দীর্ঘস্থায়ী সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়

দীর্ঘসময় ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করলেও বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বরং এর ফলে উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করলে এ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায় ঢাকা চেম্বার। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিসিসিআই জানায়, বেসরকারিখাতে ঋণ প্রবাহ ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ডিসেম্বর ২০২৫-এ এ প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৬ দশমিক ১ শতাংশ। উচ্চ সুদের হার ও ঋণের অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে শিল্প সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, জুন ২০২৫-এ ব্রড মানি (এম২) প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ শতাংশ, যা ডিসেম্বর ২০২৫-এ বেড়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশে। এতে অর্থনীতিতে মুদ্রা সম্প্রসারণের ইঙ্গিত মিলছে, যা বর্তমান কঠোর মুদ্রানীতির কার্যকারিতা ও নীতিগত সাম

দীর্ঘস্থায়ী সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়

দীর্ঘসময় ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করলেও বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বরং এর ফলে উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করলে এ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায় ঢাকা চেম্বার।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিসিসিআই জানায়, বেসরকারিখাতে ঋণ প্রবাহ ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ডিসেম্বর ২০২৫-এ এ প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৬ দশমিক ১ শতাংশ। উচ্চ সুদের হার ও ঋণের অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে শিল্প সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, জুন ২০২৫-এ ব্রড মানি (এম২) প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ শতাংশ, যা ডিসেম্বর ২০২৫-এ বেড়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশে। এতে অর্থনীতিতে মুদ্রা সম্প্রসারণের ইঙ্গিত মিলছে, যা বর্তমান কঠোর মুদ্রানীতির কার্যকারিতা ও নীতিগত সামঞ্জস্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে জানায় সংগঠনটি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বেসরকারিখাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কমে ২০২৫ অর্থবছরে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০২৩ অর্থবছরে ছিল ২৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। এ ধরনের পরিস্থিতিতে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয় বলে মত দেয় ডিসিসিআই।

রপ্তানি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। গত ছয় মাসে রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ডিসেম্বর ২০২৫-এ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল মাইনাস ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা দুর্বল করে তুলছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকা চেম্বার মনে করে, দীর্ঘায়িত ও অতিমাত্রায় কঠোর সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।

সংগঠনটি আগামী নির্বাচিত সরকারের কাছে নীতিহার কমানোসহ বাস্তবভিত্তিক ও প্রবৃদ্ধিবান্ধব মুদ্রানীতির প্রত্যাশা জানায়। একই সঙ্গে রাজস্ব ও মুদ্রানীতির সমন্বয়, নমনীয় তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে পুনরুদ্ধারের ভারসাম্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

ইএআর/এমএএইচ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow