ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, নব্য ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠা একটি দল ক্ষমতায় যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের স্পিড ভুলে ভারতের প্রেসক্রিপশনে চলা শুরু করেছে। অতিরঞ্জিত করলে দেশপ্রেমিক ছাত্রজনতা তাদেরও রুখে দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
বুধবার (২ এপ্রিল) বিকেলে নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা মাঠে ছাত্রশিবির আয়োজিত ঈদপ্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। কিন্তু কেউ এ স্পিডকে ভুলে গিয়ে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে ক্ষমতা লোভী হয়ে নব্য ফ্যাসিবাদী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তারা ভারতের প্রেসক্রিপশনে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে তা কখনো সফল হবে না।
ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় এ নেতা বলেন, গত বছর শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইফতারের আয়োজন করেছিল ছাত্রশিবির। সেটি প্রশাসন নিষিদ্ধ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইফতারের আয়োজন করলে শিবির নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করা হয়েছিল। সে দিনের ইফতার নিষিদ্ধের মধ্যদিয়ে গণঅভ্যুত্থানের স্পিড তৈরি হয়েছিল। বিগত আওয়ামী শাসনের ঈদ আর আজকের ঈদের মধ্যে পার্থক্য সেই স্পিডের প্রমাণ।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, যাদের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে মুক্ত বাংলাদেশে কথা বলছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, সেই শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা মেনে নেওয়া হবে না। আর ছাত্রজনতার স্পিড না বুঝলে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতনের চাইতেও কঠিন ভাগ্যবরণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে নোয়াখালী জেলা দক্ষিণ ছাত্র শিবিরের সভাপতি হাফেজ সাইফুর রসুল ফুয়াদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মিছবাহুল আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে আমির অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসাইন, সেক্রেটারি মিজানুর রহমান, বসুরহাট পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, সেক্রেটারি মাওলানা হেলাল উদ্দিন, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ শাহেদী, মাদরাসা কার্যক্রম বিষয়ক সম্পাদক আলা উদ্দিন আবির, জেলা ছাত্রশিবির দক্ষিণের অফিস সম্পাদক গোলাম আজম টিপু, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি শাকিল হোসেন সম্রাট প্রমুখ।
এর আগে ২০১৩ সালে ১৪ ডিসেম্বর নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত জামায়াত-শিবিরের সাত নেতাকর্মীর কবর জিয়ারত ও শহীদ পরিবারগুলোর খোঁজ খবর নেন ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
ইকবাল হোসেন মজনু/আরএইচ/এমএস