থুথু দিয়ে টাকা গোনার অভ্যাস বাড়াচ্ছে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি

ব্যাংক, দোকান, বাজার কিংবা বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে টাকা গোনার সময় আঙুলে মুখের লালা বা থুথু লাগানো  খুবই পরিচিত দৃশ্য। অনেকেই কাজের সুবিধার জন্য এটি করে থাকেন এবং বিষয়টিকে একেবারেই স্বাভাবিক বলে মনে করেন। কিন্তু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছোট অভ্যাসই অজান্তে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। কাগজের নোট প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের হাত ঘুরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছায়। এই নোটের গায়ে বিভিন্ন ধরনের অণুজীব জমা হতে পারে। আর সেই নোট স্পর্শ করার পর আঙুলে থুথু লাগিয়ে আবার মুখে বা নোটে স্পর্শ করলে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। কাগজের নোটে কতটা জীবাণু থাকতে পারে গবেষণায় দেখা গেছে, কাগজের মুদ্রা বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অন্যান্য অণুজীব বহন করতে পারে। কারণ একটি নোট প্রতিদিন বহু মানুষের হাত ঘুরে, বিভিন্ন পরিবেশে থাকে এবং ধুলো, ঘাম ও ময়লার সংস্পর্শে আসে। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ডার্টি মানি প্রজেক্ট- এ গবেষকেরা কাগজের নোটে হাজারো ধরনের অণুজীবের উপস্থিতি শনাক্ত করেন। তবে এসব অণুজীবের উপস্থিতি মানেই সবাই অসুস্থ হয়ে পড়বেন, এমন নয়। সংক্রমণের ঝুঁকি নির্ভর

থুথু দিয়ে টাকা গোনার অভ্যাস বাড়াচ্ছে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি

ব্যাংক, দোকান, বাজার কিংবা বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে টাকা গোনার সময় আঙুলে মুখের লালা বা থুথু লাগানো  খুবই পরিচিত দৃশ্য। অনেকেই কাজের সুবিধার জন্য এটি করে থাকেন এবং বিষয়টিকে একেবারেই স্বাভাবিক বলে মনে করেন। কিন্তু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছোট অভ্যাসই অজান্তে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

কাগজের নোট প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের হাত ঘুরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছায়। এই নোটের গায়ে বিভিন্ন ধরনের অণুজীব জমা হতে পারে। আর সেই নোট স্পর্শ করার পর আঙুলে থুথু লাগিয়ে আবার মুখে বা নোটে স্পর্শ করলে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।

কাগজের নোটে কতটা জীবাণু থাকতে পারে

গবেষণায় দেখা গেছে, কাগজের মুদ্রা বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অন্যান্য অণুজীব বহন করতে পারে। কারণ একটি নোট প্রতিদিন বহু মানুষের হাত ঘুরে, বিভিন্ন পরিবেশে থাকে এবং ধুলো, ঘাম ও ময়লার সংস্পর্শে আসে।

নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ডার্টি মানি প্রজেক্ট- এ গবেষকেরা কাগজের নোটে হাজারো ধরনের অণুজীবের উপস্থিতি শনাক্ত করেন। তবে এসব অণুজীবের উপস্থিতি মানেই সবাই অসুস্থ হয়ে পড়বেন, এমন নয়। সংক্রমণের ঝুঁকি নির্ভর করে জীবাণুর ধরন, পরিমাণ, ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর।

থুথু লাগানো যে কারণে ঝুঁকিপূর্ণ?

চিকিৎসকদের মতে, আঙুলে থুথু লাগিয়ে টাকা গোনার সময় দুটি দিক থেকেই সংক্রমণের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

প্রথমত নোটের গায়ে থাকা ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য জীবাণু আঙুলের মাধ্যমে মুখে প্রবেশ করতে পারে। সেখান থেকে তা পরিপাকতন্ত্রে বা শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

দ্বিতীয়ত যদি আপনার মুখে কোনো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা সংক্রমণ থাকে, তাহলে থুথুর মাধ্যমে তা নোটে লেগে যেতে পারে। পরে সেই নোট অন্য কেউ স্পর্শ করলে তার কাছেও জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

যে ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা হতে পারে

বিশেষজ্ঞদের মতে, নোটে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যার মধ্যে ই. কোলাই বা সালমোনেলা-এর মতো জীবাণুও থাকতে পারে। এগুলো শরীরে প্রবেশ করলে ডায়রিয়া, পেটব্যথা, বমি বা খাদ্যজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এ ছাড়া স্ট্যাফাইলোকক্কাস জাতীয় ব্যাকটেরিয়া ত্বকের সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। আবার বিভিন্ন ধরনের ছত্রাকের স্পোর সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অ্যালার্জি বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তবে শুধু নোট স্পর্শ করলেই এসব রোগ হবে না। ঝুঁকি বাড়ে তখনই, যখন নোংরা হাত বা থুথুর মাধ্যমে জীবাণু মুখ, চোখ বা নাকের সংস্পর্শে আসবে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে

শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। একইভাবে ব্যাংককর্মী, দোকানদার, ক্যাশিয়ার বা যারা প্রতিদিন প্রচুর নগদ টাকা স্পর্শ করেন, তাদেরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।

যেভাবে এই ঝুঁকি কমাবেন

টাকা গোনার সময় আঙুলে কখনোই থুথু লাগাবেন না। প্রয়োজনে ব্যাংক বা অফিসে ব্যবহৃত আঙুল ভেজানোর স্পঞ্জ প্যাড বা ফিঙ্গার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।

নগদ টাকা ধরার পর সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন। হাত ধোয়ার সুযোগ না থাকলে অ্যালকোহলভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে পারেন। টাকা ধরার পর হাত না ধুয়ে চোখ, নাক বা মুখে হাত দেওয়া থেকেও বিরত থাকুন।

টাকা আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অপরিহার্য অংশ, কিন্তু এর মাধ্যমে জীবাণুও এক হাত থেকে আরেক হাতে পৌঁছাতে পারে। তাই আঙুলে থুথু লাগিয়ে টাকা গোনার মতো অভ্যাস যত দ্রুত দূর করতে হবে। সামান্য এই সচেতনতাই আপনাকে এবং আপনার আশপাশের মানুষকে অপ্রয়োজনীয় সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে।

সূত্র: নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ডার্টি মানি প্রজেক্ট, টাইমস অব ইন্ডিয়া, হেলথ লাইন ও অন্যান্য

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow