু মার্মা পর্যটক গাইড আইডি নম্বর- ০৪৩ কে অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিষ্কার করা হলো। গত ৮ আগস্টের ঘটনা হলেও প্রশাসনের অফিস আদেশে ভুল করে ৮ সেপ্টেম্বর লেখা হয়েছে। এছাড়া ৮ আগস্টের ঘটনায় শুধু গাইড সাশৈ থোয়াই মার্মাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু পর্যটকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়া গাইড মোহাম্মদ মামুন ও তার সহযোগী তৌহ

থানচিতে পর্যটকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করায় গাইড বহিষ্কার

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় পর্যটকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করায় নিবন্ধিত এক পর্যটক গাইডকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১০ আগস্ট) জারি করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

গত ২ আগস্ট থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত নয় দিনের ব্যবধানে এ নিয়ে মোট তিনজন পর্যটক গাইডকে বহিষ্কার করা হলো।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-ফয়সাল স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, থানচি উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত পর্যটক গাইড সাশৈ থোয়াই মার্মা, পিতা- চাই অং প্রু মার্মা, সাং- ঐলাওয়া পাড়া, ৬ নং ওয়ার্ড, থানচি, বান্দরবান কর্তৃক প্রশাসনের নিয়ম অমান্য করে পর্যটন তথ্য সেবা কেন্দ্রের সামনে ০৮/০৯/২০২৬ তারিখ পর্যটকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার কারণে সাশৈ থোয়াই মার্মা, পিতা- চাই অং প্রু মার্মা পর্যটক গাইড আইডি নম্বর- ০৪৩ কে অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিষ্কার করা হলো।

থানচিতে পর্যটকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করায় গাইড বহিষ্কার

গত ৮ আগস্টের ঘটনা হলেও প্রশাসনের অফিস আদেশে ভুল করে ৮ সেপ্টেম্বর লেখা হয়েছে। এছাড়া ৮ আগস্টের ঘটনায় শুধু গাইড সাশৈ থোয়াই মার্মাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু পর্যটকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়া গাইড মোহাম্মদ মামুন ও তার সহযোগী তৌহিদসহ অন্যদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি উপজেলা প্রশাসন।

থানচিতে পর্যটক ও ট্রাভেল নেতাদের ওপর হামলা, গাইড সিন্ডিকেটের ‘মোরাল পুলিশিং’ এবং প্রশাসনের নীরবতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর আগে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেয় অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রেকিং ট্যুর অপারেটরস বাংলাদেশ ‘এটব’।

গত রোববার (৯ আগস্ট) এটবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, থানচিতে ঘটে যাওয়া এক বর্বরোচিত ঘটনায়, আমাদের সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি নিবন্ধিত না হলেও আমাদেরই পর্যটন পরিবারের একজন সদস্য নাজমুল ও তার দলের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। তার স্ত্রীসহ নারী পর্যটকদের অত্যন্ত অমানবিক ও লজ্জাজনকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এমনকি গাইড মামুন প্রকাশ্যে নাজমুলকে সাঙ্গু নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার মতো সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেয়, যা যেকোনো সভ্য সমাজে সম্পূর্ণ অকল্পনীয় ও ভীতিকর। পর্যটন শিল্পকে বাঁচানোর খাতিরে আমরা এতদিন ধৈর্য ধারণ করলেও, গাইডদের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এখন সব সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

এমতাবস্থায়, আমাদের সংগঠন থেকে প্রশাসনের সঙ্গে প্রশাসনিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে এর মাধ্যমে যদি দ্রুত ও সন্তোষজনক কোনো সুরাহা না হয়, তবে আমাদের এই সহযোদ্ধা নাজমুল ও তার পরিবারের পাশে ‘এটব’ সর্বশক্তি নিয়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে।

এটব জানিয়েছে, গাইড মামুন, সই সোঁ মারমা, তৌহিদ এবং তাদের সহযোগীরা থানচিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা নিজেদের আইন প্রণেতা ভেবে পর্যটকদের ওপর বেআইনি ‘মোরাল পুলিশিং’ চালিয়ে যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই চক্রের বিরুদ্ধে বারবার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেওয়ার পরও তাদের স্থায়ীভাবে অপসারণ না করা এবং প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা দেখে আমাদের সংগঠনের সবার মনে তীব্র সন্দেহ দানা বেঁধেছে যে, এই সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের পেছনে খোদ স্থানীয় প্রশাসনেরই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইন্ধন রয়েছে।

তীব্র নিন্দা ওটাবের

সম্প্রতি থানচিতে একটি ট্রাভেল গ্রুপের অ্যাডমিন ও পর্যটকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, হেনস্তা ও গালিগালাজের অভিযোগ এবং নারী পর্যটকের সঙ্গে অশোভন আচরণের ঘটনায় অনলাইন ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশও (ওটাব) গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ওটাব জানিয়েছে, ট্রাভেল গ্রুপের অ্যাডমিন ও ট্যুর অপারেটরদের উদ্দেশ্যে ট্যুর গাইড ‘দালাল’ ও ‘ইভেন্ট ব্যবসায়ী’—এ ধরনের অবমাননাকর ও অসম্মানজনক শব্দ ব্যবহার করে হেয় করার প্রবণতাও অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে মতভেদ কিংবা কোনো অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই শালীনতা, পারস্পরিক সম্মান ও প্রচলিত নিয়মের মধ্যে সমাধান করা উচিত।

পর্যটকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে থানচির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। তাদের নিরাপত্তা, সম্মান এবং স্বাভাবিকভাবে ভ্রমণের পরিবেশ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। কোনো পর্যটক বা ট্রাভেল গ্রুপের সদস্যকে হেনস্তা, গালিগালাজ বা অসম্মান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিশেষ করে নারী পর্যটকের সঙ্গে যেকোনো ধরনের অশোভন আচরণের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।

থানচির পর্যটন শিল্প স্থানীয় গাইড, ট্যুর অপারেটর, হোটেল-রিসোর্ট ব্যবসায়ী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং পর্যটক—সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মানের পরিবর্তে বিভাজন, অপমান এবং হয়রানির পরিবেশ তৈরি হলে তা পুরো পর্যটন খাতের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

ওটাব প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে, ঘটনাগুলো নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কোনো পর্যটক, ট্রাভেল গ্রুপ বা নারী পর্যটক এমন পরিস্থিতির শিকার না হন, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

আগস্টেই ৩ গাইড বহিষ্কার

সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে গত ২ আগস্ট একজন এবং ৬ আগস্ট আরও একজন গাইডকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ফলে চলতি আগস্ট মাসে এ পর্যন্ত তিনজন পর্যটক গাইড বহিষ্কারের মুখে পড়েছেন। ধারাবাহিক এই বহিষ্কারের ঘটনায় থানচির পর্যটক গাইড ব্যবস্থাপনা, গাইডদের আচরণবিধি ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

থানচির পাহাড়, ঝরনা, খুম, নদী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সুন্দর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় গাইডদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গাইডদের অনিয়ম ও পর্যটকদের সঙ্গে অসদাচরণের প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না; এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পুরো পর্যটন খাতের ওপর। তাই গাইডদের আচরণবিধি মেনে চলা, প্রশাসনের নির্দেশনা পালন এবং পর্যটকদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।

থানচির ইউএনও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল বাসসকে বলেন, থানচির পর্যটন খাতকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও পর্যটকবান্ধব করতে নিবন্ধিত গাইডদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আচরণবিধি সম্পর্কে সচেতনতা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এমএমএআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow