নওগাঁর মহাদেবপুরে ডিবিসি নিউজের জেলা প্রতিনিধি একে সাজুর ওপর হামলার ঘটনায় দুই দিনেও হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল।
এর আগে বুধবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহের সময় থানা পুলিশের প্রতিনিধি পরিচয়ে তার উপর হামলা করা হয়। পরে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ায় দলিল লেখক সমিতির নেতারা তার আইডি কার্ড, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় এবং কয়েক দফায় মারধর করে। এক পর্যায়ে গুরুত্বর অবস্থায় তাকে নওগাঁ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে তাৎক্ষণিক থানা পুলিশের প্রতিনিধি পরিচয়ে হামলাকারী ওই ব্যক্তির পরিচয় না জানা গেলেও ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে তার নাম কনক সারোয়ার। মহাদেবপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতিতে সহ সভাপতি পদে আছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, অবসরজনিত কারণে মহাদেবপুরের সাব রেজিস্ট্রার মুক্তি আওরার শেষ কর্মদিবস ছিলো বুধবার (২৭ আগস্ট)। তাই মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) অফিসের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও গভীর রাত পর্যন্ত দলিল সম্পাদনের কাজ করেন সাব রেজিস্ট্রার মুক্তি আওরা। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে জমি রেজিস্ট্রির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই বাছাই করেননি তিনি। বিনিময়ে ঘুষ নিয়েছেন প্রায় কোটি টাকা। পরের দিন বুধবার (২৭ আগস্ট) এ ঘটনাটি জানাজানি হলে দুপুরের পর থেকেই সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে ভিড় জমান ভুক্তভোগীরা। তাদের প্রতিহত করতে অফিসের সামনে সন্ত্রাসী কায়দায় মারপিট করেন দলিল লেখক সমিতির সদস্যরা। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন সমিতির সহ সভাপতি কনক সারোয়ার। ওই সময়ে পুরো হট্টগোলের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারন করেন ডিবিসি নিউজের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক একে সাজু। বিষয়টি নজরে এলে একে সাজুর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে এগিয়ে আসেন বিএনপিপন্থী দলিল লেখক সমিতির নেতা কনক সারোয়ার। এরপর তার নেতৃত্বে কয়েক দফায় সাংবাদিক একে সাজুর উপর হামলা হয়।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, কনক সারোয়ার থানা পুলিশের কেউ না। ঘটনাটি জানার পর তাৎক্ষণিক সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে টিম পাঠানো হয়েছিলো। বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী সাংবাদিক বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিরা পলাতক থাকায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সাংবাদিক সাজুর উপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাব, টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।
নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কায়েস উদ্দিন বলেন, একজন সাংবাদিকের উপর এ ধরনের বর্বরোচিত হামলা শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর সুষ্পষ্ট আঘাত। হামলার পরেও তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।
নওগাঁর পুলিশ সুপার সাফিউল সারোয়ার বলেন, হামলার পরপরই সাংবাদিক একে সাজুর সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি অতি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না।
আরমান হোসেন রুমন/এএইচ/জিকেএস