দ্রুত নগরায়ণের চাপে গ্রিন বিল্ডিং নীতি জরুরি

বাংলাদেশের দ্রুত নগরায়ণ প্রাকৃতিক সম্পদ ও অবকাঠামোর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে। এ প্রেক্ষাপটে জাতীয় গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেশন কাঠামোর আওতায় নিম্ন-কার্বন উপকরণ ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান, ভবনের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় নীতি ও জলবায়ু প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতি প্রণয়ন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশে টেকসই ভবন নির্মাণের জন্য জাতীয় গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেশন কাঠামো (ডিইএসএইচ) প্রণয়নের লক্ষ্যে সোমবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকায় এক উচ্চপর্যায়ের অংশীজন পরামর্শ সভায় এ মতামত তুলে ধরা হয়। এই সভায় সরকার, একাডেমিয়া, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা দেশীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সার্টিফিকেশন পদ্ধতি যৌথভাবে উন্নয়ন ও যাচাইয়ের বিষয়ে মতামত প্রদান করেন। প্রতীকী ছবি: এআই নির্মিত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই), জাতিসংঘের প্রকল্প সেবা দপ্তর এবং জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির সহযোগিতায় এই পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়। ‘বাংলাদেশে টেকসই উপকরণের মাধ্যমে নির্মিত পরিবেশ রূপান্তর’ শী

দ্রুত নগরায়ণের চাপে গ্রিন বিল্ডিং নীতি জরুরি

বাংলাদেশের দ্রুত নগরায়ণ প্রাকৃতিক সম্পদ ও অবকাঠামোর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে। এ প্রেক্ষাপটে জাতীয় গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেশন কাঠামোর আওতায় নিম্ন-কার্বন উপকরণ ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান, ভবনের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় নীতি ও জলবায়ু প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতি প্রণয়ন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশে টেকসই ভবন নির্মাণের জন্য জাতীয় গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেশন কাঠামো (ডিইএসএইচ) প্রণয়নের লক্ষ্যে সোমবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকায় এক উচ্চপর্যায়ের অংশীজন পরামর্শ সভায় এ মতামত তুলে ধরা হয়।

এই সভায় সরকার, একাডেমিয়া, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা দেশীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সার্টিফিকেশন পদ্ধতি যৌথভাবে উন্নয়ন ও যাচাইয়ের বিষয়ে মতামত প্রদান করেন।

jagonews24

প্রতীকী ছবি: এআই নির্মিত

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই), জাতিসংঘের প্রকল্প সেবা দপ্তর এবং জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির সহযোগিতায় এই পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়।

‘বাংলাদেশে টেকসই উপকরণের মাধ্যমে নির্মিত পরিবেশ রূপান্তর’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা জার্মান ফেডারেল অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয় অর্থায়ন করছে।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই সভা একটি কার্যকর জাতীয় সার্টিফিকেশন কাঠামো গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই কাঠামো জলবায়ু সহনশীলতা, সম্পদ ব্যবহারের দক্ষতা, পানি, জ্বালানি, নির্মাণ উপকরণ এবং মানবস্বাস্থ্যের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সারওয়ার আলম, উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল, এইচবিআরআই-এর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন হায়দার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক এবং জাতিসংঘের প্রকল্প সেবা দপ্তরের এইচএসএসই বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. আশিকুর রহমান জোয়ার্দার।

সকলেই একমত পোষণ করে বলেন, এই পরামর্শ সভাটি কেবল প্রচলিত উপস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি একটি কারিগরি কর্মসেশন হিসেবে পরিচালিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা সক্রিয়ভাবে আলোচনায় অংশ নেন। তারা কাঠামোর গঠন, বিভিন্ন শ্রেণি এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি পর্যালোচনা করেন এবং দলীয় আলোচনা, কারিগরি সেশন ও উন্মুক্ত মতবিনিময়ের মাধ্যমে মতামত দেন।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সারওয়ার আলম বলেন, দেশের জলবায়ু ও উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি জাতীয় কাঠামো তৈরি অত্যন্ত জরুরি এবং টেকসই নির্মাণচর্চা নিশ্চিত করা শহুরে উন্নয়নের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল বলেন, টেকসই নির্মাণব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং নীতিগত সামঞ্জস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ড. মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন হায়দার বলেন, নির্মাণ খাতে উদ্ভাবন এগিয়ে নিতে এইচবিআরআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, অর্থনীতি ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটায়—এমন একটি দেশীয় সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা সময়োপযোগী উদ্যোগ।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক আশিকুর রহমান জোয়ার্দার বলেন, সার্টিফিকেশন ব্যবস্থায় বৈজ্ঞানিক কঠোরতা এবং বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতার সমন্বয় থাকা প্রয়োজন, যাতে এটি প্রযুক্তিগতভাবে নির্ভরযোগ্য এবং দেশব্যাপী প্রয়োগযোগ্য হয়।

বাংলাদেশের দ্রুত নগরায়ণ প্রাকৃতিক সম্পদ ও অবকাঠামোর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে। এ প্রেক্ষাপটে ডিইএসএইচ কাঠামো নিম্ন-কার্বন উপকরণ ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান, ভবনের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় নীতি ও জলবায়ু প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই পরামর্শ সভা থেকে সার্টিফিকেশন কাঠামোর কারিগরি যাচাই সম্পন্ন হওয়া, অংশীজনদের সুসংহত সুপারিশ প্রাপ্তি, কাঠামোর উন্নত গঠন ও কার্যকর প্রয়োগযোগ্যতা নিশ্চিত করা, জাতীয় প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য স্থাপন এবং পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বাস্তবায়নের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন প্রত্যাশিত।

বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বয় এবং কারিগরি ঐকমত্য গড়ে তোলার মাধ্যমে এই উদ্যোগটি একটি জাতীয়ভাবে প্রাসঙ্গিক গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশকে আরও টেকসই ও সহনশীল নির্মিত পরিবেশের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

আইএইচও/এসএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow