নবীজির স্মৃতিধন্য মদিনায়: এক অন্যরকম আত্মোপলব্ধি
কাজী মনজুর করিম মিতুল, প্রকৌশলী ও প্রাবন্ধিক নামাজ পড়ার সময় আমার একটা নতুন উপলব্ধি হলো। সারাজীবন নামাজ পড়ার সময় মনে হয়েছে, আমি একটা দায়িত্ব পালন করছি, অনেকটা চাকরি করার মতো। কিন্তু এবার মনে হলো, আমি কিছু চাইতে এসেছি, দুর্লভ বা দুষ্প্রাপ্য কিছু পাওয়ার আশায় আমি এখানে সিজদা করছি, এই ইবাদাতে কোন ফাঁকি দেওয়া যাবে না, কোনো তাড়াহুড়া করা যাবে না। এখানে তাওবা কবুল হওয়ার ও দোয়া কবুল হওয়ার কিছু বিশেষ স্থান আছে। সেখানে ইবাদত করার সুযোগ পাওয়া মানে যেন হাতের কাছে জান্নাতের চাবি পাওয়া। আমরা অনেকেই এসব স্থানে আসি, কিন্তু জান্নাতের চাবি পাই না, পেলেও তা আবার স্বাভাবিক জীবনের গতানুগতিকতায় ফিরে যাবার পর হারিয়ে ফেলি। ভুলে যাই তাওবার কথা, ক্ষমা প্রার্থনার সেই প্রতিশ্রুতি আমরা বিস্মৃত হই বার বার। শুক্রবার জুমার সময় দেখেছি মানুষ কত আগে এসে বসে থাকে এই মর্যাদাময়, মহিমান্বিত স্থানে নামাজ পড়ার জন্য। সবার মনে একটাই আশা, এই সুযোগ যেন হেলায় না হারায়। জান্নাতুল বাক্বী আছে পাশেই। সেখানে সমাধিস্থ আছেন আল্লাহর অনেক প্রিয় বান্দা। সেইসব কবর জিয়ারত করাও এক পরম সৌভাগ্য। শনিবার সকালে আমাদের হজ্জ এজেন্সির পক্ষ থেকে মদিনার
কাজী মনজুর করিম মিতুল, প্রকৌশলী ও প্রাবন্ধিক
নামাজ পড়ার সময় আমার একটা নতুন উপলব্ধি হলো। সারাজীবন নামাজ পড়ার সময় মনে হয়েছে, আমি একটা দায়িত্ব পালন করছি, অনেকটা চাকরি করার মতো। কিন্তু এবার মনে হলো, আমি কিছু চাইতে এসেছি, দুর্লভ বা দুষ্প্রাপ্য কিছু পাওয়ার আশায় আমি এখানে সিজদা করছি, এই ইবাদাতে কোন ফাঁকি দেওয়া যাবে না, কোনো তাড়াহুড়া করা যাবে না।
এখানে তাওবা কবুল হওয়ার ও দোয়া কবুল হওয়ার কিছু বিশেষ স্থান আছে। সেখানে ইবাদত করার সুযোগ পাওয়া মানে যেন হাতের কাছে জান্নাতের চাবি পাওয়া। আমরা অনেকেই এসব স্থানে আসি, কিন্তু জান্নাতের চাবি পাই না, পেলেও তা আবার স্বাভাবিক জীবনের গতানুগতিকতায় ফিরে যাবার পর হারিয়ে ফেলি। ভুলে যাই তাওবার কথা, ক্ষমা প্রার্থনার সেই প্রতিশ্রুতি আমরা বিস্মৃত হই বার বার।
শুক্রবার জুমার সময় দেখেছি মানুষ কত আগে এসে বসে থাকে এই মর্যাদাময়, মহিমান্বিত স্থানে নামাজ পড়ার জন্য। সবার মনে একটাই আশা, এই সুযোগ যেন হেলায় না হারায়। জান্নাতুল বাক্বী আছে পাশেই। সেখানে সমাধিস্থ আছেন আল্লাহর অনেক প্রিয় বান্দা। সেইসব কবর জিয়ারত করাও এক পরম সৌভাগ্য।
শনিবার সকালে আমাদের হজ্জ এজেন্সির পক্ষ থেকে মদিনার দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনে নেওয়া হলো। সেই সুবাদে নামাজ পড়ার সুযোগ পেলাম ইসলামের প্রথম মাসজিদে (কুবা), দেখার সৌভাগ্য হলো ঐতিহাসিক খন্দকের যুদ্ধের ময়দান, উহুদ পাহাড় (যেখানে শায়িত আছেন ৭০ জন শহীদ সাহাবী) ও দুই কেবলার মসজিদ (বায়তুল কিবলাতাইন) পরিদর্শন করার।
হাদিসে এসেছে, মাসজিদে কুবায় দুই রাকাত নফল নামাজ একটি নফল উমরাহের সমতূল্য। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) শনিবার সকালে এই মসজিদে নামাজ পড়তে যেতেন। আর বায়তুল কিবলাতাইন হলো সেই মাসজিদ, যেখানে ২য় হিজরীতে রাসূল (সা:) নামাজরত অবস্থায় মুসলমানদের কিবলা বায়তুল মুকাদ্দাসের (ফিলিস্তিন) পরিবর্তে বায়তুল ক্বাবা (মক্কা)-য় নির্ধারণ করে ওহী নাজিল হয়, ফলে নামাজের প্রথম দুই রাকয়াত ফিলিস্তিনের দিকে ও পরের দুই রাকয়াত মক্কার দিকে ফিরে পড়িয়েছিলেন মহানবী (সা:)।
আর উহুদ তো সেই পাহাড়, আমাদের প্রিয় নবীজি যেখানে যুদ্ধ করতে এসে দাঁত হারিয়েছিলেন। উহুদ সেই পাহাড়, যা জান্নাতে যাবে। উহুদ সেই পাহাড়, যাকে নেকি পরিমাপের একক হিসেবে হাদিসে এসেছে।
আমি অতীতে অনেক সফর করেছি, কিছু কিছু ভ্রমণ কাহিনি ছাপা হয়েছে, যা ছিল নিছক আনন্দ ভ্রমণ বা অফিসের কাজে ভ্রমণের গল্প। কিন্তু হজ এমন একটি যাত্রা, যা শুধু ভ্রমণ নয়। এই যাত্রা অর্থ ব্যয় আর কায়িক শ্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই যাত্রায় ধৈর্য, সহ্যশক্তি আর আত্নার পরিশুদ্ধতার মধ্য দিয়ে একজন মুসলমান তার রূপান্তরের সূচনা করেন।
সে রূপান্তর বাহ্যিক যতটা, আভ্যন্তরীণ তার চেয়ে অনেক বেশি। সবচেয়ে ভালো লাগছিল যখন অনেক তরুণ হাজি দেখছিলাম। আর বৃদ্ধ মানুষদের কষ্ট দেখে বুক ফেটে যাচ্ছিল। আমার এই লেখার উদ্দেশ্য তাই ভিন্ন। আমার লেখা পড়ে কেউ যদি যৌবন বয়সে হজের প্রস্তুতি নেন, তাহলে আমার এই প্রয়াস সার্থক হবে।
চলবে...
এমআরএম
What's Your Reaction?