দেড় বছর পর সচল টেকনাফ স্থলবন্দর, পরিদর্শনে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

দীর্ঘ দেড় বছর স্থবির থাকার পর অবশেষে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরেজমিনে বন্দর পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে কক্সবাজার সার্কিট হাউস থেকে সড়কপথে টেকনাফের উদ্দেশে রওনা হয়ে দুপুর ১২টার দিকে বন্দরে পৌঁছান তিনি। পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পরে কক্সবাজার লাইট হাউসের উদ্দেশে রওনা দেন। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ থেকেই বন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হচ্ছে। তিনি জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, কোস্ট গার্ড, বিজিবি, পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে জনগণের প্রত্যাশার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর মিয়ানমারের মংডুসহ প্রায় ২৭০ কিলোমিটার এলাকা দখলের পর আরাকান আর্মি নাফ নদীতে আধিপত্য বিস্তার করে। এর ফলে আকিয়াব ও ইয়াঙ্গুন থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রলারগুলো বিভিন্ন সময় আটকে রেখে চাঁদা

দেড় বছর পর সচল টেকনাফ স্থলবন্দর, পরিদর্শনে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

দীর্ঘ দেড় বছর স্থবির থাকার পর অবশেষে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরেজমিনে বন্দর পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে কক্সবাজার সার্কিট হাউস থেকে সড়কপথে টেকনাফের উদ্দেশে রওনা হয়ে দুপুর ১২টার দিকে বন্দরে পৌঁছান তিনি। পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পরে কক্সবাজার লাইট হাউসের উদ্দেশে রওনা দেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ থেকেই বন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হচ্ছে। তিনি জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, কোস্ট গার্ড, বিজিবি, পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে জনগণের প্রত্যাশার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর মিয়ানমারের মংডুসহ প্রায় ২৭০ কিলোমিটার এলাকা দখলের পর আরাকান আর্মি নাফ নদীতে আধিপত্য বিস্তার করে। এর ফলে আকিয়াব ও ইয়াঙ্গুন থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রলারগুলো বিভিন্ন সময় আটকে রেখে চাঁদা দাবি করা হয়। এতে করে বন্দর কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

সর্বশেষ, ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মিয়ানমার থেকে একটি কাঠবোঝাই ট্রলার বন্দরে পৌঁছানোর পর আর কোনো পণ্য আমদানি হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। প্রায় এক বছর ধরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়ে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির আশঙ্কায় বন্দর বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি জানান, বন্দরকেন্দ্রিক কার্যক্রমে কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ত হতে দেওয়া হবে না। শুধু বাংলাদেশি নাগরিকদেরই কাজের সুযোগ থাকবে এবং কর্মরতদের জন্য নাগরিকত্ব সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য ১৯৯৫ সালে শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালের ৫ নভেম্বর ২৭ একর জমির ওপর টেকনাফ স্থলবন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে, যা দুই দেশের বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow