দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ হারালেন প্রবাসী সোহান

দারিদ্র্যের শৃঙ্খল ভেঙে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসে পাড়ি দিয়েছিলেন তরুণ সোহান। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা সেই স্বপ্নকে রক্তাক্ত করে থামিয়ে দিল একঝাঁক বুলেটের আঘাতে। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিথর হয়ে পড়লেন তিনি। ফিরলেন না জীবিত, ফিরলেন লাশ হয়ে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের কেতলেহং এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। নিহত সোহান রাণীশংকৈল উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের চিকনমাটি গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে। পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়তে ধার-কর্জ করে তাকে বিদেশে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি কাজ করতেন একটি ছোট মুদি দোকানে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ যায়। দোকানের মালিক মোমবাতি আনতে পেছনের দিকে গেলে, ওঁত পেতে থাকা সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা দোকানে ঢুকে পড়ে এবং অতর্কিতভাবে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন সোহান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের চাচা দেলোয়ার হোসেন বলেন, বহু কষ্টে ধার-দেনা করে সোহানকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠানো হয়েছিল। হঠাৎ তার মৃত্যুর সংবাদে পরিবার শোকে ভেঙে পড়েছে। তারা বলেন, কী কারণে তাকে হত্যা করা

দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ হারালেন প্রবাসী সোহান

দারিদ্র্যের শৃঙ্খল ভেঙে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসে পাড়ি দিয়েছিলেন তরুণ সোহান। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা সেই স্বপ্নকে রক্তাক্ত করে থামিয়ে দিল একঝাঁক বুলেটের আঘাতে। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিথর হয়ে পড়লেন তিনি। ফিরলেন না জীবিত, ফিরলেন লাশ হয়ে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের কেতলেহং এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।

নিহত সোহান রাণীশংকৈল উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের চিকনমাটি গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে। পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়তে ধার-কর্জ করে তাকে বিদেশে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি কাজ করতেন একটি ছোট মুদি দোকানে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ যায়। দোকানের মালিক মোমবাতি আনতে পেছনের দিকে গেলে, ওঁত পেতে থাকা সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা দোকানে ঢুকে পড়ে এবং অতর্কিতভাবে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন সোহান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের চাচা দেলোয়ার হোসেন বলেন, বহু কষ্টে ধার-দেনা করে সোহানকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠানো হয়েছিল। হঠাৎ তার মৃত্যুর সংবাদে পরিবার শোকে ভেঙে পড়েছে। তারা বলেন, কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও গুলিবিদ্ধ হয়েই তার মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছেন।

মামা মহরম আলী মিঠু বলেন, আমরা সরকারের কাছে আবেদন করছি, অন্তত মরদেহটা যেন দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়। পরিবারের সদস্যরা ছেলেটিকে শেষবার নিজেদের হাতে দাফন করতে চান।

মা সাহিনুর বেগম ছেলের মৃত্যুসংবাদ শোনার পর বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। কান্নাজড়ানো কণ্ঠে তিনি বলেন, ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেক কষ্টে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। আজ তার মৃত্যুর খবর শুনতে হলো। আমরা আমাদের ছেলেকে আর জীবিত ফিরে পাব না, তবে তার মরদেহ যেন দেশে এনে নিজের হাতে দাফন করতে পারি, সেই ব্যবস্থা চাই।

রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, 'বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে পুলিশ সদস্যদের নিহতের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য উচ্চপর্যায়ে আবেদন জানানো হয়েছে।'

প্রবাসে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা নতুন নয়। তবুও প্রতিটি মৃত্যু নতুন করে নাড়া দেয় বিবেককে। সোহানের এই মর্মান্তিক পরিণতি আবারও প্রশ্ন তুলেছে, প্রবাসে আমাদের শ্রমিকরা কতটা নিরাপদ?

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow