দিনে কখন ও কয়টি কাঠবাদাম খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার
উন্নত বিশ্বে মানুষের ব্যস্ততা দিন দিন বাড়ছেই। আর এই ব্যস্ততায় কর্মজীবীরা কাজের চাপে সঠিক খাবার খাওয়ার সুযোগ কম পান। ফলে অপর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপের কারণে স্বাস্থ্যের সমস্যা বাড়ছে। ঠিক এ মুহূর্তে কাঠবাদাম হলো এক চমৎকার সমাধান। এটি শুধু পুষ্টি জোগায় না; বরং শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা চাপ কমিয়ে দেয়; যা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, হাড়ের সমস্যা, অনিদ্রা ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
শরীরের জন্য কাঠবাদাম কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝার জন্য প্রথমেই জানা দরকার এর পুষ্টিগুণ। প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গে সঠিকভাবে খেলে এটি শরীরকে শক্তি জোগায়, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
কাঠবাদামের পুষ্টিগুণ
২৮ গ্রাম বা প্রায় ২৩টি কাঠবাদামে রয়েছে—
ক্যালরি : ১৬০
প্রোটিন : ৬ গ্রাম
স্বাস্থ্যকর চর্বি : ১৪ গ্রাম (৯ গ্রাম মনোস্যাচুরেটেড, ৩ গ্রাম পলিস্যাচুরেটেড)
আঁশ : ৩.৫ গ্রাম
শর্করা : ৬ গ্রাম
ভিটামিন ই : ৭.৩ মিলিগ্রাম (দৈনিক চাহিদার ৩৭%)
ম্যাগনেসিয়াম : ৭৬ মিলিগ্রাম (দৈনিক চাহিদার ১৯%)
ক্যালসিয়াম : ৭৬ মিলিগ্রাম (দৈনিক চাহিদার ৭%)
লোহা : ১ মিলিগ্রাম (দৈনিক চাহিদার ৬%)
বাদামের বাদামি খোসায় প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। এটি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং প্রদাহ দূর করে।
প্রতিদিন কয়টি কাঠবাদাম খাওয়া উচিত
আপনার সারা দিনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাণশক্তি জোগাতে দিনে এক মুঠো কাঠবাদাম খাওয়াই যথেষ্ট। এক মুঠোয় ধরবে ৭-৮টি কাঠবাদাম। বাদামগুলো পানি অথবা দুধে ভিজিয়ে খেতে পারেন। কাঁচাও খাওয়া যায়। এ ছাড়া স্বাদ বাড়ানোর জন্য ভেজেও নিতে পারেন।
কখন কাঠবাদাম খেলে বেশি উপকার হয়
সকালে খালি পেটে কাঠবাদাম খাওয়া সবচেয়ে ভালো। এতে কাঠবাদাম সারা দিন আপনার শরীরে শক্তি জোগাবে। ব্যায়ামের আগে কাঠবাদাম খাওয়া শরীরে দ্রুত শক্তি সঞ্চার করার একটি সহজ উপায়। ব্যায়ামের পর প্রোটিন-জাতীয় খাবার, যেমন গ্রিক ইয়োগার্টের সঙ্গে কাঠবাদাম খেলে শরীরের পেশির ক্ষয়পূরণে সাহায্য করে। কাঠবাদাম ওজন কমাতেও বেশ কার্যকর। অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকসের বদলে কাঠবাদাম খেলে যেমন ক্ষুধা মিটবে, তেমনি পেট ভরা থাকার কারণে খাবার কম খেতে ইচ্ছা করবে। রাতে কাঠবাদাম খেলে ঘুম ভালো হয়। কারণ, কাঠবাদামে বিদ্যমান ম্যাগনেসিয়াম মনকে উদ্বেগমুক্ত রাখে এবং অনিদ্রা কমায়।
কোন কোন খাবারের সঙ্গে খেতে হবে
১. আপেল বা কলার সঙ্গে : আঁশ ও প্রাকৃতিক শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখে
২. টক দই বা দুধে : ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন বৃদ্ধি পায়
৩. গরম দুধ + হলুদ বা দারুচিনি : সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর
৪. ডার্ক চকলেটের সঙ্গে : অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, হৃৎপিণ্ডের জন্যও উপকারী
৫. ওটমিল, চিড়া বা সুজির সঙ্গে : মচমচে হয়ে স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রোটিন যুক্ত হয়
সূত্র : ওয়েব এমডি ও আনন্দবাজার অনলাইন