নদীভাঙনে বাস্তুহারা হাজারো পরিবার, আলাদা মন্ত্রণালয় দাবি
চরাঞ্চলের মানুষের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পৃথক চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন এবং চরবাসীর জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ। সোমবার (১ জুন) কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশের শতাধিক উপজেলার প্রায় দুই কোটি চরাঞ্চলের মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নদীভাঙনের শিকার। তারা দারিদ্র্য, অবহেলা ও পরিকল্পনার অভাবে এখনো শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে চরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে আলাদা পরিকল্পনা ও বিশেষায়িত সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। বাংলাদেশ চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু লিখিত বক্তব্যে বলেন, কুড়িগ্রাম দেশের অন্যতম বৃহৎ চরাঞ্চল অধ্যুষিত জেলা। যেখানে প্রায় ৪০০টি চর রয়েছে, যার মধ্যে আড়াই শতাধিক চরে মানুষের বসবাস। এসব এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, দারিদ্র্য, যোগাযোগ সংকট এবং মৌলিক নাগরিক সুবিধার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তিনি আরও জানান, সংগঠনের তথ্যমতে গত ১০ বছরে কুড়িগ্রামে প্রায় এক লাখ মানুষ নদীভাঙনের কারণে গৃহহীন হয়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে হাজার
চরাঞ্চলের মানুষের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পৃথক চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন এবং চরবাসীর জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ।
সোমবার (১ জুন) কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশের শতাধিক উপজেলার প্রায় দুই কোটি চরাঞ্চলের মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নদীভাঙনের শিকার। তারা দারিদ্র্য, অবহেলা ও পরিকল্পনার অভাবে এখনো শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে চরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে আলাদা পরিকল্পনা ও বিশেষায়িত সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
বাংলাদেশ চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু লিখিত বক্তব্যে বলেন, কুড়িগ্রাম দেশের অন্যতম বৃহৎ চরাঞ্চল অধ্যুষিত জেলা। যেখানে প্রায় ৪০০টি চর রয়েছে, যার মধ্যে আড়াই শতাধিক চরে মানুষের বসবাস। এসব এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, দারিদ্র্য, যোগাযোগ সংকট এবং মৌলিক নাগরিক সুবিধার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
তিনি আরও জানান, সংগঠনের তথ্যমতে গত ১০ বছরে কুড়িগ্রামে প্রায় এক লাখ মানুষ নদীভাঙনের কারণে গৃহহীন হয়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে হাজারো পরিবারের বসত-ভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকার উৎস। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা থেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং প্রতিবছর আরও নতুন নতুন পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়ে অনিশ্চিত জীবনের মুখোমুখি হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে কুড়িগ্রাম জেলায় প্রতিবছর অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের শিকার হয়। এছাড়া গত পাঁচ বছরে নদীভাঙনের কারণে প্রায় দুই হাজার পরিবার স্থায়ীভাবে ঢাকা, ঠাকুরগাঁও ও পার্বতীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে গেছে।
বক্তারা চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক রুবেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাঈয়েদ আহমেদ বাবুসহ সংগঠনের নেতারা।
রোকনুজ্জামান মানু/এএইচ/জেআইএম
What's Your Reaction?