দেশে পৌঁছাল ডিজেল-জেট ফুয়েল, পথে এলএনজির ৩ ট্যাংকার

দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানিবাহী জাহাজের আগমন অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের একটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে। চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সিঙ্গাপুর থেকে আসা এই জাহাজটি বর্তমানে কুতুবদিয়া অ্যাংকরেজে অবস্থান করছে। চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান 'ইউনিপেক'-এর সঙ্গে চুক্তির আওতায় এই জ্বালানি সংগ্রহ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মার্চ মাসে মোট ১৭টি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। এরমধ্যে ৯টি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে এবং আরও ৬টি জাহাজ বর্তমানে সমুদ্রপথে রয়েছে। বিপিসি সাধারণত সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে। এরমধ্যে ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল হিসেবে সৌদি আরব ও আমিরাত থেকে আসে, যা দেশে পরিশোধন করা হয়। বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত জ্বালানি হিসেবে ভারত, চীন ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা হয়। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার

দেশে পৌঁছাল ডিজেল-জেট ফুয়েল, পথে এলএনজির ৩ ট্যাংকার

দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানিবাহী জাহাজের আগমন অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের একটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সিঙ্গাপুর থেকে আসা এই জাহাজটি বর্তমানে কুতুবদিয়া অ্যাংকরেজে অবস্থান করছে। চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান 'ইউনিপেক'-এর সঙ্গে চুক্তির আওতায় এই জ্বালানি সংগ্রহ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মার্চ মাসে মোট ১৭টি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। এরমধ্যে ৯টি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে এবং আরও ৬টি জাহাজ বর্তমানে সমুদ্রপথে রয়েছে।

বিপিসি সাধারণত সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে। এরমধ্যে ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল হিসেবে সৌদি আরব ও আমিরাত থেকে আসে, যা দেশে পরিশোধন করা হয়। বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত জ্বালানি হিসেবে ভারত, চীন ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা হয়।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি নিয়ে ‘এইচএল পাফিন’ ট্যাংকার বৃহস্পতিবার কুতুবদিয়া উপকূলে পৌঁছেছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬১ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘নিউ ব্রেভ’ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামের আরও দুটি ট্যাংকার আগামী বুধবারের মধ্যে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তিনটি ট্যাংকারে মোট প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার টন এলএনজি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে এলএনজি আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশই আসে কাতার থেকে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে সরবরাহে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে কাতার থেকে দুটি ট্যাংকার আসার কথা থাকলেও তা আসেনি। এরমধ্যে একটি ট্যাংকার রাস লাফান বন্দর থেকে এলএনজিবোঝাই অবস্থায় এখনও আটকে রয়েছে। 

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র বলছে, এ মাসে এখন পর্যন্ত মোট সাতটি এলএনজিবাহী ট্যাংকার দেশে এসেছে, যেখানে সাধারণ সময়ে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১১টি ট্যাংকার আসে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রো বাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা থাকলেও আপাতত বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow