নদীপথে ঈদযাত্রা/ সদরঘাটের ফুটপাতেই ঈদ বাজারে ব্যস্ততা

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকাজুড়ে এখন ঘরমুখো মানুষের ভিড়। আর সদরঘাটে পৌঁছানোর আগেই চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ সড়কের দুইপাশের ফুটপাত যেন পরিণত হয়েছে অস্থায়ী ঈদ বাজারে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পর কলেজিয়েট স্কুল এলাকা পেরিয়ে দীর্ঘ এই সড়কজুড়ে সারিবদ্ধভাবে বসেছে কাপড়, জুতা-স্যান্ডেল, ব্যাগ, ফলমূল, খেলনা ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান। ঘাটমুখো মানুষের ভিড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এসব দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতিও। বিশেষ করে দক্ষিণ অঞ্চলগামী যাত্রীদের অনেকেই লঞ্চে ওঠার আগে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন ফুটপাত থেকেই। কম দামে দরকারি জিনিস পাওয়া যায় বলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের কাছে এসব দোকানের জনপ্রিয়তা বেশি। সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটপাতের অধিকাংশ জায়গা দখল করে দোকান বসানো হয়েছে। এতে পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হলেও ক্রেতাদের আগ্রহে কমতি নেই। কেউ পরিবারের সদস্যদের জন্য পোশাক কিনছেন, কেউ শিশুদের খেলনা, আবার কেউ গ্রামের স্বজনদের জন্য উপহার নিচ্ছেন। একই সঙ্গে আশপাশের মার্কেটে কম ক্রেতা দেখা গেছে। বরিশালগামী যাত্রী ও কলেজশিক্ষার্থী মাহিন ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাস

নদীপথে ঈদযাত্রা/ সদরঘাটের ফুটপাতেই ঈদ বাজারে ব্যস্ততা

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকাজুড়ে এখন ঘরমুখো মানুষের ভিড়। আর সদরঘাটে পৌঁছানোর আগেই চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ সড়কের দুইপাশের ফুটপাত যেন পরিণত হয়েছে অস্থায়ী ঈদ বাজারে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পর কলেজিয়েট স্কুল এলাকা পেরিয়ে দীর্ঘ এই সড়কজুড়ে সারিবদ্ধভাবে বসেছে কাপড়, জুতা-স্যান্ডেল, ব্যাগ, ফলমূল, খেলনা ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান।

ঘাটমুখো মানুষের ভিড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এসব দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতিও। বিশেষ করে দক্ষিণ অঞ্চলগামী যাত্রীদের অনেকেই লঞ্চে ওঠার আগে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন ফুটপাত থেকেই। কম দামে দরকারি জিনিস পাওয়া যায় বলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের কাছে এসব দোকানের জনপ্রিয়তা বেশি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটপাতের অধিকাংশ জায়গা দখল করে দোকান বসানো হয়েছে। এতে পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হলেও ক্রেতাদের আগ্রহে কমতি নেই। কেউ পরিবারের সদস্যদের জন্য পোশাক কিনছেন, কেউ শিশুদের খেলনা, আবার কেউ গ্রামের স্বজনদের জন্য উপহার নিচ্ছেন। একই সঙ্গে আশপাশের মার্কেটে কম ক্রেতা দেখা গেছে।

বরিশালগামী যাত্রী ও কলেজশিক্ষার্থী মাহিন ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ছোট ভাইয়ের জন্য কিছু কেনা হয়নি। এখানে এসে কম দামে একটা জার্সি আর স্যান্ডেল পেলাম। তাই কিনে নিলাম।’

বরিশালের একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনে ঈদের আগে ঢাকায় আসতে হয়েছে। মার্কেটে গেলে অনেক সময় লাগে। এখানে একসঙ্গে অনেক কিছু পাওয়া যায়। লঞ্চ ধরার আগে স্ত্রী ও মেয়ের জন্য কিছু কাপড় কিনলাম।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নুসরাত তাবাসসুম বলেন, ‘ফুটপাতের দোকান হলেও দরদাম করে কম দামে কেনা যায়। ঈদের আগে শিক্ষার্থীদের জন্য এটা সুবিধাজনক।’

ফল বিক্রেতা আলাউদ্দিন বলেন, ‘ঈদের সময় যাত্রী বেশি থাকায় বেচাকেনাও বাড়ে। অনেকে গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার জন্য ফল কিনছেন।’

jagonews24

এদিকে সামনে ফুটবল বিশ্বকাপ থাকায় কয়েকটি দোকানে বিভিন্ন দেশের জার্সিও বিক্রি করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দলের জার্সির প্রতি তরুণদের আগ্রহ বেশি।

জার্সি বিক্রেতা রিপন হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার জার্সি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। অনেকে লঞ্চে ওঠার আগ মুহূর্তেও কিনে নিচ্ছেন। এবার ছোটদের জার্সির চাহিদাও ভালো।’

ভোলা যাত্রী রাকিব হাওলাদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিল সাপোর্ট করি। ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সময় জার্সিটা চোখে পড়ে গেলো, তাই কিনে নিলাম।’

আর্জেন্টিনার জার্সি হাতে নিয়ে কলেজের শিক্ষার্থী সাবিহা আক্তার বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখব। তাই ঈদের কেনাকাটার পাশাপাশি একটা আর্জেন্টিনার জার্সিও কিনলাম।’

তবে ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো নিয়ে ক্ষোভও রয়েছে সাধারণ পথচারীদের মধ্যে। বরিশালগামী যাত্রী ও বেসরকারি চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষের কেনাকাটার সুবিধা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু হাঁটার জায়গা খুব কম। অনেক সময় রাস্তায় নেমে চলতে হয়।’

একই কথা বলেন গৃহিণী শারমিন আক্তার। তিনি বলেন, ‘বাচ্চা নিয়ে হাঁটতে কষ্ট হয়। তারপরও প্রয়োজনের কারণে এখান থেকেই কিছু কেনাকাটা করতে হচ্ছে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) অফিসিয়াল মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। তবে মুঠোফোনে সাড়া মেলেনি। ফলে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

jagonews24

সদরঘাট এলাকার ফুটপাত বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়লেও আশপাশের মার্কেটগুলোতে তুলনামূলক কম ক্রেতা দেখা গেছে। গতকাল সোমবার রাতে গ্রেডওয়াল মার্কেট ঘুরে হাতে গোনা কয়েকজন ক্রেতাকে দেখা যায়। তাদের বেশিরভাগই ঈদের পর বিয়ে ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য কেনাকাটা করতে এসেছেন।

ক্রেতা তানভীর আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঈদের আগে ভিড় এড়িয়ে রাতের দিকে মার্কেটে এসেছি। ঈদের পর এক আত্মীয়ের বিয়েতে যেতে হবে, তাই পাঞ্জাবি ও জুতা কিনছি।’

আরেক ক্রেতা নুসাইবা রহমান বলেন, ‘ঈদের শপিং প্রায় শেষ। এখন মূলত অনুষ্ঠানের জন্য কিছু ড্রেস দেখতে এসেছি। তবে আগের বছরের তুলনায় মার্কেটে ভিড় কম মনে হয়েছে।’

মার্কেটের পোশাক বিক্রেতা সোহেল রানা জাগো নিউজকে বলেন, ‘ফুটপাতের দোকানে কম দামে জিনিস পাওয়ায় অনেকেই সেদিকে ঝুঁকছেন। ফলে মার্কেটে আগের মতো ভিড় হচ্ছে না। তারপরও আশা করছি ঈদের আগের শেষ কয়েকদিনে ক্রেতা বাড়বে।’

এমডিএএ/এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow