দুই সুপার ওভারের ‘পাগলাটে’ এক ম্যাচ জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দিনের প্রথম ম্যাচে আজ গ্রুপ পর্বের খেলায় রোমাঞ্চ, উত্তেজনা, উষ্ণতা সবই ছিল আকাশচুম্বী। মূল ম্যাচ টাই হয়ে গেছে সুপার ওভারে। তবে এক সুপার ওভারেও ম্যাচের নিষ্পত্তি ঘটেনি। লেগেছে দুই সুপার ওভার। তাতেই বুঝা যায় ম্যাচের আবহ। শেষমেশ দ্বিতীয় সুপারে আফগানিস্তানকে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বলা চলে দুই সুপার ওভারের ‘পাগলাটে’ এক জয়ের অবিস্বরণীয় কীর্তি গড়ল ডি কক-রিকেলটন-মিলাররা। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আফগানিস্তান। আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে প্রোটিয়ারা। আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক অধিনায়ক এইডেন মারক্রাম ৮ বলে ৫ রান করে বিদায় নেন। ওপেনিং জুটি থেমেছে ১২ রানেই। এরপর কুইন্টন ডি কক এবং রায়ান রিকেলটন মিলে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। দুজন এগিয়েছেন দেখেশুনে। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে মারক্রামকে হারিয়ে ৪৩ রান তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। পাওয়ারপ্লে শেষে ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে বের হয়ে এসেছেন ডি কক এবং রিকেলটন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের রান বাড়িয়েছেন। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে ছুটেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। দুজনই চলে যান ফিফটির খুব কাছে।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দিনের প্রথম ম্যাচে আজ গ্রুপ পর্বের খেলায় রোমাঞ্চ, উত্তেজনা, উষ্ণতা সবই ছিল আকাশচুম্বী। মূল ম্যাচ টাই হয়ে গেছে সুপার ওভারে। তবে এক সুপার ওভারেও ম্যাচের নিষ্পত্তি ঘটেনি। লেগেছে দুই সুপার ওভার। তাতেই বুঝা যায় ম্যাচের আবহ। শেষমেশ দ্বিতীয় সুপারে আফগানিস্তানকে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বলা চলে দুই সুপার ওভারের ‘পাগলাটে’ এক জয়ের অবিস্বরণীয় কীর্তি গড়ল ডি কক-রিকেলটন-মিলাররা।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আফগানিস্তান। আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে প্রোটিয়ারা। আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক অধিনায়ক এইডেন মারক্রাম ৮ বলে ৫ রান করে বিদায় নেন। ওপেনিং জুটি থেমেছে ১২ রানেই। এরপর কুইন্টন ডি কক এবং রায়ান রিকেলটন মিলে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। দুজন এগিয়েছেন দেখেশুনে। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে মারক্রামকে হারিয়ে ৪৩ রান তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
পাওয়ারপ্লে শেষে ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে বের হয়ে এসেছেন ডি কক এবং রিকেলটন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের রান বাড়িয়েছেন। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে ছুটেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। দুজনই চলে যান ফিফটির খুব কাছে। ফিফটি ছুঁয়েছেনও তারা। আফগান বোলারদের পিটিয়ে তক্তা বানিয়ে এগিয়েছেন রিকেলটন এবং ডি কক।
দলের ১২৮ রানের মাথাতে থেমেছেন ডি কক। ৪১ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন তিনি। রিকেলটনও একই ওভারে ফিরেছেন। আগ্রাসনের পাঠ দিয়ে ২৮ বলে ৬১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে গেছেন রায়ান রিকেলটন।
দুই সেট ব্যাটারকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯ বলে ২৩ রান করে বিদায় নিয়েছেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। ১৫ বলে ২০ রানের ক্যামিও খেলে টিকে ছিলেন ডেভিড মিলার। শেষ দিকে ৭ বলে ১৬ রানের ইনিংস খেলেছেন মার্কো ইয়ানসেন। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
আফগানিস্তানের হয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ২ উইকেট নেন রশিদ খান। ১ উইকেট তোলেন ফজলহক ফারুকী।
জবাব দিতে নেমে আফগানিস্তানকে উড়ন্ত শুরু এনে দেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে প্রোটিয়া বোলারদের তুলোধুনো করেছেন গুরবাজ। বাউন্ডারির ফুলঝুরি ছুটিয়ে বের করেছেন রান। ওপেনিং জুটিতে এসেছে ৫১ রান। গুরবাজের সঙ্গী ইবরাহিম জাদরান ১০ বলে ১২ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। দ্রুত আরও ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে আফগানরা। গুলবাদিন নাইব এবং সেদিকউল্লাহ আতাল সাজঘরে ফিরে যান। ২ বলে ০ রান করেছেন নাইব, আতাল করেন ৩ বলে ০ রান।
পাঁচে নেমে যোগ দিয়েছেন ডারউইশ রাসুলি। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তান তোলে ৫৬ রান। দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে রানের গতি কিছুটা কমেছে আফগানদের। তবে এক প্রান্ত ধরে তাণ্ডব চালিয়ে গেছেন গুরবাজ। চালিয়েছেন ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং। ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটি।
প্রোটিয়া বোলারদের পিটিয়ে তক্তা বানিয়েছেন গুরবাজ। একের পর এক দারুণ শটে রান বের করেছেন। হাঁকিয়েছেন চার-ছক্কা। ফিফটির পর চলে যান সেঞ্চুরির খুব কাছে।
সেঞ্চুরির একদম কাছে গিয়ে হতাশ করেছেন গুরবাজ। ৪২ বলে ৮৪ রানের বিস্ফোরক এক ইনিংস খেলে দলের ১২১ রানের মাথাতে বিদায় নেন তিনি। একই ওভারে বিদায় নেন ১৮ বলে ১৫ রান করে রাসুলিও। এরপর ৬ বলে ৫ রান করে মোহাম্মদ নবীও ফিরে গেছেন সাজঘরে। চাপের মুখে দলের হাল ধরেছেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই এবং রশিদ খান। পরিস্থিতি সামলে রান বের করেছেন। হাঁকিয়েছেন বাউন্ডারিও।
শেষ দিকে শেষ ৩ ওভারে আফগানদের দরকার ছিল ৩০ রান। ক্রিজে ছিলেন রশিদ এবং ওমরজাই। টানা দুই ওভারে আউট হয়েছেন ওমরজাই এবং রশিদ। ১৭ বলে ২২ রান করেন ওমরজাই। ১২ বলে ২০ রান করে ফিরেছেন রশিদ। শেষ ওভারে ১৩ রান দরকার ছিল আফগানদের। স্ট্রাইকে ছিলেন নূর আহমেদ। প্রথম বলেই আউট হয়ে যেতে পারতেন নূর। তবে না, সেই বলেই নো বল করে ফেলেন কাগিসো রাবাদা। শেষ ওভারে আরও একটি নো বল করে আফগানদের মুখে ম্যাচটা তুলে দেন রাবাদা। শেষ দিকে সমীকরণ চলে আসে ৩ বলে ২ রানে। রাবাদার বল থেকে ২ রান নিতে যান নূর আহমেদ এবং ফজলহক ফারুকী। তবে রান আউট হয়ে যান ফারুকী, আসে ১ রান। ম্যাচ টাই!! মানে সুপার ওভার। নূর ৯ বলে ১৫ রান করে টিকে ছিলেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৩ উইকেট নেন লুঙ্গি এনগিডি। ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন মার্কো ইয়ানসেন, কাগিসো রাবাদা, কেশব মহারাজ এবং জর্জ লিন্ডে।
সুপার ওভারে আগে ব্যাট করতে নেমেছে আফগানিস্তান। ব্যাট হাতে নামেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ এবং আজমতউল্লাহ ওমরজাই। বোলিংয়ে আসেন লুঙ্গি এনগিডি। প্রথম বলেই চার মেরে দেন ওমরজাই। পরের বলে ছক্কা হাঁকান ওমরজাই। পরের বলে ১ রান। স্ট্রাইকে আসেন গুরবাজ। ১ রান নেন গুরবাজও। ৪ বলে ১২ রান তোলে আফগানিস্তান। পরের বলে চার মারেন ওমরজাই। যদিও বলটা ধরে ফেলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন কাগিসো রাবাদা। শেষ বলে নেন ১ রান। এক ওভারে এসেছে ১৭ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে দাঁড়ায় ১৮ রানের লক্ষ্য।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে নামেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস এবং ডেভিড মিলার। বোলিংয়ে ছিলেন আফগান পেসার ফজলহক ফারুকী। প্রথম বলে মিলার ১ রান নেন। স্ট্রাইকে আসেন ব্রেভিস। পরের বলে ছক্কা হাঁকান ব্রেভিস। পরের বলেই আউট হয়েছেন তিনি। স্লোয়ার বাউন্সার দিয়েছিলেন ফারুকী। বুঝতে পারেননি ব্রেভিস। বল ব্যাটে লেগে আকাশে উঠে যায়। ক্যাচ ধরে ফেলেন গুরবাজ। ৩ বলে দক্ষিণ আফ্রিকার ৭ রান, হারিয়ে ফেলে ১ উইকেট।
এরপর ক্রিজে আসেন ত্রিস্টান স্টাবস। এসেই চার মেরে দেন তিনি। ২ বলে দরকার ৭ রান। তবে পরের বল হয়েছে ডট, মানে ১ বলে দরকার ৭ রান। শেষ বলে দারুণ এক ছক্কায় ম্যাচ আবার টাই করে ফেলেন স্টাবস। আবারও সুপার ওভার!
দ্বিতীয় সুপার ওভারে আগে ব্যাট করতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। নেমে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান স্টাবস। পরের বলে আসে ১ রান, তার পরের বলে ২ রান। স্ট্রাইকে এবার ডেভিড মিলার। পরের দুই বলে দুই ছক্কায় দলের রান ২১ রানে নিয়ে যান ডেভিড মিলার। শেষ বলে এসেছে ২ রান। এক ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা তোলে ২৩ রান। আফগানদের হয়ে বোলিংয়ে ছিলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই।
দ্বিতীয় সুপার ওভারে আফগানদের হয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন মোহাম্মদ নবী এবং আজমতউল্লাহ ওমরজাই। বোলিংয়ে প্রোটিয়া স্পিনার কেশব মহারাজ। প্রথম বলেই হয়েছে ডট। পরের বলে নবী আউট হয়ে যান। ৪ বলে দরকার ২৪ রান। ম্যাচটা প্রায় সেখানেই জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। পরে ক্রিজে আসেন গুরবাজ। হাঁকান দারুণ এক ছক্কা। পরের বলেও ছক্কা হাঁকিয়ে দেন গুরবাজ। সমীকরণ চলে আসে ২ বলে ১২ রানে। পরের বলে আবারও ছক্কা হাঁকান গুরবাজ। টানা ৩ ছক্কায় সমীকরণ নেমে আসে ১ বলে ৬ রানে। পরের বলে মহারাজ দেন ওয়াইড। ১ বলে ৫ রান দরকার। তবে এবার আর জাদু দেখাতে পারেননি গুরবাজ। আউট হয়ে গেছেন। দ্বিতীয় সুপার ওভারে আফগানিস্তানকে হারিয়ে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
তর্কসাপেক্ষে স্মরণকালের সর্বসেরা ম্যাচের দেখাই যেন পাওয়া গেল। দুই সুপার ওভারের রোমাঞ্চে ঠাসা ম্যাচে সমর্থকদের হার্ট অ্যাটাকের দশা করে ম্যাচে শেষ হাসি হাসলো দক্ষিণ আফ্রিকা।
What's Your Reaction?