নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা গেল

সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি বেতন স্কেলে বেতন নির্ধারণের সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন কমিশন। এতে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ২৩ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশন কমিশন প্রধান জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদনটি পেশ করা হয়। জানা গেছে, বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০-১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রায় সমান হারে পেনশন, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাও বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রায় আড়াই গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে।  কয়েকজন উপদেষ্টার মতে, দেশের বর্তমান অর্থন

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা গেল
সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি বেতন স্কেলে বেতন নির্ধারণের সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন কমিশন। এতে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ২৩ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশন কমিশন প্রধান জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদনটি পেশ করা হয়। জানা গেছে, বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০-১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রায় সমান হারে পেনশন, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাও বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রায় আড়াই গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে।  কয়েকজন উপদেষ্টার মতে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন এতটা বাড়ানো বৈষম্যমূলক হতে পারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে সাধারণ মানুষের সীমিত আয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত চাপ না বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কোনো কমিটি এখনো গঠন করা হয়নি। কমিটি গঠন হলে বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।’  তবে বেতন বৃদ্ধির অতিরিক্ত অর্থের জোগান কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। উপদেষ্টা পরিষদের ওই বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণে একটি কমিটি গঠনের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা করা হয়নি। ফলে বর্তমান সরকারের মেয়াদে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow