নতুন এমপিদের শপথ পড়াতে পারেন সাবেক প্রধান বিচারপতি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দীর্ঘ দুই দশক পর চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের আসনে বসে ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে নতুন সরকার গঠন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কীভাবে শুরু হবে, তা নিয়ে নানামুখী আলোচনা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার শুরু হয় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে। তবে বিগত সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করায় এবং ডেপুটি স্পিকার কারাবন্দি থাকায় এবার নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সরকারের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অথবা পরদিন সোমবার নতুন এমপিদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে। এক্ষেত্রে সংবিধান মেনে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি জাতীয় সংসদ ভবনে নতুন এমপিদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। সেক্ষেত্রে সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নাম শোনা যাচ্ছে। এরই মধ্যে সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী তাকে প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানা গেছে। তবে কোনো কারণে সেটি না হলে তিন দিন পর প্রধ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দীর্ঘ দুই দশক পর চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের আসনে বসে ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে নতুন সরকার গঠন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কীভাবে শুরু হবে, তা নিয়ে নানামুখী আলোচনা রয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার শুরু হয় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে। তবে বিগত সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করায় এবং ডেপুটি স্পিকার কারাবন্দি থাকায় এবার নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
সরকারের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অথবা পরদিন সোমবার নতুন এমপিদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে। এক্ষেত্রে সংবিধান মেনে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি জাতীয় সংসদ ভবনে নতুন এমপিদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
সেক্ষেত্রে সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নাম শোনা যাচ্ছে। এরই মধ্যে সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী তাকে প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানা গেছে। তবে কোনো কারণে সেটি না হলে তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নতুন এমপিদের শপথ পড়াবেন। নতুন এমপিদের শপথ ঘিরে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংসদ সচিবালয়।
সাধারণত ফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। তবে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া বেসরকারি ফলকে আনুষ্ঠানিক ফল হিসেবে গণ্য করা হয় না। ফলে ওই ফল প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ নিতেই হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হওয়ার পর তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবারই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের গেজেট হওয়ার কথা। না হলে আজই এ গেজেট প্রকাশ হবে। বিকেল ৩টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান। গেজেট হয়ে গেলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যেই এমপিদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে না। গত ৫ ফেব্রুয়ারি এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ক্ষমতা হস্তান্তর হবে। ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারিতেও হতে পারে, ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে বলে তিনি মনে করেন না।
সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সংসদ সদস্যদের শপথ রোববার অথবা পরদিন সোমবারই হতে পারে। সে ধরনের প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে সরকার। এর পরবর্তী দিনের মধ্যেই নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা গঠন হতে পারে। আর নতুন সরকারের মন্ত্রীদের শপথ হবে গণভবনে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন। সেজন্য বঙ্গভবনকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের শপথের পর পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা হবে। সেখান থেকে দলনেতা নির্বাচিত হবেন। তারপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে বলবেন, আমাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে সংসদে। তখন রাষ্ট্রপতি তাকে সরকারপ্রধান হওয়ার অনুরোধ করবেন। তার পরই গঠিত হবে নতুন সরকার। নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসনপ্রাপ্ত বিএনপির সংসদ নেতা হবেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন—এটি অনেকটাই নিশ্চিত।
নতুন এমপিদের শপথ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গত ৫ ফেব্রুয়ারি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সরকার দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়। তাদের সামনে দুটি বিকল্প আছে। রাষ্ট্রপতির মনোনীত কেউ শপথ পড়াতে পারেন, উদাহরণ হিসেবে প্রধান বিচারপতির নামও আসতে পারে। যদি সেটি না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পড়াবেন। তবে সে ক্ষেত্রে তিন দিন অপেক্ষার বিষয় আছে। সরকার আসলে অপেক্ষা করতে চায় না, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চায়।
What's Your Reaction?