দীর্ঘ অপেক্ষার পর দলে ফিরেই শরিফুলের বাজিমাত
টসের ১০ মিনিট আগেও শরিফুল জানতেন না, তার দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। কিন্তু ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপে মোস্তাফিজ আচমকা চোট পাওয়ায় ভাগ্য খুলে যায় শরিফুলের। অথচ দলের তালিকা হাতে টস করতেও চলে গিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তখনই ছুটলেন ফিল কোচ ফিল সিমন্স। মিরাজ ও ম্যাচ রেফারির সঙ্গে কথাও বললেন। এরপরই বিজ্ঞপ্ততিতে বিসিবি জানায়, চোটে ছিটকে যাওয়া ফিজের জায়গায় ফিরছেন শরিফুল। ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে, ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল। সময়ের হিসেবে ১ বছর ৪ মাস ৭ দিন। ঠিক এই সময়ের অপেক্ষা শেষ হয়েছে শরিফুল ইসলামের। ১৬ মাস পর বাংলাদেশের জার্সিতে শুক্রবার ওয়ানডেতে ফিরেছেন এই বাঁহাতি পেসার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফেরার ম্যাচে শরিফুল নিজেকে উড়াড় করে দিয়েছেন বল হাতে, সুযোগের সদ্ব্যবহার কিভাবে করতে হয় সেটা দেখিয়েছেন প্রতিটি ডেলিভারিতে। প্রতিটি ডেলিভারিতে নিউজিল্যান্ড ব্যাটারদের দ্বিধায় ফেলেছেন। শুরুতে উইকেট এনে দিয়েছেন, মিডলেও। নিজের কোটার ৭০ শতাংশ বলে কোনো রান নিতে দেননি কিউই ব্যাটারদের। ক্যারিয়ারে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ২০ বার বোলিং করে নিয়েছেন এর আগে ৪২ উইকেট। এবারও প্রথম ইনিংসেই ফেরার সুযোগ পেয়ে বাজিমাত করলেন
টসের ১০ মিনিট আগেও শরিফুল জানতেন না, তার দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। কিন্তু ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপে মোস্তাফিজ আচমকা চোট পাওয়ায় ভাগ্য খুলে যায় শরিফুলের। অথচ দলের তালিকা হাতে টস করতেও চলে গিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তখনই ছুটলেন ফিল কোচ ফিল সিমন্স। মিরাজ ও ম্যাচ রেফারির সঙ্গে কথাও বললেন।
এরপরই বিজ্ঞপ্ততিতে বিসিবি জানায়, চোটে ছিটকে যাওয়া ফিজের জায়গায় ফিরছেন শরিফুল।
২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে, ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল। সময়ের হিসেবে ১ বছর ৪ মাস ৭ দিন। ঠিক এই সময়ের অপেক্ষা শেষ হয়েছে শরিফুল ইসলামের। ১৬ মাস পর বাংলাদেশের জার্সিতে শুক্রবার ওয়ানডেতে ফিরেছেন এই বাঁহাতি পেসার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফেরার ম্যাচে শরিফুল নিজেকে উড়াড় করে দিয়েছেন বল হাতে, সুযোগের সদ্ব্যবহার কিভাবে করতে হয় সেটা দেখিয়েছেন প্রতিটি ডেলিভারিতে। প্রতিটি ডেলিভারিতে নিউজিল্যান্ড ব্যাটারদের দ্বিধায় ফেলেছেন। শুরুতে উইকেট এনে দিয়েছেন, মিডলেও। নিজের কোটার ৭০ শতাংশ বলে কোনো রান নিতে দেননি কিউই ব্যাটারদের। ক্যারিয়ারে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ২০ বার বোলিং করে নিয়েছেন এর আগে ৪২ উইকেট। এবারও প্রথম ইনিংসেই ফেরার সুযোগ পেয়ে বাজিমাত করলেন এই বাঁহাতি পেসার। ১০ ওভারে ২৭ রান খরচায় শরিফুলের শিকার ২ উইকেট।
সাম্প্রতিক সময়ে শরিফুল কবে ওয়ানডে খেলেছেন সেটা বলাই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ১৬ মাস আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে খেলা সিরিজে ৬ ওভারে দিয়েছিলেন ৫৪ রান, পাননি কোনো উইকেট। এরপর দীর্ঘদিন বাইরে থাকার পর গত মাসে পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে স্কোয়াডে ফেরেন শরিফুল। সেটাও অবশ্য ভাগ্য পক্ষে আসায়। তানজিম হাসান সাকিব চোটের কারণে ছিটকে যান স্কোয়াড থেকে, তার জায়গাতেই ফেরানো হয় শরিফুলকে।
তবে স্কোয়াডে ফিরলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের সিরিজে কোনো ম্যাচেই একাদশে জায়গা পাননি। এমনকি আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও একাদশে ছিলেন না। এমনকি টস করতে যাওয়া মিরাজের হাতে থাকা দলের তালিকাতেও ছিল না তার নাম। তবে ওয়ার্মআপে পাওয়া মোস্তাফিজের চোট ফেরার দরজা খুলে দেয় শরিফুলের জন্য।
ফেরার ম্যাচে অবশ্য সাফল্য পেতে মোটেও দেরী হয়নি শরিফুলের। ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারেই বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন এই বাঁহাতি পেসার। শুরু থেকেই কিছু বল আচমকা নিচু হচ্ছিল। শরিফুল সেটাকেই কাজে লাগান। ইঞ্চি পরিমাণ খাটো লেন্থের বল। নিক কেলি পুল করার চেষ্টা করেছিলেন। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে স্টাম্প ফেলে দেয়। বোল্ড!
প্রথম ধাপে এক ওভার গ্যাপ দিয়ে ৫ ওভার করলেন শরিফুল। যেখানে ১টি মেইডেনের সঙ্গে মাত্র ৯ রান খরচায় নিলেন ১ উইকেট। নিজের পরের ওভারে অবশ্য আবার উইকেট পেতে পারতেন শরিফুল। কিন্তু উইল ইয়াংয়ের ক্যাচ স্লিপে ফেলে দেন সাইফ হাসান।
ইনিংসের ৩৬তম ওভারে নিজের দ্বিতীয় শিকার ধরেন শরিফুল। যেটাকে ‘ট্যাকটিকাল বোলিং’ বলছে ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো। পঞ্চম উইকেটে ৩৪ রানের জুটি গড়ে ধীরে ধীরে বোলারদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছিলেন ফক্সক্রফট ও আব্বাস। তখন অফ স্টাম্পের বাইরে দারুণ এক ইনসুইং লেন্থ ডেলিভারি করেন শরিফুল। আব্বাস শুরু থেকেই এই ধরণের ডেলিভারিতে অস্বস্তি বোধ করছিলেন। সেই সুযোগটাই নেন শরিফুল, আব্বাসকে ড্রাইভ করতে বাধ্য করেন আর তাতে পিচ থেকে অতিরিক্ত বাউন্স পেয়ে বলটি ব্যাটের বাইরের প্রান্ত ছুঁয়ে সোজা উইকেটকিপারের গ্লাভসে গিয়ে জমা হয়।
শরিফুল এদিন আর উইকেট পাননি। তবে ১০ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ২৭ রান। অর্থাৎ ওভার প্রতি রান দিয়েছেন মাত্র ২.৭ রান করে। ৬০ বলের মধ্যে ডট দিয়েছেন ৪২টি। শতকরা হিসেবে যা দাঁড়ায় ৭০ শতাংশ। একজন পেসারের জন্য এখনকার ক্রিকেটে এই পরিমাণ অবশ্যই প্রশংসনীয়। অবশ্য পরের ম্যাচে একাদশে থাকবেন কিনা সেটাও নিশ্চিত নয়। মোস্তাফিজ ফিট হয়ে গেলে অবধারিত ভাবেই তাকে আবার ডাগআউটে বসতে পারে। তবে শরিফুল ঠিকই দেখিয়েছেন সুযোগ কিভাবে কাজে লাগাতে হয়!
এসকেডি/আইএন
What's Your Reaction?