দোয়েল ও নিশাত অভিনীতি স্বল্পদৈর্ঘ্য মুক্তি পেল ফেসবুকে
নারীরা কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছেন। নেতৃত্বেও আসছেন। কিন্তু পথটা সব সময় সহজ নয়। পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজের নানা প্রত্যাশা তাদের প্রতিদিন মোকাবিলা করতে হয়। অনেক বাধা আবার দৃশ্যমানও নয়। সেই বাস্তবতার গল্পই বলছে নতুন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বিহান’। মুক্তি পেয়েছে ফেসবুকে। অক্সফাম ইন বাংলাদেশের ‘রাইজ অ্যান্ড লিড’ উদ্যোগের ভাবনা থেকে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। পরিচালনা করেছেন হেমন্ত সাদীক। কেন্দ্রীয় দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলরুবা দোয়েল ও নিশাত প্রিয়ম। দুই নারীর লড়াই‘বিহান’-এর গল্প শিউলি ও রাখিকে ঘিরে। দুজনই কর্মজীবী নারী। পেশাজীবনে এগিয়ে যেতে গিয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হয় নানা চাপ ও প্রত্যাশার। তাদের গল্পে উঠে আসে আচরণ নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশা। আসে পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে যত্নের অসম দায়িত্ব। নিজের সক্ষমতা নিয়েও তৈরি হয় সংশয়। এসব বিষয় কীভাবে নারীর সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষাকে প্রভাবিত করে, সেটিই দেখানো হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে। তবে ‘বিহান’ শুধু বাধার গল্প নয়। একজন নারী যখন নিজের কণ্ঠ ও সক্ষমতাকে নতুনভাবে চিনতে শুরু করেন, তখন পরিবর্তনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়। চলচ্চিত্রটি সেই জায়গাটিও সামনে আনে। বড় ব
নারীরা কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছেন। নেতৃত্বেও আসছেন। কিন্তু পথটা সব সময় সহজ নয়। পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজের নানা প্রত্যাশা তাদের প্রতিদিন মোকাবিলা করতে হয়। অনেক বাধা আবার দৃশ্যমানও নয়। সেই বাস্তবতার গল্পই বলছে নতুন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বিহান’। মুক্তি পেয়েছে ফেসবুকে।
অক্সফাম ইন বাংলাদেশের ‘রাইজ অ্যান্ড লিড’ উদ্যোগের ভাবনা থেকে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। পরিচালনা করেছেন হেমন্ত সাদীক। কেন্দ্রীয় দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলরুবা দোয়েল ও নিশাত প্রিয়ম।
দুই নারীর লড়াই
‘বিহান’-এর গল্প শিউলি ও রাখিকে ঘিরে। দুজনই কর্মজীবী নারী। পেশাজীবনে এগিয়ে যেতে গিয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হয় নানা চাপ ও প্রত্যাশার। তাদের গল্পে উঠে আসে আচরণ নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশা। আসে পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে যত্নের অসম দায়িত্ব। নিজের সক্ষমতা নিয়েও তৈরি হয় সংশয়। এসব বিষয় কীভাবে নারীর সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষাকে প্রভাবিত করে, সেটিই দেখানো হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে।
তবে ‘বিহান’ শুধু বাধার গল্প নয়। একজন নারী যখন নিজের কণ্ঠ ও সক্ষমতাকে নতুনভাবে চিনতে শুরু করেন, তখন পরিবর্তনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়। চলচ্চিত্রটি সেই জায়গাটিও সামনে আনে।
বড় বক্তৃতা নয়, পরিচিত বাস্তবতা
পরিচালক হেমন্ত সাদীক বলেন, নারীর ক্ষমতায়নকে কোনো নাটকীয় বক্তৃতা বা অসাধারণ ঘটনার মধ্য দিয়ে দেখাতে চাননি তারা। বরং খুব সাধারণ সংগ্রামকেই গল্পের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
তার মতে, এসব সংগ্রাম সাধারণ বলেই গুরুত্বপূর্ণ। নেতৃত্বের শুরু কখনো কখনো নিজেকে চিনতে শেখার মধ্য দিয়েও হতে পারে।
সেই ভাবনা চলচ্চিত্রের দৃশ্যভাষাতেও রয়েছে। পরিচিত মধ্যবিত্ত শহুরে পরিবেশ ব্যবহার করা হয়েছে। অভিনয় রাখা হয়েছে স্বাভাবিক। আচরণের সূক্ষ্ম পরিবর্তনকে দেওয়া হয়েছে গুরুত্ব।
আত্ম-অন্বেষণের প্রতীক হিসেবে বারবার এসেছে আয়না ও প্রতিবিম্ব। আর শেষ দৃশ্যের সবুজ ট্রাফিক সিগন্যাল সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বদলাতে হবে শুধু নারীকে নয়
অভিনেত্রী নিশাত প্রিয়মের চোখেও ‘বিহান’-এর নারীরা খুব পরিচিত। তারা দক্ষ, দায়িত্বশীল। কিন্তু পরিবার, কর্মক্ষেত্র এবং নিজেদের ভেতরেও নানা প্রত্যাশার সঙ্গে তাদের প্রতিনিয়ত বোঝাপড়া করতে হয়।
অক্সফাম ইন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মাহমুদা সুলতানার বক্তব্যেও উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তিনি বলেছেন, শুধু নারীদের আত্মবিশ্বাসী বা উচ্চাকাঙ্ক্ষী হতে বললেই নেতৃত্ব নিশ্চিত হবে না। পরিবর্তন আনতে হবে প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও পরিবারেও। নারীর সক্ষমতাকে স্বীকৃতি দিতে হবে। যত্নের দায়িত্ব আরও ন্যায্যভাবে ভাগ করতে হবে। তৈরি করতে হবে সমান সুযোগ। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও ভাগ করে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
নেতৃত্বের শুরু কোথায়?
শিউলি ও রাখির গল্প এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসে চলচ্চিত্রটির মূল প্রশ্ন। একজন নারী কীভাবে নিজের সক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার শক্তিকে চিনবেন? ‘বিহান’ সেই উত্তর খোঁজে ব্যক্তির পাশাপাশি পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও প্রতিষ্ঠানের বাস্তবতার মধ্যেও।
‘রাইজ অ্যান্ড লিড’ উদ্যোগের এই জনসম্পৃক্ততামূলক প্রয়াসের লক্ষ্যও একই। ব্যক্তি, পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও কাঠামোগত পর্যায়ে নারীর নেতৃত্বের পথে থাকা বাধাগুলো চিহ্নিত করা এবং পরিবর্তনের জন্য কাজ করা।
মো. শরিফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে নির্মিত চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য লিখেছেন শাওন কড়ি। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাপ্পী আশরাফ, নাজমুল হাসান, আদনান চৌধুরী, প্রিয়ন্ময়ী প্রিয় ও সায়ান রহমান। ‘বিহান’ মুক্তি পেয়েছে আজ (১৪ আগস্ট) রাত ৮টায় অক্সফাম ইন বাংলাদেশের ফেসবুকে।
আরএমডি
What's Your Reaction?