দেশে বিপুল মুনাফা বিদেশি ব্যাংকের, বঞ্চিত স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা
বাংলাদেশে কার্যক্রম চালানো বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রতিবছর শত শত কোটি টাকার মুনাফা করছে। সম্পদ, আমানত ও করপোরেট ব্যাংকিং ব্যবসায় শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখলেও দেশের পুঁজিবাজারে তাদের কোনো উপস্থিতি নেই। ফলে এসব ব্যাংকের মুনাফার অংশীদার হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করলেও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত না থাকায় দেশীয় বিনিয়োগকারীরা তাদের মালিকানায় অংশ নিতে পারছেন না। তাই সময় এসেছে এ বিষয়ে নীতিমালা পুনর্বিবেচনার। অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদেশি ব্যাংকগুলোর ব্যবসায়িক মডেল মূলত উচ্চমানের করপোরেট গ্রাহক, ট্রেড ফাইন্যান্স, ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট ও বৈদেশিক লেনদেনকেন্দ্রিক। ফলে আমানতের ওপর অতিরিক্ত চাপ ছাড়াই তারা উচ্চ আয়ের সুযোগ পায়। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের হার কম থাকায় পরিচালন মুনাফার বড় অংশই কর-পরবর্তী নিট মুনাফায় পরিণত হয়। আরও পড়ুন ৩ মাসে ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানত কমেছে ২০১২ কোটি টাকা, বেড়েছে ঋণ বিতরণ সীমিত উপস্থিতি হলেও অবস্থান শক্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বিদেশি বাণিজ
বাংলাদেশে কার্যক্রম চালানো বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রতিবছর শত শত কোটি টাকার মুনাফা করছে। সম্পদ, আমানত ও করপোরেট ব্যাংকিং ব্যবসায় শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখলেও দেশের পুঁজিবাজারে তাদের কোনো উপস্থিতি নেই। ফলে এসব ব্যাংকের মুনাফার অংশীদার হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করলেও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত না থাকায় দেশীয় বিনিয়োগকারীরা তাদের মালিকানায় অংশ নিতে পারছেন না। তাই সময় এসেছে এ বিষয়ে নীতিমালা পুনর্বিবেচনার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদেশি ব্যাংকগুলোর ব্যবসায়িক মডেল মূলত উচ্চমানের করপোরেট গ্রাহক, ট্রেড ফাইন্যান্স, ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট ও বৈদেশিক লেনদেনকেন্দ্রিক। ফলে আমানতের ওপর অতিরিক্ত চাপ ছাড়াই তারা উচ্চ আয়ের সুযোগ পায়। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের হার কম থাকায় পরিচালন মুনাফার বড় অংশই কর-পরবর্তী নিট মুনাফায় পরিণত হয়।
সীমিত উপস্থিতি হলেও অবস্থান শক্ত
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উপস্থিতি সংখ্যায় সীমিত হলেও আর্থিক সক্ষমতা, সম্পদের গুণগত মান, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও মুনাফার দিক থেকে তারা খুবই শক্ত অবস্থানে রয়েছে। মাত্র ৯টি বিদেশি ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও করপোরেট ব্যাংকিং, বৈদেশিক বাণিজ্যে অর্থায়ন ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং সেবায় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট ও মুনাফার চাপ নিয়ে আলোচনা চললেও এখানে কার্যরত বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে যেন তার কোনো ছোঁয়া নেই। এসব ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে মুনাফা করেছে। উচ্চ সুদ-আয়, বৈদেশিক বাণিজ্যে অর্থায়ন, ট্রেজারি কার্যক্রম ও করপোরেট ব্যাংকিংয়ের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়িক কাঠামো তাদের মুনাফা ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।
সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে কার্যক্রম চালানো বিদেশি ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে তাদের মোট আমানত এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা এবং ঋণ ও অগ্রিম ছিল এক লাখ এক হাজার কোটি টাকার বেশি। অধিকাংশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১ শতাংশের নিচে থাকায় কর-পরবর্তী নিট মুনাফাও সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদেশি ব্যাংকগুলোর লাভজনক হওয়ার পেছনে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে- কম খেলাপি ঋণ, করপোরেট ও বহুজাতিক গ্রাহকভিত্তিক ব্যবসা, উচ্চমানের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক বাণিজ্য অর্থায়নে শক্তিশালী অবস্থান এবং ট্রেজারি কার্যক্রম থেকে উল্লেখযোগ্য আয়। স্থানীয় ব্যাংকগুলোর তুলনায় তাদের কম প্রভিশন রাখতে হওয়ায় নিট মুনাফাও তুলনামূলক বেশি থাকে।
বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করা বিদেশি ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন পরিসংখ্যান/ছবি: এআই নির্মিত
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক
বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক সবচেয়ে বড় পরিসম্পদধারী (অ্যাসেট) প্রতিষ্ঠান হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। বাংলাদেশে ব্যাংকটির শাখা ১৮টি। ২০২৩ সালে ব্যাংকটির মোট সম্পদ ছিল ৬০ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ৬১ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা হয়। চলতি বছরের জুন শেষে মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৬১ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা।
ব্যাংকটির আমানত ২০২৩ সালে ছিল ৪১ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা কমে ৪০ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। চলতি বছরের জুন শেষে মোট আমানত স্থিতি ৩৯ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। আমানত স্থিতি সামান্য ওঠানামা করলেও ঋণ ও অগ্রিম বেড়েছে। ২০২৩ সালে ঋণ ও অগ্রিম স্থিতি ছিল ২৯ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। সেখান থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৩০ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা হয়। চলতি বছরের জুন শেষে দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৫১২ কোটি টাকা।
ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার কার্যত শূন্য। যার ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে মুনাফায়। কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ২০২৩ সালে ছিল দুই হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথমার্ধেও ব্যাংকটি শক্তিশালী মুনাফা ধরে রেখেছে। ছয় মাসে ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে এক হাজার ৪৬২ কোটি টাকা।
বিদেশি ব্যাংকগুলোর লাভজনক হওয়ার পেছনে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে- কম খেলাপি ঋণ, করপোরেট ও বহুজাতিক গ্রাহকভিত্তিক ব্যবসা, উচ্চমানের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক বাণিজ্য অর্থায়নে শক্তিশালী অবস্থান এবং ট্রেজারি কার্যক্রম থেকে উল্লেখযোগ্য আয়।
হাবিব ব্যাংক লিমিটেড
হাবিব ব্যাংক লিমিটেডের আমানত, ঋণ ও মোট সম্পদে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে এর শাখা চারটি। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির মোট সম্পদ ছিল এক হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে এক হাজার ৬০১ কোটি টাকা হয়। চলতি বছরের জুনে তা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা।
ব্যাংকটির শ্রেণিকৃত ঋণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৩ সালে শ্রেণিকৃত ঋণ ছিল ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ। তা কমে এখন দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ১০ শতাংশ। একই সঙ্গে পরিচালন আয় ও নিট মুনাফাও ধীরে ধীরে বেড়েছে।
ব্যাংকটির আমানত ২০২৩ সালে ছিল ৭২০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৯৭১ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। চলতি বছরের জুন শেষে মোট আমানত স্থিতি এক হাজার ৬৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
ব্যাংকটির ঋণ ও অগ্রিম স্থিতি ২০২৩ সালে ছিল ৫৩২ কোটি টাকা। সেখান থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৭৩৯ কোটি টাকা হয়। চলতি বছরের জুন শেষে দাঁড়িয়েছে ৭৮৪ কোটি টাকা।
কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ২০২৩ সালে ছিল ১৬ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথমার্ধেও ব্যাংকটির মুনাফা হয়েছে ৯ কোটি টাকা।
স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া
স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার বাংলাদেশে শাখা তিনটি। ব্যাংকটির সম্পদ ২০২৩ সালে ছিল তিন হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে চার হাজার ১৮৭ কোটি টাকা হয়। চলতি বছরের জুন শেষে মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৮০ কোটি টাকা।
ব্যাংকটির আমানত ২০২৩ সালে ছিল এক হাজার ৭২২ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা কমে এক হাজার ৬২৯ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। চলতি বছরের জুন শেষে মোট আমানত স্থিতি এক হাজার ৪৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ঋণ ও অগ্রিম ২০২৩ সালে ছিল এক হাজার ২১১ কোটি টাকা। সেখান থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে এক হাজার ২৫৭ কোটি টাকা হয়। চলতি বছরের জুন শেষে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৫৫ কোটি টাকা।
ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ২০২৩ সালে ছিল ১ দশমিক ১২ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা কমে দশমিক ৭৬ শতাংশে নেমে আসে। তবে চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ২০২৩ সালে ছিল ২৩৫ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা কমে হয় ২০৮ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথমার্ধে ব্যাংকটির মুনাফা হয়েছে ৭২ কোটি টাকা।
বিদেশি ব্যাংকগুলোর সম্পদের তুলনামূলক চিত্র/ছবি: এআই নির্মিত
কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন
ধারাবাহিকভাবে আমানত ও ঋণ বৃদ্ধি করেছে কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন। বাংলাদেশে ব্যাংকটির শাখা ১১টি। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ ছিল ১৩ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ১৮ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা হয়। চলতি বছরের জুন শেষে মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা।
ব্যাংকটির আমানত ২০২৩ সালে ছিল ৯ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ১২ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। চলতি বছরের জুন শেষে মোট আমানত স্থিতি ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ঋণ ও অগ্রিম ২০২৩ সালে ছিল ছয় হাজার ৫১৯ কোটি টাকা। সেখান থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে আট হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা হয়। চলতি বছরের জুন শেষে দাঁড়িয়েছে আট হাজার ৮৫০ কোটি টাকা।
ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ২০২৩ সালে ছিল দশমিক ৭০ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দশমিক ৯০ শতাংশ হয়। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ২০২৩ সালে ছিল ৪৪৩ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয় ৫৭৬ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথমার্ধে ব্যাংকটির মুনাফা হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা।

ব্যাংকিং কার্ড পাঁচ কোটি ছাড়িয়েছে
ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান
ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের মূলধন কাঠামো প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। বাংলাদেশে ব্যাংকটির শাখা তিনটি। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ ছিল তিন হাজার ২৮৪ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে তিন হাজার ৩১০ কোটি টাকা হয়। চলতি বছরের মার্চ শেষে মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৩০৩ কোটি টাকা।
ব্যাংকটির আমানত ২০২৩ সালে ছিল এক হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে এক হাজার ৬০৯ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। চলতি বছরের জুন শেষে মোট আমানত স্থিতি এক হাজার ৬০৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ঋণ ও অগ্রিম ২০২৩ সালে ছিল এক হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা। সেখান থেকে কমে ২০২৫ সালে এক হাজার ৩৭২ কোটি টাকা হয়। চলতি বছরের মার্চ শেষে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৭২ কোটি টাকা।
ব্যাংকটির ঋণের প্রায় সম্পূর্ণ অংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯৮ দশমিক ২২ শতাংশ, যা বেড়ে চলতি বছরের মার্চে দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ। ফলে ব্যাংকটির মুনাফায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ২০২৩ সালে ছিল ১৬ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা কমে হয় তিন কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংকটি তিন কোটি টাকা লোকসানে রয়েছে।
বিদেশি ব্যাংকগুলোর ব্যবসায়িক সাফল্যের অন্যতম কারণ হলো তাদের কঠোর কমপ্লায়েন্স এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা। তারা সব ধরনের নিয়ম-কানুন মেনে পরিচালিত হয় এবং শাখার সংখ্যা সীমিত রাখলেও বাছাই করা গ্রাহকদের সেবা দেয়।- বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান
সিটি ব্যাংক এনএ
সিটি ব্যাংক এনএ বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। বাংলাদেশে ব্যাংকটির শাখা তিনটি। ২০২৩ সালে তাদের সম্পদ ছিল সাত হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে কমে সাত হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা হয়। তবে চলতি বছরের জুন শেষে মোট সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত হাজার ৮৩০ কোটি টাকা।
ব্যাংকটির আমানত ২০২৩ সালে ছিল পাঁচ হাজার ৫৮ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে পাঁচ হাজার ১০১ কোটি টাকা হয়। চলতি বছরের জুন শেষে মোট আমানত স্থিতি পাঁচ হাজার ২০১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ঋণ ও অগ্রিম ২০২৩ সালে ছিল দুই হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা। সেখান থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে দুই হাজার ৫০৭ কোটি টাকা হয়। চলতি বছরের জুন শেষে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫৩১ কোটি টাকা।
ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ২০২৩ সালে ছিল দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। ২০২৫ সালেও খেলাপি ঋণের হার একই ছিল। চলতি বছরের জুন শেষেও খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ২০২৩ সালে ছিল ২৭৭ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয় ৩২৮ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথমার্ধে ব্যাংকটির মুনাফা হয়েছে ৭৫ কোটি টাকা।
উচ্চ সুদ-আয়, বৈদেশিক বাণিজ্যে অর্থায়ন, ট্রেজারি কার্যক্রম ও করপোরেট ব্যাংকিংয়ের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়িক কাঠামো বিদেশি ব্যাংকগুলোকে মুনাফা ধরে রাখতে সহায়তা করেছে/ছবি: এআই নির্মিত
উরি ব্যাংক
উরি ব্যাংকের আমানত, ঋণ ও মোট সম্পদ প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশে ব্যাংকটির শাখা সাতটি। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ ছিল তিন হাজার ১০৩ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে পাঁচ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা হয়। চলতি বছরের জুন শেষে মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৯৯ কোটি টাকা।
ব্যাংকটির আমানত ২০২৩ সালে ছিল এক হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে তিন হাজার ১৭০ কোটি টাকা হয়। চলতি বছরের জুন শেষে মোট আমানত স্থিতি তিন হাজার ১৩২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ঋণ ও অগ্রিম ২০২৩ সালে ছিল ৯১৩ কোটি টাকা। সেখান থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে এক হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা হয়। চলতি বছরের জুন শেষে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা।
ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ২০২৩ সালে ছিল ২ দশমিক ৮০ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা কমে ২ দশমিক ৬২ শতাংশে নেমে আসে। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ২০২৩ সালে ছিল ৫৪ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয় ১৯৭ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথমার্ধে ব্যাংকটির মুনাফা হয়েছে ৪৮ কোটি টাকা।
এইচএসবিসি
হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক। বাংলাদেশে তাদের শাখা চারটি। ২০২৩ সালে ব্যাংকটির সম্পদ ছিল ৩৮ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে কমে ৩৩ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা হয়। চলতি বছরের জুন শেষে মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৫০১ কোটি টাকা।
ব্যাংকটির আমানত ২০২৩ সালে ছিল ২১ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা কমে ১৯ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা হয়। চলতি বছরের জুন শেষে মোট আমানত স্থিতি ১৭ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ঋণ ও অগ্রিম ২০২৩ সালে ছিল ২১ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। সেখান থেকে কমে ২০২৫ সালে ১৮ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা হয়। চলতি বছরের জুন শেষে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ২৯১ কোটি টাকা।
ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ২০২৩ সালে ছিল ৩ দশমিক ২০ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৪ শতাংশ হয়। তবে চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণের হার ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ নেমে এসেছে।
প্রতিষ্ঠানটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ২০২৩ সালে ছিল ৯৯৯ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা কমে হয় ৮৩৯ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথমার্ধে ব্যাংকটির মুনাফা হয়েছে ৪০৫ কোটি টাকা।
বাংলাদেশেও বিএসইসি এবং সরকারের যৌথ উদ্যোগে বিদেশি ব্যাংকগুলোর একটি নির্দিষ্ট অংশের শেয়ার শেয়ারবাজারে ছাড়ার ব্যবস্থা করা উচিত। এতে বাংলাদেশের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাদের শেয়ার কিনে লাভের অংশীদার হওয়ার সুযোগ পাবেন।- সাবেক অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী
ব্যাংক আল-ফালাহ
ব্যাংক আল-ফালাহ লিমিটেডের বাংলাদেশে শাখা সাতটি। প্রতিষ্ঠানটির মোট সম্পদ ২০২৩ সালে ছিল তিন হাজার ১৪৩ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে তিন হাজার ২১২ কোটি টাকা হয়। চলতি বছরের জুন শেষে মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ২৪৮ কোটি টাকা।
ব্যাংকটির আমানত ২০২৩ সালে ছিল দুই হাজার ২১৯ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা কমে দুই হাজার ৯৭ কোটি টাকা হয়। চলতি বছরের জুন শেষে মোট আমানত স্থিতি দুই হাজার ২৪৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ঋণ ও অগ্রিম ২০২৩ সালে ছিল এক হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। সেখান থেকে কমে ২০২৫ সালে এক হাজার ৩০৫ কোটি টাকা হয়। চলতি বছরের জুন শেষে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা।
ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ২০২৩ সালে ছিল ১ দশমিক ৯০ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ হয়। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩ শতাংশ হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ২০২৩ সালে ছিল ৪৩ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা কমে হয় ৩৭ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথমার্ধে ব্যাংকটির মুনাফা হয়েছে সাত কোটি টাকা।
খাত-সংশ্লিষ্টদের কে কী বলছেন
এ নিয়ে কথা হলে সাবেক অর্থসচিব এবং সাবেক মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো তুলনামূলক কম শাখা পরিচালনা করেও ভালো মুনাফা করছে, খেলাপি ঋণও কম রাখছে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো তাদের করপোরেট গভর্ন্যান্স শক্তিশালী এবং ঋণ বিতরণে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নেই। তারা স্বাধীনভাবে ও নিরপেক্ষভাবে প্রকল্প মূল্যায়ন করে ঋণ দেয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব বিদেশি ব্যাংক গণমানুষের জন্য ব্যাপক পরিসরে ব্যাংকিং (মাস ব্যাংকিং) করে না। তারা মূলত বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও উচ্চ সম্পদশালী (হাই নেটওয়ার্থ) গ্রাহকদের সেবা দেয়। অনেক বিদেশি ব্যাংক, যেমন এইচএসবিসি রিটেইল ব্যাংকিং বা সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের কার্যক্রমও সীমিত বা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে ছোট ছোট হিসাব পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয় তাদের বহন করতে হয় না, যা তাদের পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়- বলেন সোনালী ব্যাংকের সাবেক এই চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, দেশীয় ব্যাংকগুলো হাজার হাজার শাখার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাংকিংসেবা পৌঁছে দেয়। তারা ১০ টাকার হিসাব থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র সঞ্চয় হিসাবও পরিচালনা করে। এসব হিসাব রক্ষণাবেক্ষণে যে ব্যয় হয়, তা অনেক ক্ষেত্রে হিসাব থেকে প্রাপ্ত আয়ের চেয়েও বেশি। পাশাপাশি দেশীয় ব্যাংকগুলো বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সামাজিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের এই ভূমিকা ইতিবাচক।
বিদেশি ব্যাংকগুলোর একটি নির্দিষ্ট অংশের শেয়ার শেয়ারবাজারে ছাড়ার ব্যবস্থা করা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা/ফাইল ছবি
তিনি আরও বলেন, ‘দেশীয় ব্যাংকগুলোর কিছু দুর্বলতাও রয়েছে। বিশেষ করে বড় বড় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রকল্প মূল্যায়নে অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও বিশেষায়িত সক্ষমতার ঘাটতি দেখা যায়। আমাদের অনেক ব্যাংকার প্রকৃত অর্থে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার নন। ফলে শত শত কোটি টাকার প্রকল্প ঋণ মূল্যায়নে দুর্বলতা থেকে যায়। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালন ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রেও দেশীয় ব্যাংকগুলো বিদেশি ব্যাংকের তুলনায় পিছিয়ে আছে।’
বিদেশি ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়া-সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে মুসলিম চৌধুরী বলেন, বিদেশি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশে ব্যবসা করে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করছে, কিন্তু তারা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়। ফলে দেশের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাদের মালিকানায় অংশ নেওয়া বা মুনাফার অংশীদার হওয়ার সুযোগ পান না। অথচ ভারতে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে তালিকাভুক্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেখানে দেশীয় বিনিয়োগকারীরাও এসব ব্যাংকের শেয়ার কিনে লাভের অংশীদার হতে পারেন।
‘আমার মতে, বাংলাদেশেও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং সরকারের যৌথ উদ্যোগে বিদেশি ব্যাংকগুলোর একটি নির্দিষ্ট অংশের শেয়ার শেয়ারবাজারে ছাড়ার ব্যবস্থা করা উচিত। এতে বাংলাদেশের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাদের শেয়ার কিনে লাভের অংশীদার হওয়ার সুযোগ পাবেন। শুরুতে হয়তো তাদের কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখন সেই নীতিমালা পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে,’ যোগ করেন তিনি।
আরও একটি বাস্তবতা হলো, বিদেশি ব্যাংকগুলোর অনেকেই বাংলাদেশে অর্জিত মুনাফা স্থানীয়ভাবে ব্যবসা সম্প্রসারণে খুব বেশি বিনিয়োগ করছে না। বরং তারা লাভজনক করপোরেট ব্যাংকিংয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং রিটেইল ব্যাংকিং থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে। এইচএসবিসির রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত তারই একটি উদাহরণ- বলেন সাবেক এই অর্থ সচিব।
যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জাগো নিউজকে জানান, বিদেশি ব্যাংকগুলোর ব্যবসায়িক সাফল্যের অন্যতম কারণ হলো তাদের কঠোর কমপ্লায়েন্স এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা। তারা সব ধরনের নিয়ম-কানুন মেনে পরিচালিত হয় এবং শাখার সংখ্যা সীমিত রাখলেও বাছাই করা গ্রাহকদের সেবা দেয়।
তিনি বলেন, ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা অত্যন্ত সতর্ক থাকে। যে কেউ আবেদন করলেই ঋণ দেয় না, বরং গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা, ব্যবসার অবস্থা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র খুঁটিয়ে যাচাই-বাছাই করার পরই ঋণ অনুমোদন করে। ফলে তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকে এবং ঋণ আদায়ও ভালো হয়। এর ইতিবাচক প্রভাব তাদের মুনাফায় প্রতিফলিত হয়।
অন্যদিকে, দেশের অনেক ব্যাংক ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে সব সময় একই মাত্রার বিশ্লেষণ ও সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে না। ফলে খেলাপি ঋণ বেড়ে যায়, যা ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে- বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র।
বিদেশি ব্যাংকগুলোকে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি মূলত আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের বিষয় নয়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এখতিয়ারও এর সঙ্গে জড়িত।
বর্তমানে বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক কি না, তা তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। যদি আইনে তালিকাভুক্তির বাধ্যবাধকতা থেকে থাকে, তাহলে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী বিদেশি ব্যাংকগুলোরও সেই নিয়ম মেনে চলা উচিত।
এমএএস/একিউএফ/ এমএফএ
What's Your Reaction?




