দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান, শতবর্ষী বট-পাকুড় গাছের ডালপালা অপসারণ

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বটতলী বাজারে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও জননিরাপত্তার ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ানো শতবর্ষী বট-পাকুড় গাছের ডালপালা অবশেষে কেটে অপসারণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বহু বছরের এ সমস্যার সমাধান হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। জানা যায়, বটতলী বাজার এলাকার বাসিন্দা মামুনুর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন যে, মৃত দুখিরাম রায়ের জমিতে থাকা বিশাল বট-পাকুড় গাছের ডালপালা তার বসতঘর ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। গাছটি অত্যন্ত পুরোনো হওয়ায় এর বড় বড় ডাল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং প্রায়ই ভেঙে ঘরের ওপর পড়ে ক্ষয়ক্ষতি করছিল। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও ছিল। এ নিয়ে মৃত দুখিরাম রায়ের উত্তরাধিকারীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং মামলা-মোকদ্দমার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। গাছটিকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় ও সামাজিক নানা বিশ্বাস থাকায় ডালপালা কাটার উদ্যোগ বারবার ব্যর্থ হয়। ফলে বহু বছর ধরে সমস্যাটির কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। সম্প্রতি ভুক্তভোগী পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বীর ক

দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান, শতবর্ষী বট-পাকুড় গাছের ডালপালা অপসারণ

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বটতলী বাজারে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও জননিরাপত্তার ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ানো শতবর্ষী বট-পাকুড় গাছের ডালপালা অবশেষে কেটে অপসারণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বহু বছরের এ সমস্যার সমাধান হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

জানা যায়, বটতলী বাজার এলাকার বাসিন্দা মামুনুর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন যে, মৃত দুখিরাম রায়ের জমিতে থাকা বিশাল বট-পাকুড় গাছের ডালপালা তার বসতঘর ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। গাছটি অত্যন্ত পুরোনো হওয়ায় এর বড় বড় ডাল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং প্রায়ই ভেঙে ঘরের ওপর পড়ে ক্ষয়ক্ষতি করছিল। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও ছিল।

এ নিয়ে মৃত দুখিরাম রায়ের উত্তরাধিকারীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং মামলা-মোকদ্দমার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। গাছটিকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় ও সামাজিক নানা বিশ্বাস থাকায় ডালপালা কাটার উদ্যোগ বারবার ব্যর্থ হয়। ফলে বহু বছর ধরে সমস্যাটির কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

সম্প্রতি ভুক্তভোগী পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বীর কাছে লিখিত আবেদন করেন। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তিনি বিষয়টি তদন্ত করেন এবং বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরের দিকে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উভয় পক্ষ, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন।

সভায় উপস্থিত ধর্মীয় নেতারা বলেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতি হওয়া কোনো ধর্মই সমর্থন করে না। আলোচনা শেষে সকলের সম্মতিতে গাছের ঝুঁকিপূর্ণ ডালপালা অপসারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোববার (১১ জুন) সকালের দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বীর উপস্থিতিতে দুই পক্ষের সদস্য, ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাছের ডালপালা কাটার কাজ শুরু হয়। প্রায় দুই দিনব্যাপী কাজ শেষে সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে ডালপালা অপসারণের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একটি জটিল সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে। তারা উপজেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং সমাধান প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামুনুর রশিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছিলাম। শতবর্ষী বট-পাকুড় গাছটির বিশাল ডালপালা আমাদের বসতঘরের ওপর ঝুলে থাকায় সবসময় দুর্ঘটনার ভয় ছিল। ঝড়-বৃষ্টি হলেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। বিষয়টি নিয়ে বহুবার বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করলেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করেন এবং সকলের মতামতের ভিত্তিতে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাধান করে দিয়েছেন। আমরা তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একইসঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বী ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং যারা এই সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই দীর্ঘদিনের একটি জটিল সমস্যার অবসান হয়েছে। এখন আমরা অনেকটাই স্বস্তিতে ও নিরাপদে বসবাস করতে পারব।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যাটির সমাধান করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow