দাম-ক্রেতা সংকটে ফেরত ৩০ হাজার গরু, দুশ্চিন্তায় পাবনার খামারিরা

কোরবানির ঈদকে ঘিরে বছরজুড়ে স্বপ্ন বুনেছিলেন পাবনার খামারিরা। বাড়তি লাভের আশায় পরম যত্নে লালন-পালন করেছেন গরু। কিন্তু ঈদের হাটে সেই স্বপ্নের দেখা মেলেনি। ক্রেতা সংকট ও প্রত্যাশার তুলনায় কম দামের কারণে জেলার বিভিন্ন হাট থেকে প্রায় ৩০ হাজার গরু অবিক্রিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হয়েছে খামারিদের। খামারিরা বলছেন, পরিবহন খরচ, পশুর খোরাকি ও ঋণের কিস্তির চাপ মিলিয়ে এখন চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। দ্রুত বিক্রির সুযোগ না মিললে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে শঙ্কা তাদের। এমনই একজন খামারি সদর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের মো. ফারুক। তিনি জানান, জেলার সবচেয়ে বড় ও তারকাখ্যাত গরু ‘সাদা সুলতান’ ছিলো তার খামারে। বিক্রির জন্য সুলতানকে তোলা হয়েছিল ঢাকার ঐতিহ্যবাহী গাবতলী হাটে। ফ্রিজিয়ান জাতের প্রায় ৩০ মণ ওজনের এ বিশাল গরুটির দাম ফারুক প্রত্যাশা করেছিলেন ১৬ লাখ টাকা। কিন্তু দাম ও ক্রেতা সংকট হতাশ করেছে তাকে। হাটে সর্বোচ্চ এর দর ওঠে সাড়ে ৮ লাখ টাকা। আক্ষেপ করে ফারুক বলেন, নিজেরা কষ্ট করলেও সুলতানকে কষ্ট করতে দেইনি। লাখ লাখ টাকা খরচ করে সন্তানের আদরে লালন-পালন করেছি। সেই গরু হাটে অর্ধেক দাম ওঠে। কি করব ভেবে চিন্তে

দাম-ক্রেতা সংকটে ফেরত ৩০ হাজার গরু, দুশ্চিন্তায় পাবনার খামারিরা

কোরবানির ঈদকে ঘিরে বছরজুড়ে স্বপ্ন বুনেছিলেন পাবনার খামারিরা। বাড়তি লাভের আশায় পরম যত্নে লালন-পালন করেছেন গরু। কিন্তু ঈদের হাটে সেই স্বপ্নের দেখা মেলেনি। ক্রেতা সংকট ও প্রত্যাশার তুলনায় কম দামের কারণে জেলার বিভিন্ন হাট থেকে প্রায় ৩০ হাজার গরু অবিক্রিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হয়েছে খামারিদের।

খামারিরা বলছেন, পরিবহন খরচ, পশুর খোরাকি ও ঋণের কিস্তির চাপ মিলিয়ে এখন চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। দ্রুত বিক্রির সুযোগ না মিললে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে শঙ্কা তাদের।

এমনই একজন খামারি সদর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের মো. ফারুক। তিনি জানান, জেলার সবচেয়ে বড় ও তারকাখ্যাত গরু ‘সাদা সুলতান’ ছিলো তার খামারে। বিক্রির জন্য সুলতানকে তোলা হয়েছিল ঢাকার ঐতিহ্যবাহী গাবতলী হাটে। ফ্রিজিয়ান জাতের প্রায় ৩০ মণ ওজনের এ বিশাল গরুটির দাম ফারুক প্রত্যাশা করেছিলেন ১৬ লাখ টাকা। কিন্তু দাম ও ক্রেতা সংকট হতাশ করেছে তাকে। হাটে সর্বোচ্চ এর দর ওঠে সাড়ে ৮ লাখ টাকা।

আক্ষেপ করে ফারুক বলেন, নিজেরা কষ্ট করলেও সুলতানকে কষ্ট করতে দেইনি। লাখ লাখ টাকা খরচ করে সন্তানের আদরে লালন-পালন করেছি। সেই গরু হাটে অর্ধেক দাম ওঠে। কি করব ভেবে চিন্তে উপায় না পেয়ে হতাশ হয়ে গরু ফেরত এনেছি। এখন এর পেছনে প্রতিদিন যে খরচ হবে, এটা কিভাবে মেটাবো সেটিই এখন চিন্তা করি।

শুধু ফারুকই নন, গয়েশপুর গ্রাম থেকে এবার কোরবানির হাটের জন্য মোটাতাজা করা প্রায় ৪০০ গরু ঢাকার রামপুরা, বাড্ডা, আফতাবনগর ও গাবতলী হাটে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় এর সিংহভাগ গরুই ট্রাকে করে ফেরত এসেছে বলেও জানান ফারুক সহ কয়েকজন।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও স্থানীয় খামারিদের সূত্রে জানা গেছে, পাবনা সদর, বেড়া, সাঁথিয়া, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও ফরিদপুর উপজেলার অধিকাংশ গ্রামই এখন গো-খামারের ওপর নির্ভরশীল। এসব খামার সমৃদ্ধ গ্রাম থেকে এবার খামারি ও ব্যবসায়ীরা মিলে প্রায় ৫০ হাজার গরু ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন হাটে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু কোরবানি কম হওয়া এবং বড় গরুর প্রতি ক্রেতাদের অনীহার কারণে এবার বাজার জমেনি। কোনো হাটেই মেলেনি ন্যায্য মূল্য।

ফলে অর্ধেকেরও বেশি গরু অবিক্রিত অবস্থায় ট্রাকে করে আবারও পাবনায় ফিরিয়ে আনতে হয়েছে। ঢাকা যাওয়া-আসার ট্রাক ভাড়া বাবদ একেকজন খামারির বড় অঙ্কের বাড়তি টাকা লোকসান হয়েছে। এমনকি ঈদ-পরবর্তী বাজারেও স্বস্তির বার্তা নেই। কোরবানি শেষ হওয়ায় স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে এখনো ক্রেতার দেখা মিলছে না।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত গো খামারি রাজু আহমেদ জানান, ঈদের পর কসাই বা পাইকাররা যে দাম বলছেন, তা উৎপাদন খরচের এক-তৃতীয়াংশও নয়। এর ওপর যোগ হয়েছে প্রচণ্ড গরম। দীর্ঘ পথ জার্নি এবং হাটের বৈরী পরিবেশের ধকল সইতে না পেরে অবিক্রিত ফেরত আসা অনেক গরুই নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক খামারে গরু অসুস্থ হয়ে পড়ায় পশু চিকিৎসকের পেছনে প্রতিদিন বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর পাবনা জেলায় কোরবানির পশুর সার্বিক চাহিদা ছিল প্রায় ৭১ হাজার। তবে স্থানীয় চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি অর্থাৎ মোট সাড়ে ৬ লাখ পশু প্রস্তুত ছিল। যার মধ্যে গরুর সংখ্যাই ছিল প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার।

পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহুরুল ইসলাম বলেন, জেলায় বরাবরই চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ পশু প্রস্তুত থাকে। এবারও তেমনই ছিলো। কিছু গরু অবিক্রিত রয়েছে। সেগুলো ঈদ পরবর্তী বাজারে বেচাকেনা হবে। আর ফেরত আসা অসুস্থ গরুগুলোর চিকিৎসার জন্য খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ভেটেরিনারি সেবা দেওয়া হচ্ছে।

আলমগীর হোসাইন নাবিল/কেএইচকে/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow