দুদকের সহকারী পরিচালক পদে ১০ রিট আবেদনকারীকে নিয়োগ কেন নয়: হাইকোর্ট

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালকের শূন্য পদে ১০ চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সহকারী পরিচালকের শূন্য পদে রিট আবেদনকারীদের নিয়োগ দিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দিলরুবা বেগমসহ ১০ চাকরিপ্রার্থী গত ৯ আগস্ট এ রিট আবেদন করেন। রিটে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মাকসুদুর রহমান ও মারুফ হাসান তমাল। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম। রিট আবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর দুদক সহকারী পরিচালক, উ

দুদকের সহকারী পরিচালক পদে ১০ রিট আবেদনকারীকে নিয়োগ কেন নয়: হাইকোর্ট

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালকের শূন্য পদে ১০ চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সহকারী পরিচালকের শূন্য পদে রিট আবেদনকারীদের নিয়োগ দিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

দিলরুবা বেগমসহ ১০ চাকরিপ্রার্থী গত ৯ আগস্ট এ রিট আবেদন করেন। রিটে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মাকসুদুর রহমান ও মারুফ হাসান তমাল। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম।

রিট আবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর দুদক সহকারী পরিচালক, উপসহকারী পরিচালক ও কোর্ট পরিদর্শক পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এর মধ্যে সহকারী পরিচালকের ১৩২টি পদের বিপরীতে রিট আবেদনকারীরা আবেদন করেন। তারা লিখিত ও অন্যান্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশ নেন।

পরে পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ না করে ভাইভায় অংশ নেওয়া ১৩০ জনকে বিজ্ঞাপিত ১৩০টি পদে ২০২২ সালের ২১ জুন নিয়োগ দেওয়া হয় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটকারীদের দাবি, নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের অনেকে অন্য চাকরিতে যোগ দেওয়ায় বিজ্ঞাপিত বেশ কয়েকটি পদ এখনো শূন্য রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়া কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ে চাকরিতে যোগদান না করলে ওই শূন্য পদে একই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে মেধার ভিত্তিতে প্রার্থী সুপারিশ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

রিটে আরও বলা হয়, একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কোর্ট পরিদর্শক পদে এই নিয়ম অনুসরণ করা হলেও সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি। এ কারণে বিজ্ঞাপিত শূন্য পদগুলোতে যোগ্যতা অনুযায়ী রিট আবেদনকারীদের নিয়োগ দিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, ‘সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিয়ম ভঙ্গের কারণে রিট আবেদনকারীদের সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচারের লঙ্ঘন হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, গত ২৯ জুলাই আবেদনকারীদের পক্ষে বিবাদীদের আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সাড়া না পাওয়ায় হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow