দেশের জন্য আবু সাঈদের মতো বুক পেতে দিতে রাজি আছি: জামায়াত আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যেভাবে আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়েছিল, দেশের জন্য ওইভাবে বুক পেতে দিতে রাজি আছি। কিন্তু দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মান কারো কাছে বন্ধক রাখব না। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল নয়টায় রংপুরের পীরগঞ্জের জাফরপুর বামনপাড়ায় শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কথা দিচ্ছি—জীবন যাবে, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না। যেভাবে আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়েছিল, দেশের জন্য ওইভাবে বুক পেতে দিতে রাজি আছি। কিন্তু দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মান কারো কাছে বন্ধক রাখব না। আল্লাহ যেন এই তৌফিক দান করেন। আমরা এগিয়ে যাব, সবাই মিলে এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আমরা এখানে এসেছিলাম আমাদের আবেগের ঠিকানা, আমাদের কলিজার টুকরা, আপনাদের কলিজার টুকরা শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গে মোলাকাত করার জন্য। আমরা কৃতজ্ঞ, আপনারা ভালোবাসা দিয়ে, এই শহীদ পরিবারটি ভালোবাসা দিয়ে আমাদেরকে এখানে গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা এই পরিবারের এবং তাদের উছিলায় এই এলাকার সমস্ত মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আবু সাঈদসহ শহীদদের স্মরণ করে জামায়াতের আমির বলেন, আমরা অঙ্গীক
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যেভাবে আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়েছিল, দেশের জন্য ওইভাবে বুক পেতে দিতে রাজি আছি। কিন্তু দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মান কারো কাছে বন্ধক রাখব না।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল নয়টায় রংপুরের পীরগঞ্জের জাফরপুর বামনপাড়ায় শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কথা দিচ্ছি—জীবন যাবে, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না। যেভাবে আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়েছিল, দেশের জন্য ওইভাবে বুক পেতে দিতে রাজি আছি। কিন্তু দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মান কারো কাছে বন্ধক রাখব না।
আল্লাহ যেন এই তৌফিক দান করেন। আমরা এগিয়ে যাব, সবাই মিলে এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আমরা এখানে এসেছিলাম আমাদের আবেগের ঠিকানা, আমাদের কলিজার টুকরা, আপনাদের কলিজার টুকরা শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গে মোলাকাত করার জন্য। আমরা কৃতজ্ঞ, আপনারা ভালোবাসা দিয়ে, এই শহীদ পরিবারটি ভালোবাসা দিয়ে আমাদেরকে এখানে গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা এই পরিবারের এবং তাদের উছিলায় এই এলাকার সমস্ত মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।
আবু সাঈদসহ শহীদদের স্মরণ করে জামায়াতের আমির বলেন, আমরা অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি, শহীদ আবু সাঈদ এবং তার সঙ্গীরা যারা জীবন দিয়ে আমাদেরকে ঋণী করে গিয়েছেন, আমাদের ঘাড়ে তারা যে দায়িত্বের বোঝা রেখে গিয়েছেন, যে আমানতের বোঝা রেখে গিয়েছেন—তাদের মতো আমরা জীবন দিয়ে তাদের সেই আমানত রক্ষা করার জন্য আমরা লড়ে যাব ইনশাআল্লাহ।
শফিকুর রহমান বলেন, তাদের যে আকাঙ্ক্ষা, যে প্রত্যাশা ছিল—একটি দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, দুঃশাসনমুক্ত, আধিপত্যবাদমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার। যে বাংলাদেশে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করবে এবং যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী, দক্ষতা অনুযায়ী জাতি গঠনে, উন্নয়নে অবদান রাখবে। এখানে কোনো ধরনের বৈষম্য হবে না। এর জন্য তারা রাস্তায় নেমে স্লোগান দিয়েছিল—‘উই ওয়ান্ট জাস্টিজ’ আমরা চাই ন্যায়বিচার। আমরা সেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আল্লাহ আমাদের এই কমিটমেন্ট পূরণ করার তৌফিক দান করুন।
তিনি বলেন, আমরা তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ। আমাদের নিজস্ব কোনো অ্যাজেন্ডা নাই। আপনারা দেখেছেন, ৫ আগস্টের পর থেকে ২৪ সালের এ পর্যন্ত আমরা কোনো চাঁদাবাজি করি নাই, আমরা কোনো দখলদারি করি নাই, আমরা কোনো দুর্নীতি করি নাই। আমরা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করি নাই, আমরা কারো ওপর ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশোধ নেইনি। বরঞ্চ আমরা চেয়েছি একটি শান্তির বাংলাদেশ গঠন করার জন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে। আমরা আমাদের জাতিকে বিভক্ত হতে দেব না।
বিভক্তির অবসান ঘটানোর জন্যই আমরা ১০টি দল একত্রিত হয়েছি উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, দশে মিলে আপনাদের সামনে এসেছি। আমরা বাংলাদেশের ৩০০ আসনে পারস্পরিক সমঝতার ভিত্তিতে বিভিন্ন দল থেকে প্রার্থী দিয়েছি। এখানেও আমার সঙ্গে কিছু প্রার্থী আছেন। বিশেষ করে এই আসনে ১০ দলের পক্ষ থেকে যাকে দেওয়া হয়েছে—একজন মুফাসসিরে কুরআন, বিশিষ্ট আলেম দ্বীন, সারা বাংলাদেশের মানুষ যাকে মহব্বত করে, যাকে চিনে—সেই রকম একটা কণ্ঠ, একটা ব্যক্তিত্ব, আপনাদেরই এক সন্তান আপনাদের কাছে আমরা দিয়েছি।
এর আগে কবর জিয়ারত শেষে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন শফিকুর রহমান। এসময় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ জোটের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জিতু কবীর/কেএইচকে
What's Your Reaction?