ধারাবাহিক শুনানি হলে ১৫ দিনেই শেষ হতে পারে রামিসা হত্যার বিচার

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলাটি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, ধারাবাহিক শুনানি হলে ১৫ দিনের মধ্যেই মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানি শেষে আদালত মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে পাঠিয়েছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। এর আগে সোমবার (১ জুন) সকাল থেকেই ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সকাল পৌনে ৮টার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে আসামিদের আদালতে আনা হয়। বেলা ১১টার দিকে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে পুলিশের কড়া পাহারায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ধার্য করেছেন আদালত। ১৫ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার আশা রাষ্ট্রপক্ষের ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক

ধারাবাহিক শুনানি হলে ১৫ দিনেই শেষ হতে পারে রামিসা হত্যার বিচার

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলাটি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, ধারাবাহিক শুনানি হলে ১৫ দিনের মধ্যেই মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানি শেষে আদালত মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে পাঠিয়েছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।

এর আগে সোমবার (১ জুন) সকাল থেকেই ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সকাল পৌনে ৮টার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে আসামিদের আদালতে আনা হয়। বেলা ১১টার দিকে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে পুলিশের কড়া পাহারায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়।

ধারাবাহিক শুনানি হলে ১৫ দিনেই শেষ হতে পারে রামিসা হত্যার বিচার

শুনানি শেষে আদালত সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

১৫ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার আশা রাষ্ট্রপক্ষের

ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী জাগো নিউজকে বলেন, রামিসা হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুত বিচার চায়। তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এখন বিচারিক কার্যক্রমও দ্রুত শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালত চাইলে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন শুনানি নিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে পারেন। রাষ্ট্রপক্ষ সেই প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করবে।’

পিপি আরও বলেন, মামলাটির গুরুত্ব ও জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তবে বিচারকাজ কত দ্রুত শেষ হবে, সেটি শেষ পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। ধারাবাহিক শুনানি হলে ১৫ দিনের মধ্যেই মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের ধারণা, সাক্ষীদের উপস্থিতি ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনো জটিলতা না হলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই মামলার রায় দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

আরও পড়ুন
রামিসা হত্যা: সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর বিচার শুরু
রামিসাকে ধর্ষণ করছে ডলার, মারছেও ডলার: সোহেল রানা
অভিযোগ গঠনের শুনানি কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ?

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে যা বলেছেন সোহেল রানা

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, পেশায় অটোরিকশা মেকানিক সোহেল রানা গত ২০ মে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

জবানবন্দি অনুযায়ী, সাবলেটের অন্য সদস্যরা প্রতিদিন কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। ঘটনার দিন ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাশের বাসার শিশু রামিসাকে দেখতে পেয়ে তিনি তাকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। পরে শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে যান। সেখানে রামিসা চিৎকার শুরু করলে তিনি তার মুখ চেপে ধরেন এবং মুখে কাপড় গুঁজে দেন। এরপর তাকে ধর্ষণ করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জবানবন্দিতে সোহেল রানা দাবি করেন, একপর্যায়ে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তিনি তাকে মৃত মনে করেন। পরে অপরাধের আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে একটি ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে মরদেহ বিকৃত করার চেষ্টা করেন বলেও স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাথা বিচ্ছিন্ন করার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শকে রামিসার মৃত্যু হয়।

অভিযোগ গঠন শুনানি কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ?আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তার শরীরে পাওয়া সব আঘাত মৃত্যুর আগে বা জীবিত অবস্থায় সংঘটিত হয়েছিল। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতিরও বর্ণনা দিয়েছেন সোহেল রানা।

তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এলাকার লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা রামিসাকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে শিশুটির মা তার কক্ষের সামনে রামিসার জুতো দেখতে পান এবং তাকে ডাকাডাকি শুরু করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে আশপাশের লোকজন তার কক্ষের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন।

জবানবন্দি অনুযায়ী, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে পালিয়ে যেতে বলেন। এরপর তিনি একটি রেঞ্জ (যন্ত্রপাতি) ব্যবহার করে জানালার গ্রিল ভেঙে ফেলেন। তিনি দাবি করেন, বাইরে লোকজন যখন দরজায় ক্রমাগত ধাক্কা দিচ্ছিল, তখন তার স্ত্রী দরজা আটকে রেখে তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। সোহেল পালিয়ে যাওয়ার পর স্বপ্না দরজা খুলে দেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ গঠন শুনানি কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ?আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার, ছবি: সংগৃহীত

৪৭ পৃষ্ঠার চার্জশিটে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ গত ২৪ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন।

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জাগো নিউজকে বলেন, মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(২)/৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৯(২) ধারায় ধর্ষণের ফলে মৃত্যুর শাস্তির বিধান রয়েছে, ৩০ ধারায় অপরাধে সহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ আছে এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় অপরাধের আলামত নষ্ট বা গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ধারাবাহিক শুনানি হলে ১৫ দিনেই শেষ হতে পারে রামিসা হত্যার বিচার

দুই আসামির বিরুদ্ধে কী অভিযোগ

তদন্তে প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে মো. সোহেল রানাকে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন এবং পরবর্তীতে আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করেন।

অপরদিকে তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ জাগো নিউজকে বলেন, ‘সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর মৃত্যুর ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।’

আরও পড়ুন
এক মাসের মধ্যে রামিসা হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে
রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট জমা দিলো পুলিশ
রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে ৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র, সাক্ষী ১৫

ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুতের ক্ষেত্রে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ভিসেরা রিপোর্ট এবং বিভিন্ন ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট হস্তান্তর করে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তদন্তকারীরা বলছেন, মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে ডিএনএ পরীক্ষার ফল যুক্ত করা হয়েছে।

ধারাবাহিক শুনানি হলে ১৫ দিনেই শেষ হতে পারে রামিসা হত্যার বিচার

মামলায় সাক্ষী কারা

মামলাটিতে মোট ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। বাদী হিসেবে রয়েছেন নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।

প্রত্যক্ষ ও ঘটনাসংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন শেখ আবু সামা, মো. মনির হোসেন, রাইসা আক্তার এবং মোহাম্মদ জাকিরুল ইসলাম ওরফে রাজু।

এছাড়া সুরতহাল, জব্দ তালিকা ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন মো. মিজানুর রহমান লিটন, মাহমুদা খাতুন, মনিরুজ্জামান শাহীন, পারভীন আক্তার, এসআই রাশেদুল ইসলাম, রুমা আক্তার এবং কনস্টেবল মো. শরিফ মিয়া।

প্রযুক্তিগত ও বিশেষজ্ঞ সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইকবাল হোসেন, অন্য এক তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই মো. ইসহাক আলী এবং সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরির বিশেষজ্ঞ শুভজয় বৈদ্য।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিএনএ বিশেষজ্ঞের সাক্ষ্য মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।

ধারাবাহিক শুনানি হলে ১৫ দিনেই শেষ হতে পারে রামিসা হত্যার বিচারআদালতে আসামি সোহেল রানা, ছবি: সংগৃহীত

আদালতে নতুন বিতর্ক: কে এই ‘ডলার’?

সোমবার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন আদালতে হাজির হয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যা মামলাটিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সোহেল রানা দাবি করেন, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নির্দোষ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ঘটনার পেছনে ‘ডলার’ নামে আরেক ব্যক্তির ভূমিকা রয়েছে।

আদালত থেকে কারাগারে পাঠানোর সময় সোহেল রানা উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কাটছি। ধর্ষণ করেছে ডলার নামের একজন। আমি পাপ করছি, আমাকে সেই পাপের শাস্তি দেন।’

তিনি আরও দাবি করেন, রামিসাকে এনে দিতে পারলে ডলার তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

পরে কারাগারে নেওয়ার সময় প্রিজন ভ্যানেও সাংবাদিকদের একই কথা বলেন সোহেল রানা। তিনি বলেন, ‘মিরপুর-১১ নম্বরে ডলারের বাড়ি। ধর্ষণও ডলার করছে, মারছেও ডলার। ওরে ধরেন, সব পাবেন।’

ডলারের পূর্ণ পরিচয় বা অবস্থান সম্পর্কে সোহেল রানা কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

আরও পড়ুন
রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ
রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত করার জন্য যা কিছু সম্ভব, সবটুকুই করবো
রামিসা হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ১ জুন
রামিসা হত্যা: আদালতে প্রধান আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী

‘ডলার’ বিষয়ে তদন্তকারীদের অবস্থান

আসামি সোহেল রানার এই বক্তব্যের পর তদন্তসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে জাগো নিউজের এই প্রতিবেদক যোগাযোগ করেন। তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি। ফলে ‘ডলার’ নামে উল্লেখ করা ব্যক্তির পরিচয়, অস্তিত্ব কিংবা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিষয়টি যাচাই করা হতে পারে, তবে বর্তমানে মামলার অভিযোগপত্রে এমন কোনো ব্যক্তির নাম বা সম্পৃক্ততার উল্লেখ নেই।

ধারাবাহিক শুনানি হলে ১৫ দিনেই শেষ হতে পারে রামিসা হত্যার বিচারঢাকা মহানগর আদালতের পিপি ওমর ফারুক ফারুকীসহ অন্যরা, ছবি: জাগো নিউজ 

‘ডলার’ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষ

অভিযোগ গঠনের শুনানির সময় প্রধান আসামি সোহেল রানা ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুললেও রাষ্ট্রপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সেই দাবিকে গুরুত্ব দিতে রাজি নয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, আসামিরা অনেক সময় আদালতের সহানুভূতি লাভের উদ্দেশ্যে কিংবা নিজেদের দায় কমিয়ে দেখানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, সোহেল রানা আদালতে যে ‘ডলার’ নামের ব্যক্তির কথা বলেছেন, সে বিষয়ে তদন্তের সময় দেওয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি। সে যখন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়, তখন এমন কোনো ব্যক্তির নাম বলেননি, এমন কোনো বক্তব্যও দেননি। তদন্ত প্রতিবেদনের কোথাও ‘ডলার’ নামের কারও সম্পৃক্ততার তথ্য নেই।

পিপি আরও বলেন, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। আসামিপক্ষ যেসব দাবি করছে, সেগুলো সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত মূল্যায়ন করবেন। তবে এখন পর্যন্ত তদন্তে সংগৃহীত আলামত, ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রমাণে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তার সঙ্গে আদালতে সোহেলের নতুন বক্তব্যের কোনো সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি।

তার ভাষায়, আসামির বক্তব্য আর প্রমাণ এক জিনিস নয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় কে কী বলছে, সেটির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই বক্তব্যের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ আছে কি না। রাষ্ট্রপক্ষ তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলাটি পরিচালনা করবে।

আরও পড়ুন
আদালতে অভিযোগপত্র গ্রহণ, মামলা গেল শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে
১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু: আইনমন্ত্রী
রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচারে হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ প্রয়োজন
রামিসা হত্যা: আদালতে আসামির সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করা হবে

‘ম্যাটার অব ট্রায়াল’, বলছেন স্পেশাল পিপি

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু সোহেলের ‘ডলার’ সংক্রান্ত বক্তব্যকে ‘ম্যাটার অব ট্রায়াল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আসামি যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন, সেগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়। ম্যাটার অব ট্রায়াল নিয়ে কোনো মামলার ডিসচার্জ হয় না। পুলিশ রিপোর্টে যেটা আমরা পাইনি, সে বিষয়ে প্রসিকিউশনের কিছু বলার নেই। আর ডিফেন্স থেকে যা বলা হয়, সেগুলো ম্যাটার অব এভিডেন্স, যা প্রমাণের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, চার্জ গঠনের পর আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। এখন সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।

ধারাবাহিক শুনানি হলে ১৫ দিনেই শেষ হতে পারে রামিসা হত্যার বিচারঅ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ, ছবি: জাগো নিউজ

আসামিপক্ষের বক্তব্য

দেশজুড়ে আলোচিত নৃশংসা হত্যার ঘটনায় ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভায় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী আইনি সহায়তা দেবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে আইন মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয় খরচে ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহকে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়।

অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সাক্ষ্য না থাকায় আমরা আদালতে তাদের মুক্তির কথা বলেছি। আদালত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।’

দেশজুড়ে আলোড়ন

গত ১৯ মে সকালে পল্লবী থানাধীন মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাথরুম থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পরদিন নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা প্রতিবেশী সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরবর্তীতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন।

আরও পড়ুন
ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু রামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন
রামিসা হত্যা: আদালতে দিনভর তৎপরতা, দ্রুত বিচারের পথে মামলা
আমি বিশ্বাস করি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে রামিসা হত্যার বিচার সম্ভব
রামিসা হত্যা মামলায় বিশেষ পিপি নিয়োগ

এখন নজর সাক্ষ্যগ্রহণে

চার্জ গঠন সম্পন্ন হওয়ায় মামলাটি এখন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ডিএনএ রিপোর্ট, ফরেনসিক আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণ করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করছে। ফলে এখন আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন ও জেরা পর্বের ওপরই নির্ভর করছে বহুল আলোচিত এই মামলার চূড়ান্ত পরিণতি।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা, ধারাবাহিক শুনানির মাধ্যমে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে স্বল্প সময়ের মধ্যেই মামলার রায় ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

এমডিএএ/এমএমএআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow