নদীবন্দি অর্ধশত পরিবার, নেই রাস্তা-ব্রিজ 

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নিভৃত একটি গ্রামের নাম- মহিশবান্দী। এ গ্রামের বুক চিরে বয়ে গেছে ঘাঘট নদী। আর ভাঙনের কবলে পড়ে নদীবন্দিতে পড়েছে অর্ধশত পরিবার। তাদের চলাচলের নেই কোনো রাস্তা। পারাপারের জন্য আছে একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো।  ঝুঁকিপূর্ণ এ সাঁকো আর অন্যের কৃষি জমির আইল দিয়ে চলাফেরা করতে হয় তাদের। এতে প্রাণহানিসহ নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তারা।   মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের মহিষবান্দী পুর্বপাড়ায় (দ্বীপ) এলাকায় গিয়ে দেখা যায় মানুষের চরম ভোগান্তির দৃশ্য।  ভাঙা বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে শিশু-শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সের মানুষ। ওপারে পৌঁছে নেই কোনো রাস্তা। বাধ্য হয়ে কৃষকের জমির আইল দিয়ে হেঁটে উঠতে হয় মূল সড়কে।   স্থানীয়রা জানায়, মহিশবান্দী পূর্বপাড়া স্থানে কয়েক যুগ ধরে শতাধিক পরিবার বসবাস করে আসছেন। এখানকার সবগুলো পরিবার দরিদ্র সীমার নিচে জীবনযাপন করছেন। তাদের অন্যের জমির আইল (ঘাটা) দিয়ে প্রায় ৫০০ মিটার হেঁটে প্রধান সড়কে পৌঁছাতে হয়। তৎকালীন বাড়িগুলোর তিন পাশে নদী থাকলেও উত্তর পাশে ছিল না কোনো নদী।  এরই মধ্যে বছর দুয়েক আগে অব্যাহত ভাঙনে এখন বসতভ

নদীবন্দি অর্ধশত পরিবার, নেই রাস্তা-ব্রিজ 

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নিভৃত একটি গ্রামের নাম- মহিশবান্দী। এ গ্রামের বুক চিরে বয়ে গেছে ঘাঘট নদী। আর ভাঙনের কবলে পড়ে নদীবন্দিতে পড়েছে অর্ধশত পরিবার। তাদের চলাচলের নেই কোনো রাস্তা। পারাপারের জন্য আছে একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। 

ঝুঁকিপূর্ণ এ সাঁকো আর অন্যের কৃষি জমির আইল দিয়ে চলাফেরা করতে হয় তাদের। এতে প্রাণহানিসহ নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তারা।  

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের মহিষবান্দী পুর্বপাড়ায় (দ্বীপ) এলাকায় গিয়ে দেখা যায় মানুষের চরম ভোগান্তির দৃশ্য। 

ভাঙা বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে শিশু-শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সের মানুষ। ওপারে পৌঁছে নেই কোনো রাস্তা। বাধ্য হয়ে কৃষকের জমির আইল দিয়ে হেঁটে উঠতে হয় মূল সড়কে।  

স্থানীয়রা জানায়, মহিশবান্দী পূর্বপাড়া স্থানে কয়েক যুগ ধরে শতাধিক পরিবার বসবাস করে আসছেন। এখানকার সবগুলো পরিবার দরিদ্র সীমার নিচে জীবনযাপন করছেন। তাদের অন্যের জমির আইল (ঘাটা) দিয়ে প্রায় ৫০০ মিটার হেঁটে প্রধান সড়কে পৌঁছাতে হয়। তৎকালীন বাড়িগুলোর তিন পাশে নদী থাকলেও উত্তর পাশে ছিল না কোনো নদী। 

এরই মধ্যে বছর দুয়েক আগে অব্যাহত ভাঙনে এখন বসতভিটার চারপাশে বয়ে গেছে নদীটি। একপর্যায়ে দক্ষিণ পাশে বিশাল খালে পরিণত হয়েছে। যার কারণে নদীবন্দী হয়ে পড়েছে দ্বীপের মানুষরা। সময়ের ব্যবধানে সমাজ উন্নয়ন তথা দেশের পরিবর্তন ঘটলেও আজও উন্নয়নে পরিবর্তন হয়নি এ দ্বীপের করুণ অবস্থা। জনপ্রতিনিধিদেরও নজরে আসেনি ওই স্থানে রাস্তা ও ব্রিজ নির্মাণে। 

ভুক্তভোগীরা জানায়, বর্ষা এলেই নদীর পানি কানায় কানায় ভরে গেলে বেড়ে যায় আরও দুর্গতি। এছাড়াও হঠাৎ কোনো রোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে তার জীবন নির্ভর করে সময়ের উপর। একটু দেরি হলেই রোগীর জীবন অসহ্য যন্ত্রণাসহ ওখানেই মৃত্যুর প্রহর গুণতে হয়। এছাড়া শিক্ষার আলো থেকে ঝড়ে পড়ছে তাদের সন্তানরা। 

এমনভাবে রাস্তা-ব্রিজের অভাবে কয়েক বছর ধরে লেগে আছে মানুষের চরম ভোগান্তি। বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি নতুন সরকার ও এমপি এই স্থানে রাস্তা নির্মাণসহ খালের ওপরে ব্রিজ নির্মাণ করবেন। এটি বাস্তবায়ন হলে মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করাসহ শিক্ষিত হতে পারবে সন্তানরা।

নদীবন্দি পরিবারের ডিপিটি মিয়া বলেন, প্রতিদিন প্রয়োজনীয় কাজে নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয়। এতে করে সময় নষ্টসহ ঝুঁকিতে থাকতে হয় জীবনের ভয়ে। ইতোমধ্যে সাঁকো থেকে পড়ে আজিজার রহমান নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। এখানে একটি রাস্তা ও ব্রিজ নির্মাণের জন্য দাবি করছি। 

ওমর ফারুক মিয়া (১২) নামের এক স্কুল শিক্ষার্থী বলে, স্কুলে যেতে ভাঙা সাঁকো পার হতে খুব ভয় লাগে। একদিন পড়ে গিয়ে পা কেটে গেছে। তাই স্কুলে যাওয়ার ইচ্ছে করে না। 

ফুল মিয়া নামের এক ব্যক্তি বলেন, আমাদের বাড়িতে ঢোকার রাস্তা ও ব্রিজ নাই, রাতের বেলায় সেখান থেকে কৃষকের মাঠ হেঁটে বাড়িতে ঢুকতে হয়। আমাদের ছেলে-মেয়েদের বিয়ে করাতে কঠিন বেগ পেতে হচ্ছে। 

এ বিষয়ে রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, বেশ কিছুদিন আগে ইউএনওর সঙ্গে দ্বীপ এলাকাটি পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে রাস্তা ও ব্রিজ নির্মাণ দরকার। এ সমস্যা নিরসনের জন্য আবারও সংশ্লিষ্টদের জানানো হবে।   

সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মেনাজ বলেন, ওই স্থানে রাস্তা-ব্রিজের সমস্যা রয়েছে এ সংক্রান্ত তথ্য আমাদের জানা নেই। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow