দেশে ফিরে আইনি জটিলতায় নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেউবা

নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার রাজনৈতিক সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইনি জটিলতাও। তিনি দেশের বাইরে থাকাকালে তার পরিবারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার তদন্ত শুরু করে দেশটির অর্থ পাচার তদন্ত বিভাগ। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দেশে ফেরার পর ৮০ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিকের ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, এ নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। শুক্রবার দেশটির সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেউবা ও তার স্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবার বিরুদ্ধে কাঠমান্ডু জেলা আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। তবে গত ২৫ মে নেপালের সুপ্রিম কোর্ট দেউবা দম্পতিকে গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, অর্থ পাচার তদন্ত বিভাগের তদন্তাধীন অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার বিশেষ আদালতের এবং দেউবা দম্পতিকে গ্রেপ্তারের জন্য যথেষ্ট আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আইনগত বৈধতা নেই বলেও আদালত উল্লেখ করে। এদিকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলও দেউবা দম্পতির বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে অর্থপাচার তদন্ত বন্ধ হয়নি। গত জুলাইয়ে তদন্তকারীরা ব

দেশে ফিরে আইনি জটিলতায় নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেউবা

নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার রাজনৈতিক সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইনি জটিলতাও। তিনি দেশের বাইরে থাকাকালে তার পরিবারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার তদন্ত শুরু করে দেশটির অর্থ পাচার তদন্ত বিভাগ। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দেশে ফেরার পর ৮০ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিকের ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, এ নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা।

শুক্রবার দেশটির সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেউবা ও তার স্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবার বিরুদ্ধে কাঠমান্ডু জেলা আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

তবে গত ২৫ মে নেপালের সুপ্রিম কোর্ট দেউবা দম্পতিকে গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, অর্থ পাচার তদন্ত বিভাগের তদন্তাধীন অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার বিশেষ আদালতের এবং দেউবা দম্পতিকে গ্রেপ্তারের জন্য যথেষ্ট আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আইনগত বৈধতা নেই বলেও আদালত উল্লেখ করে।

এদিকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলও দেউবা দম্পতির বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

তবে অর্থপাচার তদন্ত বন্ধ হয়নি। গত জুলাইয়ে তদন্তকারীরা বিশেষ আদালতে একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে দেউবার ছেলে জয়বীর দেউবার মালিকানাধীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৬ মিলিয়ন নেপালি রুপির একটি লেনদেনের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

দেউবার ব্যক্তিগত সচিব ভানু দেউবা জানিয়েছেন, দেশে ফেরার পর চলমান তদন্তের বিষয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি।

ফলে দেউবার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পাশাপাশি চলমান অর্থ পাচার তদন্তও নেপালের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে চিকিৎসার জন্য নেপাল ছাড়েন দেউবা। এর পর থেকেই তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। তখন তিনি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন। 

এরপর অনেকটা আলোচনার বাইরে ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তার সমর্থকরা বেশ উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন। যার রেশ দেখা গেছে সড়কের পাশে জড়ো হওয়া শত শত সমর্থকের মধ্যেও। ওই সময় হাত নেড়ে ও হাসিমুখে সমর্থকদের অভিবাদন জানান দেউবা। তার নিরাপত্তায় বিমানবন্দর ও সমর্থকদের সঙ্গে আয়োজিত সমাবেশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় দেউবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। তার বিরুদ্ধে করা মামলাটি মানি লন্ডারিং তদন্ত বিভাগ পরিচালনা করছে।

সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow