দাফনের পর মৃত ব্যক্তি কি স্বজনদের কথা বা আওয়াজ শুনতে পান?

মানুষের নশ্বর জীবনের সমাপ্তি ঘটে মৃত্যুর মাধ্যমে। মৃত্যুর পর একজন মানুষ যখন পরকালীন জীবনের প্রথম ধাপ ‘আলমে বরজখ’ বা কবরের জগতে প্রবেশ করে, তখন তার শ্রবণ বা অনুভবের ক্ষমতা কতটুকু থাকে—এটি একটি চিরন্তন জিজ্ঞাসার বিষয়। বিশেষ করে প্রিয়জন মারা গেলে তার গোসল, কাফন-দাফন কিংবা জানাজার সময় মৃত ব্যক্তি আমাদের কথাবার্তা বা কান্নাকাটি শুনতে পান কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানাবিধ ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এ বিষয়ে কোরআন ও হাদিসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পাওয়া যায়। তবে মৃত ব্যক্তির শ্রবণক্ষমতা নিয়ে সব পরিস্থিতির জন্য একই ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায় না। বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে তার ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ প্রদান করেছেন। তার মতে, মৃত্যুর পরবর্তী শ্রবণ ক্ষমতা নিয়ে মনগড়া কোনো ধারণা পোষণের সুযোগ নেই, বরং এ ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুনির্দিষ্ট হাদিসগুলোই আমাদের মূল ভিত্তি।  দাফনের পূর্ব মুহূর্তের অবস্থা সাধারণত মনে করা হয়, মৃত ব্যক্তি তার চারপাশে যা ঘটছে, বিশেষ করে আত্মীয়-স্বজনের কান্না বা গোসলের সময়কার মুভমে

দাফনের পর মৃত ব্যক্তি কি স্বজনদের কথা বা আওয়াজ শুনতে পান?
মানুষের নশ্বর জীবনের সমাপ্তি ঘটে মৃত্যুর মাধ্যমে। মৃত্যুর পর একজন মানুষ যখন পরকালীন জীবনের প্রথম ধাপ ‘আলমে বরজখ’ বা কবরের জগতে প্রবেশ করে, তখন তার শ্রবণ বা অনুভবের ক্ষমতা কতটুকু থাকে—এটি একটি চিরন্তন জিজ্ঞাসার বিষয়। বিশেষ করে প্রিয়জন মারা গেলে তার গোসল, কাফন-দাফন কিংবা জানাজার সময় মৃত ব্যক্তি আমাদের কথাবার্তা বা কান্নাকাটি শুনতে পান কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানাবিধ ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এ বিষয়ে কোরআন ও হাদিসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পাওয়া যায়। তবে মৃত ব্যক্তির শ্রবণক্ষমতা নিয়ে সব পরিস্থিতির জন্য একই ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায় না। বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে তার ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ প্রদান করেছেন। তার মতে, মৃত্যুর পরবর্তী শ্রবণ ক্ষমতা নিয়ে মনগড়া কোনো ধারণা পোষণের সুযোগ নেই, বরং এ ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুনির্দিষ্ট হাদিসগুলোই আমাদের মূল ভিত্তি।  দাফনের পূর্ব মুহূর্তের অবস্থা সাধারণত মনে করা হয়, মৃত ব্যক্তি তার চারপাশে যা ঘটছে, বিশেষ করে আত্মীয়-স্বজনের কান্না বা গোসলের সময়কার মুভমেন্ট অনুভব করতে পারেন। তবে শায়খ আহমাদুল্লাহ তার আলোচনায় বলেন, ‘কোনো মানুষ মারা যাওয়ার পর তাকে গোসল দেওয়ার সময়, কাফন পরানোর সময় কিংবা তার আত্মীয়-স্বজনের কান্নাকাটি ও কথাবার্তা মৃত ব্যক্তি পুরোপুরি শুনতে পান বা অনুভব করেন—এমন কথা কোনো হাদিসে সরাসরি বর্ণিত হয়নি। অর্থাৎ, দাফনের পূর্ব পর্যন্ত এই ধরনের অনুভবী শক্তির কথা শরিয়ত দ্বারা প্রমাণিত নয়।’ কবরস্থ হওয়ার পর জুতার শব্দ শোনা হাদিসের ভাষ্য হলো, মৃত ব্যক্তির শোনার ক্ষমতা মূলত শুরু হয় তাকে কবরস্থ করার পর থেকে। এ প্রসঙ্গে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত সহিহ বোখারির একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোনো ব্যক্তিকে যখন কবরে রাখা হয় এবং দাফন শেষে তার আত্মীয়-স্বজনরা যখন ফিরে যেতে থাকে, তখন মৃত ব্যক্তি তাদের পায়ের জুতার আওয়াজ পর্যন্ত শুনতে পান।’ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘এর মাধ্যমে বোঝা যায়, কবরস্থ হওয়ার পর মৃত ব্যক্তি তার আশেপাশের মানুষের মুভমেন্ট বা তাকে জিয়ারত করতে আসার বিষয়টি অনুভব করতে পারেন। সালামের জবাব ও পরিচিতদের সান্নিধ্য কবরের জগতে মৃত ব্যক্তি কেবল জুতার শব্দই শোনেন না, বরং কেউ তাকে সালাম দিলে তিনি তার উত্তরও দিতে পারেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে জানা যায়, দুনিয়াতে পরিচিত কোনো ব্যক্তি যদি মৃত ব্যক্তির কবরের পাশে গিয়ে সালাম পেশ করে বা জিয়ারত করে, তবে মৃত ব্যক্তি সেটি অনুভব করতে পারেন। শায়খ আহমাদুল্লাহ ব্যাখ্যা করেন যে, এমতাবস্থায় আল্লাহ তাআলা মৃত ব্যক্তির মধ্যে এক প্রকার রুহ ফেরত দেন, যার ফলে তিনি জিয়ারতকারীর সালামের জবাব বা রিপ্লাই দিতে সক্ষম হন।  বরজখী জীবনের বিশেষ অনুভব মৃত্যুর পর মানুষের এই শ্রবণ বা অনুভবের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতের বা ‘বারজাখী’ জীবনের অংশ। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, আল্লাহ তাআলা মৃত ব্যক্তিকে একটি বিশেষ রুহ বা অনুভবী শক্তি দিয়ে থাকেন, যার মাধ্যমে তিনি কবরের শাস্তি কিংবা নেয়ামত অনুভব করতে পারেন। এটি কেবল মহান আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন যে এই প্রক্রিয়ার প্রকৃত স্বরূপ কী। তবে শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী, দাফনের পরের এই নির্দিষ্ট বিষয়গুলো ছাড়া অন্য কোনো সময় মৃত ব্যক্তির শোনার বিষয়ে হাদিসে বিস্তারিত কিছু পাওয়া যায় না।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow