ধূমপানের জন্য ক্যাম্পাসে আরও বেঞ্চ দেওয়ার দাবি শিক্ষার্থীর

চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ধূমপানের জায়গায় পর্যাপ্ত বেঞ্চ না থাকার অভিযোগ করেছেন এক শিক্ষার্থী। আর সেই অভিযোগের জবাবে এক শিক্ষকের কঠোর প্রতিক্রিয়া নতুন করে চীনে প্রকাশ্যে ধূমপান নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশের শিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ফিডব্যাক চ্যানেলে অভিযোগটি করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, ধূমপানের জায়গায় পর্যাপ্তা বেঞ্চ না থাকায় দাঁড়িয়ে সিগারেট খাওয়া খুব ক্লান্তিকর হয়ে যাচ্ছে এবং সেখানে আরও বেঞ্চ বসানোর অনুরোধ জানান। জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক দীর্ঘ একটি চিঠি লিখেন। সেখানে তিনি বলেন, ধূমপানকারীরা যাতে অস্বস্তি বোধ করেন, সেটাই ইচ্ছাকৃতভাবে ওই জায়গার নকশায় রাখা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, ধূমপানের জায়গা বিশ্রামের জায়গা নয়। যারা এখনও ধূমপান ছাড়তে পারেননি, তাদের জন্য ভিড় থেকে দূরে সিগারেট খাওয়ার একটি সাময়িক জায়গা হিসেবে এটি তৈরি করা হয়েছে, যাতে অন্যরা পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতির শিকার না হন। আরও বলা হয়, আপনি যখন দাঁড়িয়ে ধূমপান করতে গিয়ে ‘ক্লান্ত’ হওয়ার অভিযোগ করছেন, তখন কি ভেবেছেন অন্যরা আপনার সিগারেটের ধোঁয়া সহ্য

ধূমপানের জন্য ক্যাম্পাসে আরও বেঞ্চ দেওয়ার দাবি শিক্ষার্থীর

চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ধূমপানের জায়গায় পর্যাপ্ত বেঞ্চ না থাকার অভিযোগ করেছেন এক শিক্ষার্থী। আর সেই অভিযোগের জবাবে এক শিক্ষকের কঠোর প্রতিক্রিয়া নতুন করে চীনে প্রকাশ্যে ধূমপান নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশের শিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ফিডব্যাক চ্যানেলে অভিযোগটি করেন।

অভিযোগে তিনি বলেন, ধূমপানের জায়গায় পর্যাপ্তা বেঞ্চ না থাকায় দাঁড়িয়ে সিগারেট খাওয়া খুব ক্লান্তিকর হয়ে যাচ্ছে এবং সেখানে আরও বেঞ্চ বসানোর অনুরোধ জানান।

জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক দীর্ঘ একটি চিঠি লিখেন। সেখানে তিনি বলেন, ধূমপানকারীরা যাতে অস্বস্তি বোধ করেন, সেটাই ইচ্ছাকৃতভাবে ওই জায়গার নকশায় রাখা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ধূমপানের জায়গা বিশ্রামের জায়গা নয়। যারা এখনও ধূমপান ছাড়তে পারেননি, তাদের জন্য ভিড় থেকে দূরে সিগারেট খাওয়ার একটি সাময়িক জায়গা হিসেবে এটি তৈরি করা হয়েছে, যাতে অন্যরা পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতির শিকার না হন।

আরও বলা হয়, আপনি যখন দাঁড়িয়ে ধূমপান করতে গিয়ে ‘ক্লান্ত’ হওয়ার অভিযোগ করছেন, তখন কি ভেবেছেন অন্যরা আপনার সিগারেটের ধোঁয়া সহ্য করতে করতে কতটা ক্লান্ত হয়?

চিঠিতে আরও বলা হয়, আসল ক্লান্তির কারণ বেঞ্চের অভাব নয়, বরং সিগারেটের প্রতি আপনার নির্ভরতা। যদি ক্লান্ত লাগে, তাহলে কম ধূমপান করুন। আর আরাম চাইলে লাইব্রেরি, শ্রেণিকক্ষ বা খেলার মাঠে যেতে পারেন।

চিঠির শেষে ধূমপান ছাড়তে ইচ্ছুকদের সহায়তার প্রস্তাবও দেন ওই শিক্ষক।

শিক্ষকের এই জবাব চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পায়।

একজন লিখেছেন, চিঠিটি অসাধারণভাবে লেখা হয়েছে—যুক্তিসঙ্গত, পরিপূর্ণ ও চিন্তাশীল। আশা করি আরও শিক্ষার্থী ধূমপানের ক্ষতি বুঝতে পারবে।

আরেকজন মন্তব্য করেন, এটাই সত্যিকারের শিক্ষা।

তৃতীয় একজন লিখেন, আমাকে সবচেয়ে অবাক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ধূমপানের জায়গা থাকার বিষয়টি। আমি ভেবেছিলাম সেখানে সর্বত্র ধূমপান নিষিদ্ধ।

তবে আরেকজন ভিন্নমত দিয়ে বলেন, ধূমপানের নির্দিষ্ট জায়গা না থাকলে পুরো জায়গাই ধূমপানের জায়গা হয়ে যাবে।

চীনে এখনো জাতীয় পর্যায়ে ধূমপানবিরোধী কোনো আইন নেই। ২০১০ সালে সাংহাই প্রথম ধূমপানবিরোধী বিধিমালা চালুর পর ধীরে ধীরে চীনের অন্যান্য প্রদেশও জনসমাগমপূর্ণ ঘরের ভেতর ধূমপান নিষিদ্ধ করে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ বিষয়ে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা নেয়।

২০১০ সালের দিকে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ধূমপানের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। তারা পুরো ক্যাম্পাসে ধূমপান নিষিদ্ধ করে, দোকানে সিগারেট বিক্রি বন্ধ করে এবং শিক্ষার্থীদের আবাসিক এলাকা থেকে দূরে ধূমপানের নির্দিষ্ট স্থান তৈরি করে।

শিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির এই প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে ধূমপানের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা কড়া মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অনেকেই ট্রেন প্ল্যাটফর্মের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানাচ্ছেন।

সূত্র: সাউথ চায়না মোর্নিং পোস্ট

এমএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow