ধর্ষণচেষ্টার বিচার গ্রাম্য সালিশে, বাকিতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও চড়থাপ্পরের রায়

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার কাঁচিকাটা ইউনিয়নে এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে সালিশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও চড়থাপ্পরের রায় দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আগামী ১০ দিনের মধ্যে জরিমানার টাকা পরিশোধ করবেন এবং তখনই সালিশকারীরা তাকে চড়থাপ্পর মারেন। রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কাঁচিকাটা ইউনিয়নের দুলারচর নতুন বাজারের পাশে পশ্চিম মনাই হাওলাদার কান্দি গ্রামে এই সালিশ বৈঠক বসে। এই ধরনের অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে করায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার এলাকায় একটি বাড়ির পাশে বিয়ের আয়োজন ছিল। চরভাগা ইউনিয়নের কাজী কান্দি গ্রামের বাসিন্দা কামাল কাজী সেখানে দাওয়াতে গিয়ে আত্মীয়তার সূত্র ধরে শিশুটিকে টাকার লোভ দেখিয়ে কাছে ডেকে নেয়। একপর্যায়ে তিনি চতুর্থ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে ঝাপটে ধরে ধৈঞ্চা ক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে আটক করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সা

ধর্ষণচেষ্টার বিচার গ্রাম্য সালিশে, বাকিতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও চড়থাপ্পরের রায়

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার কাঁচিকাটা ইউনিয়নে এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে সালিশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও চড়থাপ্পরের রায় দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আগামী ১০ দিনের মধ্যে জরিমানার টাকা পরিশোধ করবেন এবং তখনই সালিশকারীরা তাকে চড়থাপ্পর মারেন।

রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কাঁচিকাটা ইউনিয়নের দুলারচর নতুন বাজারের পাশে পশ্চিম মনাই হাওলাদার কান্দি গ্রামে এই সালিশ বৈঠক বসে।

এই ধরনের অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে করায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার এলাকায় একটি বাড়ির পাশে বিয়ের আয়োজন ছিল। চরভাগা ইউনিয়নের কাজী কান্দি গ্রামের বাসিন্দা কামাল কাজী সেখানে দাওয়াতে গিয়ে আত্মীয়তার সূত্র ধরে শিশুটিকে টাকার লোভ দেখিয়ে কাছে ডেকে নেয়। একপর্যায়ে তিনি চতুর্থ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে ঝাপটে ধরে ধৈঞ্চা ক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে আটক করেন।

পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক বসানো হয়। সালিশে মাতব্বরদের জেরার মুখে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। পরে ওই বৈঠকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও চড়থাপ্পরের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

একজন ইউনিয়নের মেম্বার হয়ে এমন সালিশ বৈঠক করার ঘটনায় এলাকায় আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না বলে জানা গেছে।

সালিশের বিষয়ে ইউপি সদস্য নাছির হাওলাদার বলেন, বাকিতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও চড়থাপ্পরের মাধ্যমে সুরাহা করা হয়েছে। গ্রাম্য সালিশরা কি ধর্ষণচেষ্টার বিচার করতে পারে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জানতে চাইলে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, শিশুটির পরিবারের অভিযোগ পেলে দ্রুত মামলা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow