নতুন স্বপ্নে প্যাডেল ঘোরাচ্ছেন খাইরুল
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড় থেকে উত্তরের জনপদ। দুই চাকার সঙ্গী সাইকেল নিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত চষে বেড়িয়েছেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার তরুণ সাইক্লিস্ট মোহাম্মদ খাইরুল। ২০২২ সালে সাইকেলে দেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণ করে আলোচনায় আসা এই তরুণ এবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ঘোষণা দিয়েছেন আরও বড় এক অভিযানের। তার নতুন লক্ষ্য এবার দেশের ৫০০ উপজেলা ভ্রমণ করবেন সাইকেলে। মুক্তাগাছার পরিচিত মুখ এবং স্থানীয় সাইক্লিং সংগঠন ‘মুক্তাগাছা সাইক্লিস্টস’-এর সদস্য খাইরুল মনে করেন, দেশের প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু বড় শহর কিংবা পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রে সীমাবদ্ধ নয়। বরং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য ইতিহাস, ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, আঞ্চলিক খাবার এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অজানা ভাণ্ডার। মুহাম্মদ খাইরুল জাগো নিউজকে বলেন, ‘৬৪ জেলা ভ্রমণ ছিল স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপ। সেই যাত্রায় দেশের মানুষকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। এবার আরও গভীরে যেতে চাই। উপজেলা পর্যায়ে গিয়ে সেখানকার ইতিহাস, ঐতিহ্যবাহী খাবার, দর্শনীয় স্থান, সংস্কৃতি এবং মানুষের জীবনসংগ্রামের গল্প তুলে ধরতে চাই। অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড় থেকে উত্তরের জনপদ। দুই চাকার সঙ্গী সাইকেল নিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত চষে বেড়িয়েছেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার তরুণ সাইক্লিস্ট মোহাম্মদ খাইরুল।
২০২২ সালে সাইকেলে দেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণ করে আলোচনায় আসা এই তরুণ এবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ঘোষণা দিয়েছেন আরও বড় এক অভিযানের। তার নতুন লক্ষ্য এবার দেশের ৫০০ উপজেলা ভ্রমণ করবেন সাইকেলে।
মুক্তাগাছার পরিচিত মুখ এবং স্থানীয় সাইক্লিং সংগঠন ‘মুক্তাগাছা সাইক্লিস্টস’-এর সদস্য খাইরুল মনে করেন, দেশের প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু বড় শহর কিংবা পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রে সীমাবদ্ধ নয়। বরং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য ইতিহাস, ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, আঞ্চলিক খাবার এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অজানা ভাণ্ডার।
মুহাম্মদ খাইরুল জাগো নিউজকে বলেন, ‘৬৪ জেলা ভ্রমণ ছিল স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপ। সেই যাত্রায় দেশের মানুষকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। এবার আরও গভীরে যেতে চাই। উপজেলা পর্যায়ে গিয়ে সেখানকার ইতিহাস, ঐতিহ্যবাহী খাবার, দর্শনীয় স্থান, সংস্কৃতি এবং মানুষের জীবনসংগ্রামের গল্প তুলে ধরতে চাই। অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে যেগুলো এখনও জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়নি।’
সাইক্লিং জগতে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অর্জন রয়েছে খাইরুলের। ২০২২ সালে দেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণের পর ২০২৩ সালে টানা ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে সহনশীলতা ও মানসিক দৃঢ়তার অনন্য নজির গড়েন তিনি। ২০২৪ সালে দেশের সর্বউত্তরের তেঁতুলিয়া থেকে সর্বদক্ষিণের টেকনাফ পর্যন্ত দীর্ঘ সাইকেল রাইড সম্পন্ন করেন।
এছাড়া ‘জমিদারের শহর’ হিসেবে পরিচিত মুক্তাগাছা থেকে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত দূরপাল্লার সাইকেল যাত্রাসহ আরও বেশ কয়েকটি অভিযানে অংশ নিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ঘোষিত ৫০০ উপজেলা অভিযানকে তিনি শুধু ভ্রমণ হিসেবে দেখছেন না। এর সঙ্গে যুক্ত করেছেন পরিবেশ সংরক্ষণ, প্লাস্টিক দূষণ রোধ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারার বার্তা।
খাইরুল বলেন, বর্তমানে প্লাস্টিক দূষণ পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে চাই। বিশেষ করে তরুণদের বলতে চাই, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, আমাদের সবার। সাইকেল একটি পরিবেশবান্ধব বাহন। এটি দূষণ কমায়, স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও গভীর করে।
তিনি আরও বলেন, আমি সবসময় বিশ্বাস করি, পরিবর্তনের শুরু হতে পারে একজন মানুষ থেকেই। যদি কয়েকজন তরুণও আমার এই বার্তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়, তাহলে সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।
ময়মনসিংহ সাইক্লিং সংগঠনের সদস্যদের মতে, খাইরুল শুধু একজন ভ্রমণপিয়াসী সাইক্লিস্ট নন, তিনি স্থানীয় তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণার নাম। নিয়মিত সাইক্লিং কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি তরুণদের মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও ইতিবাচক জীবনধারার প্রতি উৎসাহিত করে আসছেন।
হোসাইন সুলভ/এএইচ/এএসএম
What's Your Reaction?