দ্রুত চাকরি পাওয়ার শক্তিশালী দোয়া ও আমল

দেশের বর্তমান বাস্তবতায় চাকরি পাওয়া অনেকের কাছেই হয়ে উঠেছে দুষ্কর এক সংগ্রামের নাম। শিক্ষিত যুবক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবাই কোনো না কোনোভাবে কর্মসংস্থানের সন্ধানে ছুটে বেড়াচ্ছেন বছরের পর বছর। পরীক্ষার পর পরীক্ষা, ইন্টারভিউয়ের পর ইন্টারভিউ দিয়েও যখন প্রত্যাশিত ফল আসে না, তখন হতাশা আর অনিশ্চয়তা ভর করে জীবনে। পরিবার-পরিজনের দায়িত্ব, সামাজিক চাপ আর জীবিকার তাগিদ—সব মিলিয়ে বহু মানুষই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। এমন সংকটময় সময়ে একজন মুসলমানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা ও তাওয়াক্কুল। কারণ রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই। তিনি যাকে চান, যেভাবে চান, যে সময়ে চান—উত্তম রিজিক দান করেন। তাই চাকরি বা কর্মসংস্থানের জন্য সাধ্যের সবটুকু চেষ্টা করার পাশাপাশি সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দোয়া করা চাই। তাঁর কাছে সাহায্য চাইলে, তিনি চাহিদা ও প্রয়োজন মোতাবেক পথ খুলে দেবেন ইনশাআল্লাহ। বর্তমানে ইন্টারনেটে চাকরি লাভের নানা আমল বা দোয়া ঘুরে বেড়াচ্ছে, যেগুলোর অধিকাংশই নির্ভরযোগ্য দলিলবিহীন। তাই এখানে কোরআন শরিফে বর্ণিত একটি বিশুদ্ধ দোয়া বা আমল তুলে ধরা হলো, যা চাকরিপ্রত্

দ্রুত চাকরি পাওয়ার শক্তিশালী দোয়া ও আমল

দেশের বর্তমান বাস্তবতায় চাকরি পাওয়া অনেকের কাছেই হয়ে উঠেছে দুষ্কর এক সংগ্রামের নাম। শিক্ষিত যুবক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবাই কোনো না কোনোভাবে কর্মসংস্থানের সন্ধানে ছুটে বেড়াচ্ছেন বছরের পর বছর।

পরীক্ষার পর পরীক্ষা, ইন্টারভিউয়ের পর ইন্টারভিউ দিয়েও যখন প্রত্যাশিত ফল আসে না, তখন হতাশা আর অনিশ্চয়তা ভর করে জীবনে। পরিবার-পরিজনের দায়িত্ব, সামাজিক চাপ আর জীবিকার তাগিদ—সব মিলিয়ে বহু মানুষই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।

এমন সংকটময় সময়ে একজন মুসলমানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা ও তাওয়াক্কুল। কারণ রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই। তিনি যাকে চান, যেভাবে চান, যে সময়ে চান—উত্তম রিজিক দান করেন। তাই চাকরি বা কর্মসংস্থানের জন্য সাধ্যের সবটুকু চেষ্টা করার পাশাপাশি সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দোয়া করা চাই। তাঁর কাছে সাহায্য চাইলে, তিনি চাহিদা ও প্রয়োজন মোতাবেক পথ খুলে দেবেন ইনশাআল্লাহ।

বর্তমানে ইন্টারনেটে চাকরি লাভের নানা আমল বা দোয়া ঘুরে বেড়াচ্ছে, যেগুলোর অধিকাংশই নির্ভরযোগ্য দলিলবিহীন। তাই এখানে কোরআন শরিফে বর্ণিত একটি বিশুদ্ধ দোয়া বা আমল তুলে ধরা হলো, যা চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য হতে পারে আলোর দিশারি। বিশ্বাস ও ভরসার সঙ্গে এই আমল করলে আল্লাহতায়ালা দ্রুত উত্তম রিজিকের দ্বার খুলে দেবেন।

চাকরি লাভের কোরআনি আমল

এই দোয়াটি আল্লাহর নবী মুসাও (আ.) করেছিলেন। দোয়াটি হলো, رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ

উচ্চারণ : রাব্বি ইন্নি লিমা- আনজালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফাকির।

অর্থ : হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ পাঠাবে, আমি সেটার মুখাপেক্ষী। (সুরা আল-কাসাস : ২৪)


চাকরি পেতে তাসবিহ পাঠ

ভালো চাকরি লাভের জন্য আল্লাহর গুণবাচক নামের আমল করা এবং বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা চাই। আর রাব্বুল আলামিনের গুণবাচক নামগুলোর একটি হলো, يَا وَهَّابُ

উচ্চারণ : ইয়া ওয়াহহাবু

অর্থ : কোনোরূপ প্রতিদান ব্যতীত অধিক দানকারী।

উলামা হজারাতের দাবি, যারা এসব আমল বেশি বেশি করবেন; আল্লাহতায়ালা তাদের রিজিকে বরকত দান করবেন। তাদের কোনো অভাব-অনটন ও প্রয়োজন থাকলে দ্রুত সবকিছুর সমাধান দেবেন।

প্রসঙ্গত, ইসলামের মহান নবী হজরত মুসা (আ.) ফেরাউনের রোষানলে পড়ে মিসর ছেড়ে মাদায়িন শহরে গিয়ে পৌঁছান।কিন্তু সেখানে তার কোনো আশ্রয়ের কিংবা জীবিকার কোনো সংস্থান ছিল না। সেই ঘটনা উল্লেখ করে সুরা কাসাসে রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘যখন তিনি মাদইয়ান অভিমুখে রওয়ানা হলেন, তখন বললেন, আশা করা করছি আমার পালনকর্তা আমাকে সরল পথ দেখাবেন। যখন তিনি মাদইয়ানের কূপের ধারে পৌঁছলেন, তখন কূপের কাছে একদল লোককে পেলেন, যারা পশুদের পানি পান করানোর কাজে ব্যস্ত ছিল। আর তাদের পেছনে দুইজন নারীকেও দেখলেন—তারা তাদের পশুগুলোকে আগলিয়ে রাখছে। তিনি (মুসা) বললেন, তোমাদের কী ব্যাপার? তারা বললেন, রাখালরা ওদের পশুগুলোকে নিয়ে সরে না গেলে আমরা আমাদের পশুগুলোকে পানি পান করাতে পারি না। আর আমাদের বাবা অশীতিপর বৃদ্ধ।’ ( আয়াত : ২২-২৩)

এরপরের আয়াতেই মুসা (আ.)-এর কাজ চেয়ে আল্লাহর মুখাপেক্ষী হওয়ার বিনীত নিবেদনের কথা বলা হয়েছে— ‘অতঃপর মুসা তাদের (দুই নারীর) জন্তুদের পানি পান করালেন। এরপর তিনি ছায়ার দিকে ফিরে গেলেন এবং বললেন, হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ অবতীর্ণ করবে, আমি সেটার মুখাপেক্ষী।’ (আয়াত : ২৪)

অর্থাৎ আমার আশ্রয়, কাজ ও কর্মসংস্থান দরকার। আর তুমি আমার জন্য যে কাজ বা জীবিকার ব্যবস্থা করবে, আমি সেটারই মুখাপেক্ষী। ভালো চাকরি ও উত্তম কর্মসংস্থান পেতে যে এ দোয়া কার্যকরী, তা পরের আয়াতেই বর্ণিত ঘটনায় প্রমাণিত।

আল্লাহ বলেন, ‘তখন (ওই) দুই নারীর একজন লজ্জাজড়িত পদে তার কাছে এসে বলল, আপনি যে আমাদের পশুগুলোকে পানি পান করিয়েছেন, তার পারিশ্রমিক দেওয়ার জন্য আমার বাবা আপনাকে ডাকছেন। অতঃপর মুসা (আ.) তার কাছে এসে সব ঘটনা বর্ণনা করলে বৃদ্ধ বলেন, ‘ভয় করো না, তুমি জালিম সম্প্রদায়ের কবল থেকে বেঁচে গেছ। ওদের (দুই নারীর) একজন বলল, হে আব্বা! আপনি একে মজুর-কর্মী হিসেবে নিযুক্ত করুন। কারণ, আপনার চাকর-মজুর হিসেবে নিশ্চয়ই সে (মুসা) উত্তম হবে, শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত হবে।’ (আয়াত : ২৫-২৬)

হজরত মুসা (আ.) এভাবেই দোয়া ও অন্যকে সহযোগিতা করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তম কর্মক্ষেত্র, জীবিকা এবং আশ্রয় লাভ করেছিলেন। সুতরাং যারা ভালো চাকরি বা কর্মসংস্থান খুঁজছেন, তাদের উচিত সার্বিক চেষ্টার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে এসব আমলের মাধ্যমে সহযোগিতা কামনা করা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow