‘নদীর সব জাটকা ধরা হয়ে গেছে, মনে হয় না সামনে ইলিশ পাবো’
চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বন্ধ হচ্ছে না জাটকা নিধন। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলেও বাস্তব চিত্রে এর তেমন প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। প্রভাবশালী মহল ও সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে প্রকাশ্য ও গোপনে চলছে জাটকা নিধন ও বেচাকেনা। এতে করে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যত প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি পদ্মা-মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীতে জেলেরা অবাধে জাটকা আহরণ করছেন। অনেক স্থানে নৌ পুলিশ বা কোস্ট গার্ডের নিয়মিত টহলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। এমনকী কোথাও কোথাও টহল বোট দেখা গেলেও মাছ ধরারত জেলেদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের সামনেই দেদারসে জাটকা নিধন চলছে। অভিযানের খবর আগেভাগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে জেলেরা সহজেই পালিয়ে যান। ফলে অভিযানগুলো অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকছে। জেলের জালে ধরা পড়া ইলিশ/ছবি-জাগো নিউজ ইলিশ সম্পদ রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল—এ দুই মাস প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা, বেচাকেনা, মজুত ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক
চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বন্ধ হচ্ছে না জাটকা নিধন। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলেও বাস্তব চিত্রে এর তেমন প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। প্রভাবশালী মহল ও সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে প্রকাশ্য ও গোপনে চলছে জাটকা নিধন ও বেচাকেনা। এতে করে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যত প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।
সম্প্রতি পদ্মা-মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীতে জেলেরা অবাধে জাটকা আহরণ করছেন। অনেক স্থানে নৌ পুলিশ বা কোস্ট গার্ডের নিয়মিত টহলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। এমনকী কোথাও কোথাও টহল বোট দেখা গেলেও মাছ ধরারত জেলেদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের সামনেই দেদারসে জাটকা নিধন চলছে। অভিযানের খবর আগেভাগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে জেলেরা সহজেই পালিয়ে যান। ফলে অভিযানগুলো অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকছে।
জেলের জালে ধরা পড়া ইলিশ/ছবি-জাগো নিউজ
ইলিশ সম্পদ রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল—এ দুই মাস প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা, বেচাকেনা, মজুত ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে চাঁদপুর সদর, হাইমচর ও মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে জেলেরা জাল ফেলছেন। ধরা পড়া জাটকা বিক্রি হচ্ছে নদীপাড়ের হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায়।
‘আগে স্পিডবোট দিয়ে টহল দিলেও এখন আসে না। নদীর সব জাটকা এবছর ধরা হয়ে গেছে। আমরা যারা বড় জাল দিয়ে মাছ ধরি, মনে হয় না সামনে ইলিশ পাবো। এ বিষয়ে সরকারের নজরদারি আরও বাড়ানো দরকার’—জেলে
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মী ও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এ অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ফলে প্রশাসনের অভিযান থাকলেও পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না জাটকা নিধন।
প্রকাশ্যেই চলছে জাটকা বেচাকেনা/ছবি-জাগো নিউজ
আইন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করতে গিয়ে ধরা পড়লে কমপক্ষে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
আরও পড়ুন: ইলিশ এখন ‘স্বপ্নের মাছ’
‘ইলিশের বাড়িতেও’ বৈশাখের দাপট, কেজি সাড়ে ৩ হাজার টাকা
কেজি সাইজের এক ইলিশ সাড়ে ৪ হাজার টাকা!
নদী সাগর মানুষের চাপে বিপন্নের পথে ইলিশ
ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে, তবে বড় চ্যালেঞ্জ টেকসই ব্যবস্থাপনা
পান্তায় ইলিশের বদলে পাঙাশ-কোরাল, প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও
মেঘনাপাড়ের জেলে ইউনুস ও আব্দুল আউয়াল জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবছর জাটকা রক্ষা অভিযান নেই বললেই চলে। কারেন্ট জালসহ জেলেরা বিভিন্ন জাল দিয়ে নদীতে মাছ ধরছেন।’
‘আজকের জাটকা আগামী দিনের বড় ইলিশ। নির্বিচারে নদীতে জাটকা ধরলে আগামীতে ইলিশ উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এভাবে জাটকা নিধন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ইলিশ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে’—ইলিশ গবেষক
তিনি বলেন, ‘আগে স্পিডবোট দিয়ে টহল দিলেও এখন আসে না। নদীর সব জাটকা এবছর ধরা হয়ে গেছে। আমরা যারা বড় জাল দিয়ে মাছ ধরি, মনে হয় না সামনে ইলিশ পাবো। এ বিষয়ে সরকারের নজরদারি আরও বাড়ানো দরকার।’
ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘আজকের জাটকা আগামী দিনের বড় ইলিশ। নির্বিচারে নদীতে জাটকা ধরলে আগামীতে ইলিশ উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এভাবে জাটকা নিধন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ইলিশ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।’
প্রকাশ্যেই জাটকা শিকার করছেন জেলেরা/ছবি-জাগো নিউজ
তিনি বলেন, ‘এখন ইলিশ রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। জাটকার ৭০-৮০ শতাংশ রক্ষা করা গেলে দেশে ইলিশ উৎপাদন প্রায় ছয় লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা সম্ভব হবে।’
জাটকা রক্ষায় মৎস্য বিভাগ, কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশের সমন্বয়ে নদীতে টহল অব্যাহত রয়েছে বলে জানান চাঁদপুর সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক।
তিনি বলেন, মৎস্য বিভাগ থেকে পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গত এক মাসে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ১৪০ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। এসময় বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের ইলিশ সম্পদ রক্ষায় জাটকা সংরক্ষণে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ বিষয়ে আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা হয়েছে।
এসআর/জেআইএম
What's Your Reaction?