দেশটায় ভালো থাকার উপায় নেই, বললেন আফজাল হোসেন

দেশ, মানুষ ও সময়ের পরিবর্তন নিয়ে নিজের গভীর ভাবনা প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন নন্দিত অভিনেতা, নির্মাতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন। মানুষের ক্রমবর্ধমান স্বার্থপরতা, অসহিষ্ণুতা এবং ভালো থাকার সংকট নিয়ে এবার কথা বললেন এই তারকা শিল্পী। তার মতে, এই মানসিকতার কারণেই দেশে ভালো থাকার পরিবেশ দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আফজাল হোসেন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘দেশটায় ভালো থাকার উপায় নেই। কারণ কোনো মানুষ ছাড় দিতে রাজি নয়। সবারই দাবি, দেশ আমার; চাওয়া মাত্র সবকিছু পেতে হবে। কিন্তু কেন সেই চাওয়া পূরণ হচ্ছে না, তা ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখার দায় যেন কারো নেই।’ বর্তমানে মানুষ সবকিছুকে লাভ-ক্ষতির অঙ্কে মেলাতে ব্যস্ত। আর সেই সঙ্গে চলছে একটিই প্রশ্ন, ‘কি পেলাম?’ এই প্রশ্নের আবর্তে ঘুরপাক খেতে খেতে মানুষ যেন দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতার জায়গা হারিয়ে ফেলছে বলে মত তার। অতীতের সমাজব্যবস্থার সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনা করে আফজাল হোসেন লেখেন, ‘আমাদের বাপ-দাদার আমলে এতো হাহাকার দেখিনি। তখন মানুষ পরস্পরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করতো। সেটাকে দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে মনে করত। বিশ্বাস করতো, একসঙ্গে চ

দেশটায় ভালো থাকার উপায় নেই, বললেন আফজাল হোসেন

দেশ, মানুষ ও সময়ের পরিবর্তন নিয়ে নিজের গভীর ভাবনা প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন নন্দিত অভিনেতা, নির্মাতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন। মানুষের ক্রমবর্ধমান স্বার্থপরতা, অসহিষ্ণুতা এবং ভালো থাকার সংকট নিয়ে এবার কথা বললেন এই তারকা শিল্পী।

তার মতে, এই মানসিকতার কারণেই দেশে ভালো থাকার পরিবেশ দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আফজাল হোসেন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘দেশটায় ভালো থাকার উপায় নেই। কারণ কোনো মানুষ ছাড় দিতে রাজি নয়। সবারই দাবি, দেশ আমার; চাওয়া মাত্র সবকিছু পেতে হবে। কিন্তু কেন সেই চাওয়া পূরণ হচ্ছে না, তা ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখার দায় যেন কারো নেই।’

বর্তমানে মানুষ সবকিছুকে লাভ-ক্ষতির অঙ্কে মেলাতে ব্যস্ত। আর সেই সঙ্গে চলছে একটিই প্রশ্ন, ‘কি পেলাম?’ এই প্রশ্নের আবর্তে ঘুরপাক খেতে খেতে মানুষ যেন দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতার জায়গা হারিয়ে ফেলছে বলে মত তার।

অতীতের সমাজব্যবস্থার সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনা করে আফজাল হোসেন লেখেন, ‘আমাদের বাপ-দাদার আমলে এতো হাহাকার দেখিনি। তখন মানুষ পরস্পরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করতো। সেটাকে দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে মনে করত। বিশ্বাস করতো, একসঙ্গে চলার মধ্যেই ভালো থাকার পথ লুকিয়ে আছে।’

বর্তমান সমাজে স্বার্থপরতার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন অন্যের কথা কতোটা ভাবি? খুব কম। আমরা বিশ্বাস করি, নিজে বাঁচলেই হলো। এই ভয়ংকর স্বার্থপরতাই মানুষ ও দেশকে ভালো থাকতে দেয় না।’

রাজনৈতিক বিভাজন নিয়েও কথা বলেন এই গুণী অভিনেতা। তার ভাষায়, রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকেই নিজেদের অবস্থানকেই দেশপ্রেমের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করেন। ফলে ভিন্নমত বা ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষকে সহজেই ‘দেশের শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

আফজাল হোসেন লিখেছেন, ‘দেশ সকল রকম মানুষের। এই সাধারণ সত্যকে অস্বীকার করে নিজে ভালো থাকা যায় না, দেশও ভালো থাকে না।’

নিজেদের আত্মসমালোচনার অভাবকেও দেশের বর্তমান পরিস্থিতির একটি কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি। তার মতে, সবাই অন্যের দোষ খুঁজতে ব্যস্ত, কিন্তু নিজের ভুল বা সীমাবদ্ধতা নিয়ে ভাবতে চায় না। ব্যাখ্যা করে তিনি লেখেন, ‘আমি কেন ভালো নেই, এই প্রশ্ন আমরা নিজেদের করি না। সবাই খুব সহজে বলে দিতে পারে, অমুক বা তমুকের কারণে দেশ ভালো নেই। কিন্তু নিজেদের দায়-দায়িত্ব নিয়েও যে ভাবা দরকার, তা ভুলে যাই।’

বিশ্বব্যাপী ক্রোধ, হিংসা ও অসহিষ্ণুতার প্রসঙ্গ টেনে আফজাল হোসেন বলেন, ‘মানুষের এই সংকটের মূল কারণ স্বার্থপরতা। ভালোবাসা ও মানবিকতার চর্চা কমে যাওয়ায় সমাজে বিভাজন ও বিদ্বেষ বাড়ছে।’

খানিকটা ব্যাখ্যা করে আফজাল হোসেন লেখেন, ‘অসুখী মানুষেরা বিপজ্জনক। এই কথাটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো পৃথিবীর মানুষের জন্যই প্রযোজ্য। আজকাল প্রতারণা করেও সাফল্য পাওয়া যায়, সেটাই গৌরব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ভালোবাসার কথা বলা হয়, কিন্তু তার চর্চা কমে যাচ্ছে। আর এভাবেই মানুষ, দেশ ও পৃথিবী ধীরে ধীরে ঘৃণা ও হিংসার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’

 

এমআই/এলআইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow